July 07, 2026

কালো জাদুর প্রভাবে মানসিক ভারসাম্যহীনতা ঘটলে বা সব কিছু ভুলে গেলে সে ব্যাপারে ইসলামের বিধান

 কালো জাদুর প্রভাবে মানসিক ভারসাম্যহীনতা ঘটলে বা সব কিছু ভুলে গেলে সে ব্যাপারে ইসলামের বিধান এবং ভুৃলে যাওয়ার চিকিৎসা ও কিছু পরামর্শ:

প্রশ্ন: কোনও মানুষের ওপর যদি কালো জাদু করা হয়ে থাকে এবং সেই মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পায় তাহলে তার সালাত-রোজার বিধান কী? আর তার যেন আগের সবকিছু মনে পড়ে, সেজন্য কি তার কোনও আমল রয়েছে? এমন অবস্থায় সে মারা গেলে তার পরিণতি কী হবে?
উত্তর: আল্লাহর নিকট তার সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অতঃপর— কালো জাদু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যদি কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন বা উন্মাদ হয়ে যায় তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে তার ওপর সালাত, সিয়াম ইত্যাদি ইসলামি বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে না, যতদিন না সে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কারণ পাগল বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ব্যাপারে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ
“তিন শ্রেণির মানুষের ওপর থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়; শিশু, যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়; এবং পাগল, যতক্ষণ না সে সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন হয়।” [সহিহ আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪৩৯৯]
তবে যদি মানসিক দিক থেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে কিন্তু পেছনের কথাবার্তা ভুলে যাওয়ার কারণে সালাত বা সিয়াম আদায় করেছে কি না তা স্মরণ করতে না পারে তাহলে ইনশাআল্লাহ এতে গুনাহ হবে না—কারণ সে মা’যুর (ওজর গ্রস্ত)। তবে যখনই স্মরণ হবে তখনই তা কাজা আদায় করে নেবে। কিন্তু তার নিকটে যারা থাকে তাদের কর্তব্য তাকে সালাত/সিয়ামের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
এই সমস্যার সমাধানে দ্রুত শরিয়তসম্মত রুকইয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
🔹সবকিছু ভুলে যাওয়ার প্রবণতা ও এর চিকিৎসা:
সবকিছু ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বা অতিরিক্ত মাত্রায় স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অ্যামনেসিয়া (Amnesia) বা সাধারণ ভাষায় স্মৃতিভ্রংশ বলা হয়। তবে এটি নিজে কোনও একক রোগ নয়, বরং অন্য কোনও শারীরিক বা মানসিক সমস্যার একটি বড় লক্ষণ।
বয়সের কারণে কিছুটা ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু কেউ যদি সবকিছু বা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পূর্ণ ভুলে যেতে শুরু করে, তবে সেটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।
🔹 এটি কি রোগ?
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ভুলে যাওয়া মূলত একটি বড় উপসর্গ বা লক্ষণ। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ বা রোগ দায়ী থাকতে পারে:
– সাধারণত বয়স্কদের ক্ষেত্রে (৬০ বছরের ঊর্ধ্বে) মস্তিষ্কের কোষ ক্ষয়ের কারণে এটি বেশি দেখা যায়। আলঝেইমার্স হলো ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ রূপ।
– অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, অবসাদ বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব সাময়িকভাবে মানুষের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।
– মাথায় বড় কোনও আঘাত লাগলে বা স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলে মানুষ স্মৃতিশক্তি হারাতে পারে।
– শরীরে ভিটামিন বি-১২ (Vitamin B12)-এর ঘাটতি হলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়।
– থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করলে (হাইপোথাইরয়েডিজম) অলসতা ও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
🔹 এর চিকিৎসা ও করণীয় কী?
ভুলে যাওয়ার সঠিক চিকিৎসা নির্ভর করে এর পেছনের মূল কারণের ওপর। তাই এ ধরনের সমস্যায় অবহেলা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
১. সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো একজন নিউরোলজিস্ট (Neurologist) বা সাইকিয়াট্রিস্ট (Psychiatrist) দেখানো। চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা (যেমন রক্ত পরীক্ষা, এমআরআই বা সিটি স্ক্যান) এবং কিছু মানসিক দক্ষতার পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হবেন সমস্যাটি কেন হচ্ছে। কারণ অনুযায়ী তারা ওষুধ বা থেরাপি নির্ধারণ করবেন।
২. পর্যাপ্ত ঘুম—মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে ও স্মৃতি ধরে রাখতে দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি। পুষ্টিকর খাবার—খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার (যেমন সামুদ্রিক মাছ বা বাদাম) ও ভিটামিন যুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজন। শারীরিক ব্যায়াম—নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, যা স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
৩. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করা যেতে পারে। যেমন নিয়মিত বই পড়া, ধাঁধা বা সুডোকু মেলানো, ডায়েরি লেখার অভ্যাস করা এবং নতুন কোনও দক্ষতা শেখার চেষ্টা করা।
৪. জরুরি কাজ, নাম বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট মনে রাখার জন্য নোটবুক, মোবাইল রিমাইন্ডার বা ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে।
সবকিছু ভুলে যাওয়ার এই সমস্যা যদি হঠাৎ শুরু হয় কিংবা সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে তবে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে যত দ্রুত সম্ভব একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
🔹আখিরাতে জাদুগ্রস্থ ব্যক্তির পরিণতি:
কোনও জাদুগ্রস্থ ব্যক্তি যদি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে অথবা ভুলে যাওয়ার কারণে তার নামাজ-রোজা ইত্যাদি কোনও ফরজ ইবাদত ছুটে যায় এবং এ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে তাহলে আশা করা যায়, মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। কারণ আল্লাহ মানুষের ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত কোনও ভার চাপিয়ে দেন না। কুরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারায় বলেন,
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
“আল্লাহ কোনও আত্মাকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।” [সূরা বাকারা: ২৮৬]
সূরা আরাফেও একই মর্মে বলা হয়েছে,
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
“আর যারা ইমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে—আমরা কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিই না—তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।” [সূরা আরাফ: ৪২]
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ
“নিশ্চয়ই দ্বীন অত্যন্ত সহজ।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯]
আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় আরও এসেছে, সূরা বাকারার ২৮৬ নম্বর আয়াত নাজিলের পর মুমিনগণ যখন দোয়া হিসেবে তা পাঠ করেন তখন আল্লাহ তায়ালা জবাবে বলেন,
نَعَمْ
“হ্যাঁ (আমি তোমাদের দোয়া কবুল করলাম এবং সাধ্যের অতিরিক্ত কোনও দায়িত্ব তোমাদের ওপর চাপালাম না)।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২৫]
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

কেউ ইসলাম ভঙ্গকারী কোনো কাজের মাধ্যমে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হলে সে কীভাবে পূণরায় ইসলামে ফিরে আসবে

 কেউ ইসলাম বা ইমান ভঙ্গকারী (নাওয়াকিজুল ইসলাম) কোনও কাজ করে ফেললে সে কীভাবে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসবে? নিম্নে এ বিষয়ে শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)-এর দেওয়া উত্তর পেশ করা হলো:

শাইখকে প্রশ্ন করা হয়, কেউ যদি ইসলাম ভঙ্গকারী কোনো কাজ (নাওয়াকিদুল ইসলাম) করে ফেলে তবে সে কীভাবে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসবে?
উত্তরে তিনি বলেন,
التَّوْبَةُ، بَابُ التَّوْبَةِ مَفْتُوحٌ، إِذَا وَقَعَ فِي نَاقِضٍ؛ فَعَلَيْهِ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الإِسْلَامِ بِالتَّوْبَةِ، يَنْدَمُ عَلَى الْمَاضِي، وَيَعْزِمُ أَلَّا يَعُودَ، وَيَتْرُكَ هَذَا النَّاقِضَ، فَإِذَا كَانَ كُفْرُهُ بِدُعَاءِ الْأَمْوَاتِ، وَالِاسْتِغَاثَةِ بِالْأَمْوَاتِ وَالْأَصْنَامِ؛ تَرَكَ ذَلِكَ، وَتَابَ إِلَى اللهِ مِنْ ذَلِكَ، وَبِهَذَا يَرْجِعُ إِلَى الإِسْلَامِ، إِلَّا إِذَا كَانَ كُفْرُهُ بِأَنَّهُ جَحَدَ وُجُوبَ الصَّلَاةِ؛ يُقِرُّ، يَقُولُ: لَا، أَنَا غَلْطَانُ، الصَّلَاةُ فَرْضٌ عَلَى الْمُكَلَّفِينَ، وَأَتُوبُ إِلَى اللهِ مِنْ ذَلِكَ، وَيَنْدَمُ، وَيُقْلِعُ، وَيَعْزِمُ أَلَّا يَعُودَ، يَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ، أَوْ كَانَ يَتْرُكُ الصَّلَاةَ لَا يُصَلِّي، فَالتَّوْبَةُ أَنْ يَفْعَلَ الصَّلَاةَ، وَيَنْدَمَ عَلَى الْمَاضِي، وَيَسْتَغْفِرَ مِمَّا مَضَى، وَيَعْزِمَ أَلَّا يَعُودَ فِيهِ، وَهَذِهِ التَّوْبَةُ. كَذَلِكَ إِذَا كَانَ كُفْرُهُ؛ لِأَنَّهُ يَقُولُ: الزِّنَا حَلَالٌ، فَإِذَا تَابَ وَقَالَ: لَا، الزِّنَا حَرَامٌ، وَأَنَا أَتُوبُ إِلَى اللهِ، وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ، وَقَدْ أَخْطَأْتُ، وَاللهُ يَعْلَمُ مِنْ قَلْبِهِ أَنَّهُ صَادِقٌ؛ يَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ، وَهَكَذَا
“তওবা করবে। তওবার দরজা সবসময় খোলা। কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো কাজে লিপ্ত হয় যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় তবে তাকে অবশ্যই তওবার মাধ্যমে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসতে হবে। এর অর্থ হলো:
– অতীতের কাজের জন্য মনে মনে লজ্জিত হওয়া।
– ভবিষ্যতে আর কখনোই এমন কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
– যে কাজটি কুফরির কারণ হয়েছিল তা অবিলম্বে বর্জন করা।
কিছু উদাহরণ:
যদি কেউ মৃত ব্যক্তি বা প্রতিমার কাছে বিপদ-আপদে সাহায্য প্রার্থনা করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হয় তবে তাকে তা ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। এভাবে সে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসবে।
যদি তার কুফরি এমন হয় যে, সে নামাজের ফরজ হওয়াকে অস্বীকার করেছিল তবে তাকে স্বীকার করতে হবে যে—‘না, আমার ভুল হয়েছে। নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর ফরজ এবং আমি এর জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করছি।’ এভাবে লজ্জিত হয়ে, নামাজ শুরু করার মাধ্যমে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো অস্বীকার না করার সংকল্প করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
একইভাবে কেউ যদি নামাজ ত্যাগ করে থাকে তবে তার তওবা হলো—অবিলম্বে নামাজ আদায় শুরু করা, অতীতের গাফিলতির জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
আর যদি কেউ এমন কথা বলে যে—‘ব্যভিচার (জিনা) হালাল’ তবে তাকে অবশ্যই বলতে হবে—‘না, ব্যভিচার হারাম। আমি আমার ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ আল্লাহ যদি তার অন্তরে সততা দেখেন তবে তিনি অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেবেন। [সূত্র: মাজমু ফাতাওয়া, শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত]
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

শিয়া রাফেজি আকিদার ওপর মৃত ব্যক্তির জানাজার সালাত ও তার জন্য দোয়ার হুকুম

 আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
​”সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো, যদি তোমরা না জানো।” [সুরা নাহল: ৪৩] এই আয়াতের আলোকে শিয়া-রাফিজিদের জানাজার সালাতে অংশগ্রহণ এবং তাদের জন্য দোয়া করা প্রসঙ্গে বিজ্ঞ আলেমদের কতিপয় ফতওয়া উপস্থাপন করা হল:
▪️১. ​ইমাম ইবনে বায (রহ.) বলেন,
​أَمَّا إِذَا كَانَتْ بِدْعَتُهُمْ تُوجِبُ كُفْرَهُمْ فَإِنَّهُ لَا يُصَلَّى عَلَيْهِمْ، وَلَا يُسْتَغْفَرُ لَهُمْ؛ كَالْجَهْمِيَّةِ وَالْمُعْتَزِلَةِ وَالرَّافِضَةِ الَّذِينَ يَدْعُونَ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، وَيَسْتَغِيثُونَ بِهِ وَبِأَهْلِ الْبَيْتِ وَأَشْبَاهِهِمْ لِقَوْلِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ فِي الْمُنَافِقِينَ وَأَشْبَاهِهِمْ: {وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰ أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَىٰ قَبْرِهِ ۖ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ}
​”যদি তাদের বিদআত তাদের কুফরির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তাদের জানাজার সালাত আদায় করা যাবে না এবং তাদের জন্য ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনাও করা যাবে না—যেমনটি জাহমিয়া, মুতাযিলা এবং রাফেজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যারা আলি (রা.)-কে ডাকে এবং তার ও আহলে বাইতের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুনাফিক ও তাদের সদৃশদের সম্পর্কে বলেছেন:
وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰ أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَىٰ قَبْرِهِ ۖ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ
“তাদের মধ্যে যে কেউ মারা যাক, তুমি কখনো তার জানাজার সালাত আদায় করো না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়িও না। নিশ্চয় তারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাথে কুফরি করেছে এবং তারা পাপিষ্ঠ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।” [মাজমু’উ ফাতওয়া ইবনে বায, ১৩/১৬১]
▪️২. ​ইমাম যাহাবি (রহ.) বলেন,
​قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: قُلْتُ لِأَبِي: مَنِ الرَّافِضِيُّ؟ قَالَ: الَّذِي يَشْتُمُ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَوْ يَتَعَرَّضُ لَهُمْ مَا أَرَاهُ عَلَى الْإِسْلَامِ
​”আব্দুল্লাহ ইবনুল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাফেজি কে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবিদের মধ্য থেকে কাউকে গালি দেয় অথবা তাদের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করে—আমি তাকে ইমানের ওপর আছে বলে মনে করি না।” [তারিখুল ইসলাম, তাহকিক তাদমুরি, ১৮/৮৯]
▪️৩. ​ইমাম বুখারি (রহ.) বলেন,
​«مَا أُبَالِي صَلَّيْتُ خَلْفَ الْجَهْمِيِّ أَوِ الرَّافِضِيِّ أَمْ صَلَّيْتُ خَلْفَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، وَلَا يُسَلَّمُ عَلَيْهِمْ، وَلَا يُعَادَوْنَ، وَلَا يُنَاكَحُونَ، وَلَا يَشْهَدُونَ، وَلَا تُؤْكَلُ ذَبَائِحُهُمْ» وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ: هُمَا مِلَّتَانِ: «الْجَهْمِيَّةُ، وَالرَّافِضِيَّةُ»
​”আমি পরোয়া করি না যে, আমি জাহমি বা রাফেজির পিছনে সালাত আদায় করলাম, নাকি ইহুদি-নাসারাদের পিছনে সালাত আদায় করলাম। তাদেরকে সালাম দেওয়া যাবে না, তাদের সাথে সাক্ষাৎ-সম্পর্ক রাখা যাবে না, তাদের সাথে বিবাহ দেওয়া যাবে না, তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাদের জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে না।
আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি বলেন: এরা দুটি (বিভ্রান্ত) দল—জাহমিয়া এবং রাফেজিয়া।”
[খালকু আফআলিল ইবাদ, ইমাম বুখারি, পৃ. ৩৫]
▪️৪. শাহিন ইবনুস সুমাইদা’ বলেন,
سَأَلْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ قُلْتُ: أُصَلِّي خَلْفَ الْجَهْمِ؟ قَالَ: لَا تُصَلِّ خَلْفَ الْجَهْمِيِّ وَلَا خَلْفَ الرَّافِضِيِّ
“আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি জাহমির পিছনে সালাত আদায় করব? তিনি বললেন: না, তুমি জাহমির পিছনেও সালাত আদায় করো না, রাফেজির পিছনেও না।” [ইবনে আবি ইয়ালা, তবাকাতুল হানাবিলা, ১/১৭২]
▪️৫. ​প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আলি ফারকুস বলেন,
​لِأَنَّ عَقِيدَةَ الرَّافِضَةِ تَتَضَمَّنُ تَكْفِيرَ عَامَّةِ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَكُلِّ مَنْ تَرَضَّى عَنْهُمْ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمْ، مَعَ اسْتِحْلَالِ دِمَائِهِمْ وَتَحْرِيمِ ذَبَائِحِهِمْ، وَادِّعَاءِ الْعِصْمَةِ فِي الْأَئِمَّةِ الْمَزْعُومِينَ وَوَصْفِهِمْ بِالصِّفَاتِ الْإِلَهِيَّةِ، وَاسْتِعْمَالِهِمُ التَّقِيَّةَ وَيَقْصِدُونَ بِهَا الْكَذِبَ دِينًا يَرْضَوْنَهُ، وَلَهُمْ تَفْسِيرَاتٌ بَاطِنِيَّةٌ لِلْقُرْآنِ الْكَرِيمِ، وَادِّعَائِهِمْ أَنَّ أَهْلَ الْبَيْتِ قَدْ خُصُّوا بِالْعُلُومِ وَالْأَسْرَارِ الَّتِي لَمْ يَطَّلِعْ عَلَيْهَا غَيْرُهُمْ، وَتَعْطِيلِهِمُ الْمَسَاجِدَ، وَبِنَاءَ مَا يُسَمُّونَهُ بِالْمَشَاهِدِ وَالْقُبُورِ وَتَعْظِيمَهَا أَكْثَرَ مِنَ الْمَسَاجِدِ، وَتَمْجِيدَهُمْ مَهْدِيَّهُمُ الْمُنْتَظَرَ وَجَعْلَ الْإِيمَانِ بِهِ رُكْنًا فِي الْإِيمَانِ، وَتَعْلِيقَ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ بِهِ وَلَوْ فِي مُخَالَفَةِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، هَذَا غَيْضٌ مِنْ فَيْضِ عَقِيدَةِ الرَّافِضَةِ
​”কেননা রাফেজিদের আকিদার মধ্যে রয়েছে—সকল মুহাজির ও আনসারকে এবং যারা তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে তাদের প্রত্যেককে কাফির আখ্যা দেওয়া। সাথে সাথে তাদের রক্ত হালাল মনে করা, তাদের জবাইকৃত পশুর গোশত হারাম মনে করা, তথাকথিত ইমামদের নিষ্পাপ দাবি করা, তাদেরকে আল্লাহর গুণাবলিতে গুণান্বিত করা, তাকিয়া ব্যবহার করা (যার মাধ্যমে তারা মিথ্যাকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে), কুরআনু কারিমের গোপন বাতেনি ব্যাখ্যা করা, আহলে বাইতকে এমন সব বিশেষ জ্ঞান ও রহস্যের অধিকারী দাবি করা যা অন্য কেউ জানে না। এছাড়া মসজিদগুলোকে অকার্যকর রাখা, মাশহাদ ও কবর নির্মাণ করে সেগুলোকে মসজিদের চেয়েও বেশি সম্মান করা, তাদের প্রতীক্ষিত মাহদির প্রতি অতিরিক্ত মর্যাদা আরোপ করে তার প্রতি ইমান আনাকে ইমানের রুকন বানানো এবং কুরআন-সুন্নাহর বিরোধিতা হলেও হালাল-হারামকে তার সাথে সম্পৃক্ত করা—এসব হলো রাফেজি আকিদার বিশাল সমুদ্রের একবিন্দু মাত্র।” [ফাতওয়া নং ৬৮৭]
৬. ​শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন,
​قَالَ الْبُخَارِيُّ صَاحِبُ الصَّحِيحِ فِي كِتَابِ “خَلْقِ الْأَفْعَالِ”: مَا أُبَالِي صَلَّيْتُ خَلْفَ الْجَهْمِيِّ أَوِ الرَّافِضِيِّ أَوْ صَلَّيْتُ خَلْفَ الْيَهُودِيِّ وَالنَّصْرَانِيِّ وَلَا يُسَلَّمُ عَلَيْهِمْ وَلَا يُعَادَوْنَ وَلَا يُنَاكَحُونَ وَلَا يَشْهَدُونَ وَلَا تُؤْكَلُ ذَبَائِحُهُمْ قَالَ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ: هُمَا مِلَّتَانِ فَاحْذَرُوهُمْ: الْجَهْمِيَّةُ وَالرَّافِضَةُ
​”সহিহ বুখারির রচয়িতা ইমাম বুখারি তাঁর ‘খালকুল আফআল’ গ্রন্থে বলেছেন: আমি পরোয়া করি না যে, আমি জাহমি বা রাফেজির পিছনে সালাত আদায় করলাম, নাকি ইহুদি-নাসারার পিছনে। তাদেরকে সালাম দেওয়া যাবে না, তাদের সাথে সাক্ষাৎ-সম্পর্ক রাখা যাবে না, তাদের সাথে বিবাহ দেওয়া যাবে না, তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাদের জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে না।
আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি বলেন: এরা দুটি (বিভ্রান্ত) দল—অতএব তোমরা এদের থেকে সতর্ক থাকো: জাহমিয়া এবং শিয়া রাফেজা।” [বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়া, ৩/৫২২]
​قَالَ الْبَرْبَهَارِيُّ: وَاعْلَمْ أَنَّ الْأَهْوَاءَ كُلَّهَا رَدِيَّةٌ تَدْعُو إِلَى السَّيْفِ وَأَرْدَؤُهَا وَأَكْفَرُهَا: الرَّافِضَةُ وَالْمُعْتَزِلَةُ وَالْجَهْمِيَّةُ فَإِنَّهُمْ يُرِيدُونَ النَّاسَ عَلَى التَّعْطِيلِ وَالزَّنْدَقَةِ
​”ইমাম বারবাহারি বলেন: জেনে রাখো, সকল প্রকার ভ্রান্ত প্রবৃত্তিই মন্দ এবং তা তরবারির (বিদ্রোহের) দিকে ডেকে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও কুফরির সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো—রাফেজা, মু’তাযিলা এবং জাহমিয়া। কেননা তারা মানুষকে (আল্লাহর গুণাবলি) অস্বীকার এবং যিন্দিকিয়াতের দিকে টেনে নিতে চায়।” [তবাকাতুল হানাবিলা, ২/৩৭]
▪️৭. ​শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) আরও বলেন,
​وَلِهَذَا كَانَتِ الشِّيعَةُ الْمُتَقَدِّمُونَ خَيْرًا مِنَ الْخَوَارِجِ الَّذِينَ قَاتَلَهُمْ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ بِأَمْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَمَّا كَثِيرٌ مِنْ مُتَأَخِّرِي الرَّافِضَةِ فَقَدْ صَارَ شَرًّا مِنَ الْخَوَارِجِ بِكَثِيرٍ بَلْ فِيهِمْ مَنْ هُوَ مِنْ أَعْظَمِ النَّاسِ نِفَاقًا بِمَنْزِلَةِ الْمُنَافِقِينَ الَّذِينَ كَانُوا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ فَوْقَهُمْ أَوْ دُونَهُمْ
​”এ কারণেই পূর্ববর্তী শিয়ারা খারিজিদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো ছিল—যাদের বিরুদ্ধে আমিরুল মুমিনিন আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালের অধিকাংশ রাফেজি খারিজিদের চেয়েও অনেক বেশি নিকৃষ্ট হয়ে গেছে, এমনকি তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা নিফাকের দিক থেকে চরম পর্যায়ের—রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগের মুনাফিকদের সমপর্যায়ের, অথবা তাদের চেয়েও উপরে কিংবা তাদের কাছাকাছি।” [বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়া ফি তাসিসি বিদাইহিমুল কালামিয়া, ৩/৫২১]
▪️৮. শিয়া রাফিজিদের পেছনে সালাত আদায় প্রসঙ্গে শাইখ ইবনে বায (রহ.)
​الشيخ: الشِّيعَةُ مِنْ أَخْبَثِ أَهْلِ الْبِدَعِ، وَشَرُّهُمُ الرَّافِضَةُ الْإِمَامِيَّةُ، فَإِنَّهُمْ ضِدُّ الْإِسْلَامِ وَضِدُّ أَصْحَابِ الرَّسُولِ ﷺ، فَهُمْ عِنْدَهُمْ مِنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ وَأَنْوَاعِ الشَّرِّ مَا لَيْسَ عِنْدَ غَيْرِهِمْ مِنْ سَبِّ الصَّحَابَةِ وَالْغُلُوِّ فِي عَلِيٍّ وَأَهْلِ الْبَيْتِ وَأَنْوَاعِ الشِّرْكِ بِاللَّهِ تَعَالَى
​
“শিয়ারা বিদআতিদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হলো রাফেজি ইমামিয়া সম্প্রদায়। তারা ইসলামের বিরোধী এবং রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবিদের বিরোধী। তাদের মধ্যে এমন সব শিরক, কুফরি এবং নানাবিধ মন্দ রয়েছে যা অন্য কারো মধ্যে নেই—যেমন সাহাবিদের গালি দেওয়া, আলি ও আহলে বাইতের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করা এবং আল্লাহ তাআলার সাথে বিভিন্ন প্রকার শিরক করা।
​
​প্রশ্নকারী: আমি একবার না জেনেই তাদের একটি মসজিদে সালাত আদায় করেছিলাম, আমার সালাত কি শুদ্ধ হয়েছে?
শাইখ উত্তরে বলেন,
​ صَلَاتُهُ غَيْرُ صَحِيحَةٍ إِذَا كَانَ إِمَامُ الْمَسْجِدِ مِنْهُمْ فَلَيْسَتْ صَحِيحَةً يُعِيدُهَا، الصَّلَاةُ خَلْفَ الْكَافِرِ لَا تَصِحُّ، إِنَّمَا تَصِحُّ خَلْفَ الْفَاسِقِ أَمَّا الْكَافِرُ لَا، هُمْ يَدْعُونَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيَسْتَغِيثُونَ بِعَلِيٍّ وَيَسْتَغِيثُونَ بِفَاطِمَةَ وَيَسْتَغِيثُونَ بِالْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ وَيَقُولُونَ أَنَّهُمْ يَعْلَمُونَ الْغَيْبَ يَسُبُّونَ الصَّحَابَةَ هُمْ مِنْ أَئِمَّةِ الْكُفْرِ
​’তার সালাত শুদ্ধ হয়নি। যদি মসজিদের ইমাম তাদের মধ্য থেকে হয়ে থাকে, তবে তা শুদ্ধ নয়—তাকে পুনরায় আদায় করতে হবে। কাফিরের পিছনে সালাত শুদ্ধ হয় না; বরং ফাসিকের পিছনে শুদ্ধ হয়, কাফিরের পিছনে নয়। তারা আহলে বাইতকে ডাকে এবং আলি, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইনের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, এবং বলে যে তারা গায়েব জানেন। তারা সাহাবিদের গালি দেয়—তারা কুফরের ইমাম। [ইবনে বায, শারহুল জাওয়াবিল কাফি, “গুনাহ বান্দাকে নিজেকে ভুলিয়ে দেয়” (পর্ব-০৪)
[উৎস: ‘ইমাম মোহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রহ.)’ ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

ইসলাম এবং প্রচলিত আইনে ই-সিগারেট বা ভ্যাপ ব্যবহারের বিধান

 ▪️ই-সিগারেটের উৎপত্তি ও পরিচয়:

ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক সিগারেট প্রথম ২০০৪ সালে চীনে উদ্ভাবিত হয়। এর গঠন ও স্পর্শ সাধারণ সিগারেটের মতোই। এতে একটি রিচার্জেবল লিথিয়াম ব্যাটারি থাকে, যা বিদ্যুৎ, কম্পিউটার বা গাড়ির চার্জারের মাধ্যমে চার্জ করা যায়। ব্যাটারির পাশাপাশি এতে একটি ক্যাপসুল থাকে, যার ভেতরে নিকোটিন, পানি এবং অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান ও সুগন্ধি মেশানো থাকে। এর কার্যপদ্ধতি হলো, ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে নিকোটিনযুক্ত তরলকে বাষ্পে রূপান্তর করে, যা ব্যবহারকারী শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণ করেন এবং মুখ বা নাক দিয়ে ধোঁয়া হিসেবে নির্গত করেন। সিগারেটের ডগায় থাকা ছোট একটি আলো আসল সিগারেটের জ্বলন্ত অঙ্গারের আবহ তৈরি করে, যা ব্যবহারকারীকে প্রকৃত ধূমপানের অনুভূতি দেয়।
সহজ কথায় বলতে গেলে, ভ্যাপ এবং ই-সিগারেট মূলত একই জিনিসের দুটি ভিন্ন নাম। ই-সিগারেট হলো এই প্রযুক্তির দাপ্তরিক বা প্রযুক্তিগত নাম, আর ভ্যাপিং ডিভাইস হিসেবে এটি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত। এর বিভিন্ন আকৃতি থাকলেও মূল গঠন ও কাজ করার পদ্ধতি একই। এগুলো মূলত ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, যা বাষ্প তৈরির মাধ্যমে শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রবেশ করায়।[Islamqa info]
▪️ই-সিগারেট সম্পর্কে ভুল ধারণা:
বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং হিটেড টোব্যাকো পণ্যের প্রচলন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনেক সময় ভুল তথ্যের প্রচার চালানো হয় যে, এটি সাধারণ সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর বা ধূমপান ছাড়ার সহায়ক। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং আইন — উভয় ক্ষেত্রেই এই ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও বিপজ্জনক হিসেবে প্রমাণিত।
▪️এই সিগারেটের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এবং ক্ষতিকর দিকসমূহ:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিকোটিনযুক্ত ই-সিগারেট কেবল আসক্তিই বাড়ায় না বরং এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। এই পণ্যগুলো বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানে তৈরি, যা ফুসফুস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ই-সিগারেট সাধারণ সিগারেটের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। এর ব্যবহারের ফলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং ফুসফুসের কোষের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া ই-সিগারেটের ব্যাটারি বিস্ফোরণে ব্যবহারকারীর মৃত্যুঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যারা তরুণ বয়সে ভ্যাপিং শুরু করেন, পরবর্তীতে তাদের সাধারণ সিগারেটে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ই-সিগারেটের নানা রঙ ও স্বাদের বিপণন কৌশল নারী ও শিশুদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
▪️ই-সিগারেট নিষিদ্ধ দেশে দেশে:
বিশ্বের অনেক দেশ, যেমন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এই সিগারেটের আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীরাও এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অনেক দেশ সাধারণ সিগারেটকে বৈধ রাখলেও ই-সিগারেটকে নিষিদ্ধ করেছে, যদিও সাধারণ সিগারেট প্রতি বছর বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ।
[সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো অনলাইন ভার্শন]
▪️দেশের প্রচলিত আইনে ম্যাপ বা ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ:
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার ই-সিগারেট ও ভ্যাপিংয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি সরকার ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে ই-সিগারেট, ইএনডিএস (ENDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ সব ধরনের বিকাশমান তামাকপণ্যকে নিষিদ্ধ করেছে। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সব ধরনের পাবলিক প্লেসে এসব দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। [ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’] [সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইন ভার্শন]
▪️ ই-সিগারেট ব্যবহারের ব্যাপারে ইসলামের বিধান:
ইসলামে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ
“আর তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৫]
যেহেতু ই-সিগারেট শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি আসক্তি সৃষ্টি করে, তাই ইসলামের আলোকে এটি অবশ্যই বর্জনীয়। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:
لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ
“নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না এবং অন্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।” [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩৪০]
ইসলামি আলেমগণের মতে, যে বস্তুর মাধ্যমে শরীরের ক্ষতি হয় এবং যা নেশা উদ্রেককারী, তার ব্যবহার হারাম। আলেমগণ এ বিষয়ে বলেন:
إِنَّ كُلَّ مَا يَضُرُّ بِالْبَدَنِ ضَرَرًا مُحَقَّقًا أَوْ غَالِبًا فَإِنَّهُ يَحْرُمُ تَعَاطِيهِ، وَالسِّيجَارَةُ الإِلِكْتِرُونِيَّةُ قَدْ ثَبَتَ طِبِّيًّا أَنَّهَا تَحْتَوِي عَلَى مَوَادَّ ضَارَّةٍ وَمُسَرطِنَةٍ، فَبِنَاءً عَلَيْهِ لَا يَجُوزُ شُرْبُهَا.
অর্থ: “শরীরের জন্য নিশ্চিত বা প্রবলভাবে ক্ষতিকর যেকোনো বস্তুর ব্যবহার হারাম। যেহেতু চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রমাণিত হয়েছে যে ই-সিগারেটে ক্ষতিকর ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে, তাই এটি ব্যবহার করা জায়েজ নয়।”
পরিশেষে, ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং কোনো নিরাপদ বিকল্প নয়, বরং এটি একটি আধুনিক ফাঁদ। শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা এবং দেশের আইন মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। নিজেদের এবং পরবর্তী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এই মরণ নেশা থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সব ধরনের হারাম ও ক্ষতিকর জিনিস থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।

আশুরার ফজিলত ও আমল বিষয়ে প্রচলিত ৫টি জাল হাদিস ও মুহাদ্দিসগণের সতর্কবার্তা

 আশুরার দিনটি মহিমান্বিত। কিন্তু এই দিনকে কেন্দ্র করে সমাজে কিছু অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন বর্ণনা প্রচলিত আছে, যা রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। দ্বীনের সুরক্ষা ও ধর্মের নামে মিথ্যাচার থেকে বাঁচতে নিচের বর্ণনাগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। নিম্নে সর্বসাধারণকে সতর্ক করার স্বার্থে আশুরা সংক্রান্ত পাঁচটি জাল বা বানোয়াট হাদিস উপস্থাপন করা হলো:

🔸 জাল হাদিস-১:
من صام يوم عاشوراء، كتب الله له عبادة ستين سنة، بصيامها وقيامها، ومن صام يوم عاشوراء، أعطي ثواب عشرة آلاف ملك…”
“যে ব্যক্তি আশুরার দিন রোজা রাখবে আল্লাহ তার জন্য ৬০ বছরের রোজা ও কেয়াম বা রাতের নকল নামাজের সওয়াব লিখে দেবেন…! তাকে ১০ হাজার ফেরেশতার সওয়াব দেওয়া হবে..!”
– ইমাম ইবনুল জাওযি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল মাওযুআত কিতাবে একে নিশ্চিত বানোয়াট বলেছেন।
– ইমাম সুয়ুতি একে ‘মওজু’ বা বানোয়াট আখ্যায়িত করেছেন।
– ইবনুল কাইয়্যিম আল জাওযিয়্যাহ জানান, এর বর্ণনাকারী ‘হাবিব বিন আবি হাবিব’ হাদিস জাল করার জন্য পরিচিত।
🔸জাল হাদিস-২:
من أحيا ليلة عاشوراء؛ فكأنما عبد الله مثل عبادة أهل السماوات السبع… ومن صلى، ومن اغتسل، ومن اكتحل، ومن مر يده على رأس اليتيم…”
“যে আশুরার রাত জেগে ইবাদত করল সে যেন সাত আসমানের অধিবাসীদের মতো ইবাদত করল…”
সেই সাথে এতে আরও যোগ করা হয়েছে:
“যে (আশুরার রাতে) সালাত আদায় করবে, গোসল করবে, সুরমা লাগাবে, এতিমের মাথায় হাত বুলাবে…”
ইমাম ইবনুল জাওযি বলেন, কোনো সুস্থ বুদ্ধির মানুষ একে বানোয়াট হওয়া নিয়ে সন্দেহ করবে না। এটি অসম্ভব সব দাবির সংমিশ্রণ।
🔸 জাল হাদিস-৩:
من اكتحل بالإثمد يوم عاشوراء لم يرمد أبدا.”
“যে ব্যক্তি আশুরার দিন সুরমা লাগাবে তার চোখে কখনো ব্যথা হবে না। (বা চক্ষু রোগে আক্রান্ত হবে না)”
প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগণ ইবনুল জাওযি ও সুয়ুতি একে বানোয়াট হাদিসের তালিকায় স্থান দিয়েছেন। অর্থাৎ এটিও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো বাণী নয়।
🔸জাল হাদিস-৪:
رآني رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى يدي صرد فقال: هذا أول طير صام عاشوراء.”
“রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার হাতে একটি পাখি দেখে বললেন, এটিই প্রথম পাখি যে আশুরার দিন রোজা রেখেছিল।”
হাদিস বিশারদগণের দৃষ্টিতে এই বর্ণনার সনদে অজ্ঞাত ও অবিশ্বস্ত ব্যক্তি রয়েছে।
সুতরাং এটি কোনোভাবেই সহিহ বা গ্রহণযোগ্য নয়।
🔸জাল হাদিস: ৫
من وسع على أهله يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته.”
“যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের ওপর খরচ বা খাবার প্রশস্ত করবে আল্লাহ সারা বছর তার ওপর প্রশস্ততা দান করবেন।”
ইমাম উকাইলিসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ একে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলেছেন। কারণ এর বর্ণনাকারী অজ্ঞাত এবং এই বর্ণনাটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়।
⚠️সতর্কবার্তা:
রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করল, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নিল।” [সহিহ বুখারি]।
সুতরাং জেনে-বুঝে মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্য ছাড়া এই সকল তথাকথিত হাদিস বর্ণনা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ।
▪️আশুরার দিনের প্রকৃত ফজিলত কী?
এটি হলো, মুসা (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর অনুসারী বনী ইসরাইলদের মুক্তির দিন যারা অত্যাচারী শাসক ফেরাউনের কবল থেকে এই দিন রক্ষা পেয়েছিলেন। সে কারণে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা হিসেবে তাঁরা এই দিনটি রোজা রাখতেন।
তারাই ধারাবাহিকতায় রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম) এবং সাহাবিগণ এই দিন রোজা রাখতেন।
এর বিশেষ মর্যাদার ব্যাপারে হাদিসে এসেছে যে, এটি বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
«… وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يكفر السنة التي قبله»
“আর আশুরার দিনের রোজা সম্পর্কে, আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, তা তার পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা (গুনাহ মোচনকারী) হবে।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৬২]
মহান আল্লাহ আমাদেরকে সহিহ সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার এবং ভিত্তিহীন বর্ণনা প্রচার থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

June 23, 2026

খেলোয়াড়দের ছবি-নাম ও ক্লাবের লোগোযুক্ত স্পোর্টস জার্সি কেনা-বেচার বিধান

 প্রশ্ন: আমি একজন স্পোর্টস পোশাকের খুচরা বিক্রেতা। বর্তমানে ইউরোপীয় ক্লাব ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নাম ও লোগোযুক্ত জার্সি পরার প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু ক্লাবের লোগোতে ক্রুশের চিহ্নও থাকে। এই পোশাকগুলো বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত পণ্য। আমরা দোকানদাররা এ নিয়ে বেশ বিব্রত—বিক্রি না করলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব, এমনকি দোকান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। কারণ অন্য দোকানগুলোতে এগুলো সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আমরা হালাল উপার্জনের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কী?

নিচের বিষয়গুলোতে শরিয়তের বিধান জানতে চাই:
১. ইউরোপীয় ক্লাবের জার্সি কেনা, বিক্রি করা ও পরার হুকুম কী? এই জার্সিতে খেলোয়াড়ের নাম লেখা থাকলে তা পরে নামাজ পড়া যাবে কি?
২. শুধু নম্বরযুক্ত (নামবিহীন) জার্সির হুকুম কী?
৩. নাম ও নম্বর কিছুই নেই—এমন ইউরোপীয় ক্লাবের জার্সি বিক্রির হুকুম কী?
৪. যে জার্সির লোগো থেকে ক্রুশচিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছে তা বিক্রির হুকুম কী?
৫. এটি কি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত বিষয় হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রত্যেকে নিজ নিয়তের ওপর দায়বদ্ধ থাকবে? এটি কি হারাম নাকি মাকরুহ?
৬. এই বিক্রয় জায়েজ না হলে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের করণীয় কী?
উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর।
🔸প্রথমত: আজকের যুগে ফুটবলের প্রতি মানুষের আসক্তি এবং খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলোর প্রতি একধরনের গভীর অনুরাগ ও তাজিম (সম্মান) যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা কারো অজানা নয়। জার্সি পরিধান, খেলোয়াড়দের নাম ও নম্বর ব্যবহার এবং তাদের অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ—সবই এই তীব্র আসক্তির বহিঃপ্রকাশ।
শায়খ যিয়াব আল গামিদি তাঁর “হাকিকাতু কুরাতিল কাদাম” গ্রন্থে ফুটবলের ক্ষতিকর দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। যারা এ খেলার নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানতে চান তারা গ্রন্থটি দেখতে পারেন।
🔸দ্বিতীয়ত: প্রশ্নে উল্লিখিত বিষয়টি আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের একটি বড় দিক। মুসলিমরা অমুসলিম বিবেকহীন ও বিশৃঙ্খল সমর্থকদের অন্ধ অনুকরণ করে ওই খেলা ও খেলোয়াড়দের প্রতি মুগ্ধতায় ডুবে আছে। অথচ খেলোয়াড়রা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সতর প্রকাশ করে এবং তাদের জীবনযাপন অশ্লীল ও ফাসেকিপূর্ণ, যা একজন মুসলিমের জন্য কাম্য নয়।
🔸তৃতীয়ত: কোনো মুসলিমের জন্য এমন পোশাক পরা বৈধ নয়, যাতে কাফের বা তাদের ক্লাবের প্রতি সম্মান বা তাজিম ফুটে ওঠে। তাই জার্সিতে খেলোয়াড়ের নাম, ক্লাবের নাম বা নম্বর থাকা অবস্থায় তা পরিধান করা জায়েজ নয়। একইভাবে কোনো খেলোয়াড়ের ছবি বা লোগো রাখা উচিত নয়।
▪️লাজনাহ দায়িমাহ (সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি)-এর আলেমগণ কাফেরদের লোগোবাহী পোশাকের বিষয়ে বলেন:
«الملابس التي تحمل شعارات الكفار فيها تفصيل كما يلي:
١. إن كانت هذه الشعارات ترمز إلى ديانات الكفار كالصليب، ونحوه: ففي هذه الحالة لا يجوز استيراد هذه الملابس، ولا بيعها، ولا لبسها.
٢. إن كانت هذه الشعارات ترمز إلى تعظيم أحدٍ من الكفار، بوضع صورته، أو كتابة اسمه، ونحو ذلك: فهي أيضاً حرام، كما سبق.
٣. إذا كانت هذه الشعارات لا ترمز إلى عبادة، ولا تعظيم شخص، وإنما هي علامات تجارية مباحة، وهي ما يسمى بـ “الماركات”: فلا بأس بها»
“কাফিরদের লোগোযুক্ত পোশাকের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
১. যদি এই লোগোগুলো কাফিরদের ধর্মের প্রতীক হয়—যেমন ক্রুশ বা তদ্রূপ কিছু—তাহলে এই পোশাক আমদানি করা, বিক্রি করা বা পরা কোনোটিই জায়েজ নেই।
২. যদি এই লোগোগুলো কোনো কাফিরকে সম্মান জানানোর প্রতীক হয়—যেমন তার ছবি রাখা বা তার নাম লেখা—তাহলে তা-ও হারাম।
৩. যদি লোগোটি কোনো ইবাদত বা ব্যক্তি-তাজিমের প্রতীক না হয়, বরং নিছক একটি বৈধ ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ড হয়—তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। [ফাতাওয়া আল লাজনাহ আদ দায়িমাহ, খণ্ড ২৪, পৃষ্ঠা ২৪-২৫]
▪️শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রহ.) খেলোয়াড়দের ছবিযুক্ত পণ্য সম্পর্কে বলেন:
«أرى أن هذه البضاعة التي عليها صور اللاعبين: تُهجر، وتقاطع؛ لأننا نسأل: ما فائدة الإسلام والمسلمين من بروز هذا اللاعب وظهوره على غيره؟ أعتقد أن كل إنسان سيكون جوابه بالنفي: لا فائدة من ذلك، فكيف نعلن عن أسماء هؤلاء، وننشر صورهم، وما أشبه ذلك؟! وكان الذي ينبغي أن يعدل عن هذا إلى مناصحة اللاعبين بالتزام الآداب الإسلامية: من ستر العورة، والمحافظة على الصلاة في الجماعة، وعدم التنافر فيما بينهم، وعدم التشاتم، وألا يستولي عليهم تعظيم الكافر إذا نجح في هذه اللعبة على غيره، هذا الذي ينفع. فأرى أن تهجر هذه البضاعة، وتقاطع»
“আমার মতে, খেলোয়াড়দের ছবিযুক্ত এই পণ্যগুলো বর্জন ও বয়কট করা উচিত। কারণ আমরা প্রশ্ন করতে পারি—এই খেলোয়াড়ের অন্যদের উপর বিজয়ী হওয়ায় ইসলাম ও মুসলিমদের কী উপকার হচ্ছে? সবার উত্তর হবে—কোনো উপকার নেই। তাহলে কেন আমরা তাদের নাম প্রচার করব এবং তাদের ছবি ছড়িয়ে দেব?! বরং উচিত হলো, খেলোয়াড়দের ইসলামি আদব মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া। তাই আমি মনে করি এই পণ্যগুলো বর্জন ও বয়কট করা উচিত।” [মাজমুউ ফাতাওয়া আশ শায়খ আল উসাইমিন, খণ্ড ১২, প্রশ্ন নং ২৫৮]
🔸চতুর্থত: খেলোয়াড়দের নাম বা ছবিযুক্ত জার্সি পরা হারাম হলেও কেউ ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত তা পরে নামাজ পড়লে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। তবে তা গুনাহের কাজ।
🔸পঞ্চমত:এই পোশাকের ব্যাপক প্রচলন এটিকে হালাল করে দেয় না।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ ۚ أُولَٰئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِّنْهُ ۖ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ۚ أُولَٰئِكَ حِزْبُ اللَّهِ ۚ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
“যারা আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের প্রতি ইমান রাখে, তাদের তুমি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরোধিতাকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবে না—তারা সেই বিরোধিতাকারীদের বাবা, সন্তান, ভাই বা গোত্রের লোক হলেও না। এরাই তারা যাদের অন্তরে আল্লাহ ইমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদের নিজ পক্ষ থেকে রুহ দিয়ে সাহায্য করেছেন। তিনি তাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নিচ দিয়ে নহর প্রবাহিত হয় তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এরাই আল্লাহর দল। জেনে রাখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।” [সুরা মুজাদালাহ: ২২]
▪️শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রহ.) বলেন:
«قد يكون هذا ليس من موالاة الكفار ظاهراً، لكن من فعله: فإن في قلبه من تعظيم الكفار ما ينافي الإيمان، أو كمال الإيمان، والواجب علينا نحن المسلمين أن نقاطع مثل هذه الألبسة وألا نشتريها؛ وفيما أحل الله لنا من الألبسة شيء كثير؛ لأننا إذا أخذنا بهذه الألبسة: صار فيها عزٌّ للكفار، حيث أصبحنا نفتخر أن تكون صورهم، أو أسماؤهم، ملبوساً لنا، هم يفتخرون بهذا، ويرون أن هذا من إعزازهم وإكرامهم. ثانياً: هم يسلبون أموالنا بهذه الألبسة، مصانعهم حامية، وجيوبنا منفتحة لبذل الدراهم لهم، وهذا خطأ»
“এটা প্রকাশ্য মুওয়ালাত (বন্ধুত্ব) না-ও হতে পারে। কিন্তু যে এটা করে তার অন্তরে কাফিরদের প্রতি এমন তাজিম (বিশাল ভালোবাসা পূর্ণ সম্মান) রয়েছে যা ইমানের পরিপন্থী। এই ধরনের পোশাক ব্যবহার করলে কাফিরদের সম্মান বাড়ে—আমরা তাদের ছবি বা নাম বুকে ধারণ করে গর্ব করছি। আর এই পোশাকের মাধ্যমে তারা আমাদের সম্পদ লুট করছে। এটা নিতান্তই ভুল। [আল-লিকাউশ শাহরি, খণ্ড ২, প্রশ্ন নং ১১]
সারসংক্ষেপ: খেলোয়াড়দের ছবি, নাম, ক্লাবের নাম বা লোগোযুক্ত স্পোর্টস জার্সি কেনা ও বিক্রি করা কোনোভাবেই জায়েজ নেই। বিক্রেতাদের উচিত এই ধরনের ব্যবসা পরিহার করে হালাল বিকল্পের দিকে মনোনিবেশ করা। আল্লাহ তাআলা সবাইকে হালাল উপার্জনের তওফিক দান করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম। সবচেয়ে ভালো জানেন। [সূত্র: Islamqa info]
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

June 18, 2026

কবরের আজাব মাফের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ হাদীস ও তার আমল

 কবরের শাস্তি থেকে বাচার সবগুলো হাদিস একত্রে দেওয়া হলো আশা করি নিজে আমল করবেন এবং অন্যকে উৎসাহিত করবেন। <<< যাদেরকে কবরের শাস্তি থেকে মুক্ত রাখা হবে >>> ১। প্রতিরাতে সুরাহ মুলক তিলায়াত করা (কুরআন দেখে দেখে বা মুখস্ত যে কোন ভাবেই হোক) রাসূল (সাঃ) বলেন : “যে ব্যাক্তি প্রত্যেক রাতে তাবারকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক (সুরাহ মূলক) পাঠ করবে এর মাধ্যমে মহিয়ান আল্লাহ্ তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবেন । সাহাবায়ি কিরাম বলেন , রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগে আমরা এ সুরাহ টিকে আল-মানি’আহ বলতাম । অর্থাৎ আমরা একে “কবরের আযাব থেকে প্রতিরোধকারী ” হিসেবে নামকরণ করেছিলাম । সুরাহ মূলক মহান আল্লাহ্র কিতাবের এমন একটি সুরাহ , যে ব্যাক্তি এটি প্রতি রাতেই পাঠ করে সে অধিক করলো এবং অতি উত্তম কাজ করলো ।” (নাসায়ী, সহীহ আত- তারগীব) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত । রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, সুরাহ মূলক (তিলাওয়াতকারীকে) কবরের আযাব থেকে প্রতিরোধকারী।’(সিলসিলাহ সহীহাহ) ২- প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা “আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা- আয়াত ২৫৫) পাঠ করবে, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাতবাসী হবে। (নাসায়ী, হাদীসটি সহীহ,আলবানী) [যে ব্যক্তি মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতবাসী হবে তার তোঁ কবরের আজাব, জাহান্নামের শাস্তি এগুলোর প্রশ্নই আসে না] যারা ৫ ওয়াক্ত সলাত আদায় করে এটা তাদের জন্য মহা সুসংবাদ আর যারা ৫ ওয়াক্ত সলাত আদায় করে না তাদের সম্পর্কে জেনে নিন রাসুল (সাঃ) কি বলেছেন- নবী (সাঃ) বলেনঃ কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সলাতের হিসাব হবে। যদি সলাত ঠিক হয় তবে তার সকল আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি সলাত বিনষ্ট হয় তবে তার সকল আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে। (তিরমিজি হাদিস সহিহ/২৭৮) তিনি আরও বলেনঃ আমাদের মাঝে আর অমুসলিমদের মাঝে চুক্তি হলো সলাত, যে ব্যক্তি সলাত ছেড়ে দিলো সে কাফের হয়ে যাবে। (মুসনাদে আহমাদ হাদিস সহিহ/ ২১৮৫৯) ### সকলের প্রতি অনুরোধ থাকলো আজ থেকেই ৫ অয়াক্ত সলাত আদায় করুন, না হলে পরিণাম বরই খারাপ। অতীতের যতো সলাত ছুটে গেছে তার জন্য আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা চান এখনই নইলে সময় হয়তো নাও পেতে পারেন ### ৩। সহিহ শুদ্ধ যিকির বেশি বেশি পাঠ করা- “জাবির (রাঃ) হতে নবী (সাঃ) সুত্রে বর্ণিত, “মহান আল্লাহ্র যিকিরের চাইতে অন্য কোন আমল কবরের আযাব থেকে অধিক নাজাতকারী নেই । জিজ্ঞেস করা হল , আল্লাহ্র পথে জিহাদও নয় কি ? তিনি (সাঃ) বললেন, আল্লাহ্র পথে জিহাদ ও নয় ,তবে কেউ এরূপ বীরত্তের সাথে লড়াই করে যে , তরবারী চালাতে চালাতে এক পর্যায়ে তা ভেঙ্গে যায় তার কথা ভিন্ন।” (ত্বাবারানী, সহীহ আত- তারগীব) ৪।আল্লাহ্র পথে বেশি বেশি দান করা “ওকবা ইবনু আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “নিশ্চয়ই দান কবরের শাস্তিকে মিটিয়ে দেয় এবং কিয়ামতের দিন মুমিন তার দানের ছায়াতলে ছায়া গ্রহণ করবে”। (সিলসিলাহ সহীহাহ) এই এক হাদিসেই দানের ২টি বিশাল ফযিলতের কথা বলা হয়েছে ১- কবরের শাস্তিকে মাফ করে দেওয়া ২- কিয়ামতের দিন বিশেষ ছায়াতলে স্থান পাওয়া। ### আপনারা ২ ভাবে দান করতে পারেন, ১- আপনি যে চাকরি বা বেবসা বা সৎপথে যেভাবেই উপার্জন করেন তার একটা নির্দিষ্ট persent দানের জন্য নির্ধারিত করুন হতে পারে আয়ের ৫% বা ১০% বা ২০% ইত্যাদি ২- অথবা প্রতিদিন কিছু টাঁকা আলাদা করে একটা জায়গায় জমা রাখুন, যখন অনেক টাঁকা হয়ে যাবে তখন সেটা গরিবদুঃখী, মিসকিন, অসহায় বিধবা মহিলা, অনাথ এতিম বা মসজিদে বা মাদ্রাসায় দান করুন এতে আপনি প্রতিদিনের দান করার সওয়াব পাবেন এবং অন্যরাও উপকৃত হবে। অবশ্য জমানো টাঁকা আবার নিজে খরচ করে ফেলবেন না যেহেতু আপনি আল্লাহ্র পথে দান করার নিয়তে এই টাঁকা জমিয়েছেন ### ৫। প্রশাব থেকে ভালো করে পবিত্র হওয়া অর্থাৎ প্রশাবের ছিটা যেন শরীরে না লাগে। রাসূল (সাঃ) বলেন : অধিকাংশ কবরের আজাব প্রসাবের কারণে হয়।(সহিহুল জামে) সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের সাবধান হতে হবে। আবার অতিরিক্ত সাবধানতার নামে বর্তমান পুরুষেরারা প্রসাব শেষে মানুষের সামনে দিয়ে কুলুখ লাগিয়ে হেটে বেড়ানোর যে নির্লজ্জতা করে থাকেন সেটা ত্যাগ করতে হবে। পানি থাকলে পানিই যথেষ্ট আর পানি না থাকলে কুলুখ ব্যাবহার করবেন। ২টা একসাথে ব্যাবহার করার দরকার নেই কেননা প্রসাব শেষে পানি এবং কুলুখ ২টাই ব্যাবহার করতে হবে এ মর্মে কোন সহিহ হাদিস তোঁ দূরে থাক কোন জাল জয়ীফ হাদিসও নেই। প্রসাব শেষে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তারপর পানি ব্যাবহার করুন তাহলে আর সমস্যা থাকবে না আর যদি সমস্যা থাকতোই তবে রাসুল (সাঃ) এবং তার সাহাবাদের থেকে ২টা একসাথে ব্যাবহার এবং হাঁটাহাঁটি করার প্রমাণ পাওয়া যেত। সুতরাং কারো মনগড়া কথায় কান দিবেন না। কেউ বললে তাকে প্রমাণ দেখাতে বলুন। ৬। জুম্মার দিনে বা রাতে মৃত্যুবরণ “আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন , “কোন মুসলমান যদি জুম’আর দিনে অথবা জুম’আর রাতে মারা যায়, তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ্ তাকে কবরের ফিৎনা হতে রক্ষা করবেন ”।(আহমাদ, হাদীস সহীহ , তাহক্বীক্বে মিশকাত) ### এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই কিন্তু আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালার কাছে চাইতে পারি তিনি যেন আমাদেরকে এই মহান দিনে মৃত্যু দান করেন ###

Translate