June 14, 2026

টেলিভিশনে কিংবা সরাসরি ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা কি জায়েজ

 প্রশ্ন: টেলিভিশনে কিংবা সরাসরি ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা কি জায়েজ? একটি গবেষণা ভিত্তিক পর্যালোচনা।

▬▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। অগণিত দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর যেসব ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচ সেটা বিশ্বকাপ হোক কিংবা পাড়ার মহল্লায় আয়োজিত কোনো ম্যাচ যেখানে শরীয়তবিরোধী আর্থিক লেনদেন, অবৈধ পুরস্কারব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য হারাম উপাদানের ভিত্তিতে পরিচালিত ও আয়োজন করা হয়। তাতে অংশগ্রহণ করা, সরাসরি মাঠে গিয়ে দেখা কিংবা টেলিভিশনে উপভোগ করা কোনোটিই জায়েজ নয়; কারণ এমন আয়োজন দেখা মানেই হলো পরোক্ষভাবে সেই নিষিদ্ধ কাজকে সমর্থন, প্রচার ও উৎসাহিত করা। ইসলামের স্পষ্ট নীতি অনুযায়ী যেকোনো পাপকাজে সহযোগিতা বা সহমত পোষণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মহান আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মায়েদাহর ২ নম্বর আয়াতে বলেন,وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ“তোমরা সৎকাজ ও তাকওয়ার বিষয়ে পরস্পরকে সহযোগিতা করো; কিন্তু পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।”[সূরা আল-মায়েদাহ: ২] সুতরাং,একজন সচেতন মুসলিমের দায়িত্ব হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বীনের বিধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব শরীয়তবিরোধী বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখা, বিশেষ করে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটবল ম্যাচগুলোর সঙ্গে এমন কিছু নিষিদ্ধ ও সতর্কতামূলক বিষয় জড়িত থাকে, যেগুলো একজন সচেতন মুসলিমের বিবেচনায় রাখা জরুরি:
(১).বর্তমান যুগে ফুটবলসহ অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কেবল মাঠের সাধারণ বিনোদনেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং স্পন্সরশিপ, কর্পোরেট পুঁজি এবং বিভিন্ন বেটিং অ্যাপের সমন্বয়ে তা আজ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল জুয়া ও অনৈতিক বাণিজ্যের শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। ক্রীড়াজগতের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও বৈশ্বিক আবেদনকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা বাজির সংস্কৃতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশ্বব্যাপী জুয়ার বাজারকে আরও বিস্তৃত, সক্রিয় এবং শক্তিশালী করে তুলছে।
.
(২).বর্তমান সময়ের অধিকাংশ ম্যাচ সম্প্রচারে এমন বহু বিষয় দেখা যায়, যা ইসলামী শালীনতা ও শরীয়তের নির্দেশনার পরিপন্থী। যেমন—খেলোয়াড়দের সতর (নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ) উন্মুক্ত থাকা, গ্যালারিতে নারী-পুরুষের অবাধ ও বেপর্দা মেলামেশা প্রদর্শন, খেলা চলাকালীন বা বিরতির সময় বাদ্যযন্ত্র, কুরুচিপূর্ণ সঙ্গীত এবং বিভিন্ন শরীয়তবিরোধী পণ্যের বিজ্ঞাপনের ব্যাপক প্রচার। এসব বিষয় ইসলামের নৈতিকতা, লজ্জাশীলতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত।
.
(৩).বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা নাজায়েজ হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, এটি অনেক মানুষের অন্তরে খেলোয়াড়দের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা, অন্ধ ভক্তি ও গভীর আসক্তির জন্ম দেয়। একপর্যায়ে এসব খেলোয়াড়ই তাদের কাছে আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়। অথচ একজন মুসলমানের সর্বোচ্চ আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ অমুসলিম কিংবা ইসলামি আদর্শ থেকে বিচ্যুত খেলোয়াড়দের পোশাক-পরিচ্ছদ, চুলের ধরন, অঙ্গভঙ্গি, উদযাপনের পদ্ধতি এবং জীবনযাত্রাকে গর্বের সঙ্গে অনুসরণ করতে শুরু করে। এর ফলে তাদের অন্তরে ধীরে ধীরে ইসলামি মূল্যবোধের পরিবর্তে খেলোয়াড় ও তারকাকেন্দ্রিক সংস্কৃতির প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং মুসলিম পরিচয়ের স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন হয়। তদুপরি, তারকাখ্যাত খেলোয়াড়দের প্রতি অতিরঞ্জিত ভালোবাসা ও আবেগ অনেক সময় এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তা ব্যক্তিপূজাসদৃশ মানসিকতার রূপ ধারণ করে এবং ‘আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা’ (মিত্রতা ও বৈরিতার আকিদা)-এর ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের আকিদাগত বিচ্যুতি, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষতির আশঙ্কার কারণেই অনেক আলেম বর্তমান বিশ্বকাপ খেলা না-জায়েজ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
.
(৪).এর পাশাপাশি, দ্বীনি কিংবা প্রকৃত দুনিয়াবী কল্যাণহীন দেড়-দুই ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ এসব ম্যাচ মানুষের মূল্যবান সময় অপচয় করার পাশাপাশি বিশেষত তরুণ সমাজের মধ্যে এক ধরনের মারাত্মক আসক্তির জন্ম দিচ্ছে। এই আসক্তির প্রভাবে অনেকেই জামায়াতে সালাত আদায়ে অবহেলা করছে, রাত জাগার কারণে ফজরের সালাত ছুটে যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও দূরে সরে যাচ্ছে।
.
সুতরাং বাস্তবতা যখন এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, তখন একজন মুসলিমের জন্য এসব অনর্থক ও ক্ষতিকর কাজে সময় ও মনোযোগ ব্যয় করা শোভনীয় নয়। বরং ক্ষণিকের বিনোদন ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ বয়ে আনে—এমন হালাল ও উপকারী কাজে আত্মনিয়োগ করাই একজন প্রজ্ঞাবান মুমিনের পথ। এ বিষয়ে আমাদের সম্মানিত আলেমদের ফাতওয়াগুলো লক্ষ্য করুন।
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণকে প্রশ্ন করা হয়েছিল:বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা দেখার হুকুম কী? জবাবে তারা বলেছেন:
مباريات كرة القدم التي على مال أو نحوه من جوائز حرام ؛ لكون ذلك قمارا ؛ لأنه لا يجوز أخذ السَّبَق وهو العوض إلا فيما أذن فيه الشرع ، وهو المسابقة على الخيل والإبل والرماية ، وعلى هذا فحضور المباريات حرام ، ومشاهدتها كذلك ، لمن علم أنها على عوض ؛ لأن في حضوره لها إقرارا لها .أما إذا كانت المباراة على غير عوض ، ولم تشغل عما أوجب الله من الصلاة وغيرها ، ولم تشتمل على محظور : ككشف العورات ، أو اختلاط النساء بالرجال ، أو وجود آلات لهو – فلا حرج فيها ولا في مشاهدتها”
“যেসব ফুটবল ম্যাচ অর্থ বা অনুরূপ কোনো পুরস্কারের বিনিময়ে অনুষ্ঠিত হয়, তা হারাম; কারণ তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। শরিয়ত যে প্রতিযোগিতাগুলোতে সাবাক্ব’ (السَّبَق) (প্রতিযোগিতার পুরস্কার বা বিনিময়) গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে, তা হলো ঘোড়দৌড়, উটদৌড়, তীরন্দাজির প্রতিযোগিতা। অতএব এ ধরনের ম্যাচে উপস্থিত হওয়া হারাম। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি জানে যে এগুলো পুরস্কার বা বিনিময়ের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তার জন্য সেগুলো দেখা-ও হারাম। কারণ তার উপস্থিতি এর প্রতি সমর্থন ও অনুমোদন প্রকাশ করার শামিল।তবে যদি প্রতিযোগিতাটি কোনো পুরস্কার বা বিনিময় ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়, এবং তা আল্লাহ কর্তৃক ওয়াজিবকৃত বিষয়—যেমন সালাত বা অন্যান্য দায়িত্ব থেকে বিরত না রাখে, এবং তার সাথে কোনো নিষিদ্ধ বিষয়ও যুক্ত না হয়; যেমন আওরাহ (লজ্জাস্থান) উন্মুক্ত হওয়া, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অথবা বাদ্যযন্ত্র ও আমোদ-প্রমোদের উপকরণের উপস্থিতি—তাহলে এ ধরনের প্রতিযোগিতায় কোনো অসুবিধা নেই এবং তা দেখাতেও কোনো অসুবিধা নেই।”—[“ফতোয়াটিতে স্বাক্ষর করেছেন সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বিশিষ্ট আলেমবৃন্দ—সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, ইমাম আব্দুল আযীয ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ), পরবর্তী গ্র্যান্ড মুফতি, শাইখ আব্দুল আযীয আলে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি, শাইখ সালিহ বিন ফাওযান আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) এবং শাইখ বকর আবু যায়েদ (রাহিমাহুল্লাহ)।[ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ১৫; পৃষ্ঠা: ২৩৮; ফতোয়া নং-২০২৪৯]
.
সৌদি ফতোয়া বোর্ড (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ) এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে জিবরীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪৩০ হি./২০০৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “একজন নারীর জন্য বিনোদন বা কোনো দলের সমর্থনের উদ্দেশ্যে খেলার ম্যাচ দেখা কি বৈধ?”
শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) উত্তরে বলেন:
“لا يجوز مشاهدة المباريات ، حيث إن اللاعبين رجال متجردون غالبًا عن اللباس الساتر ، وقد يبدو بعض الفخذ ، وقد تتمثل العورة وراء اللباس ، وذلك فتنة للنساء ، ولو كان القصد التسلية ففي الإمكان التسلي بالذكر والقرآن وكتب الحديث والفقه والأحكام”
“ম্যাচ দেখা জায়েজ নয়। কারণ খেলোয়াড়রা সাধারণত এমন পোশাক পরিধান করে থাকে যা শরীর পুরোপুরি আবৃত করে না। অনেক সময় উরুর কিছু অংশ প্রকাশিত হয়ে যায়। আবার কখনো পোশাক পরিহিত থাকা সত্ত্বেও শরীরের গঠন ও অবয়ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এসব বিষয় নারীদের জন্য ফিতনা ও প্রলোভনের কারণ হতে পারে। আর যদি উদ্দেশ্য কেবল বিনোদন হয়ে থাকে, তাহলে যিকির, কুরআন তেলাওয়াত, হাদিস, ফিকহ ও শরিয়তের বিধিবিধান সম্পর্কিত গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে বৈধভাবে বিনোদন ও সময় কাটানো সম্ভব।”—(শাইখ ইবনু জিবরীনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফতোয়া; গৃহীত ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১৪৬৮৪৪)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটবল খেলা দেখার বিধান কী? তিনি রাহিমাহুল্লাহ উত্তরে বলেন:
الذي أرى أن مشاهدة الألعاب التي تعرض في التلفاز أو في غيره من المشاهدات ، أنها مضيعة للوقت ، وأن الإنسان العاقل الحازم لا يضيع وقته بمثل هذه الأمور التي لا تعود عليه بفائدة إطلاقا .هذا إن سلمت من شر آخر ، فإن اقترن بها شر آخر بحيث يقوم في قلب المتفرج تعظيم اللاعب الكافر مثلا ، فإن هذا حرام بلا شك ، لأنه لا يجوز لنا أن نعظم الكفار أبدا مهما حصل لهم من التقدم فإنه لا يجوز لنا أن نعظمهم ، أو كانت هذه المباراة قد ظهرت فيها أفخاذ شباب يحصل بها فتنة ، فإن الراجح عندي أنه لا يجوز للشباب حين لعبهم بالكرة أن يخرجوا أفخاذهم ؛ لما في ذلك من الفتنة ، حتى على القول بأن الفخذ ليس بعورة ، فلا أرى أن الشاب يخرج فخذه أبدا ، أما إذا قلنا بأن الفخذ عورة كما هو المشهور من مذهب الإمام أحمد ، فالأمر في هذا واضح : أنه لا يجوز على كل حال .فالذي أنصح به إخواننا أن يحرصوا على أوقاتهم فإن الأوقات أغلى من الأموال
“আমার মতে,টেলিভিশন বা অন্য কোনো মাধ্যমে খেলাধুলা দেখা সময়ের অপচয়। একজন বুদ্ধিমান ও দৃঢ়চেতা মানুষের উচিত নয় এমন কাজে সময় ব্যয় করা, যা তার কোনো উপকারে আসে না। এটাও তখন, যখন এর সঙ্গে অন্য কোনো অনিষ্ট যুক্ত না থাকে। কিন্তু যদি এর সঙ্গে অন্য কোনো অনিষ্ট যুক্ত হয় যেমন দর্শকের মনে কোনো কাফির খেলোয়াড়ের প্রতি অতিরিক্ত শ্রদ্ধা ও মহত্ত্ববোধ জন্মায় তাহলে তা নিঃসন্দেহে হারাম। কারণ আমরা কোনো অবস্থাতেই কাফিরদের মহিমান্বিত করতে পারি না।এছাড়া যদি খেলায় তরুণদের উরু প্রকাশ পায় এবং তা ফিতনার কারণ হয়, তাহলে আমার মতে তাদের জন্য উরু খোলা রাখা বৈধ নয়। এমনকি যারা বলেন উরু আওরাহ নয়, তাদের মত অনুযায়ীও আমি মনে করি না যে কোনো যুবকের উরু প্রকাশ করা উচিত।সুতরাং আমি আমার মুসলিম ভাইদের উপদেশ দিচ্ছি, তারা যেন নিজেদের সময়ের মূল্য দেয়। কারণ সময় সম্পদের চেয়েও অধিক মূল্যবান।”(http://www.awda-dawa.com/pages.php?ID=3047

গৃহীত ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১৪৬৮৪৪)

.
এছাড়াও শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে আরও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: “ছোট প্যান্ট (হাফপ্যান্ট) পরে খেলাধুলা করার এবং যারা এমনটি করে তাদের খেলা দেখার বিধান কী? ​তিনি উত্তর দিয়েছিলেন:
” ممارسة الرياضة جائزة إذا لم تله عن شيء واجب ، فإن ألهت عن شيء واجب فإنها تكون حراماً ، وإن كانت ديدن الإنسان بحيث تكون غالب وقته فإنها مضيعة للوقت ، وأقل أحوالها في هذه الحال الكراهة . أما إذا كان الممارس للرياضة ليس عليه إلا سروال قصير يبدو منه فخذه أو أكثره فإنه لا يجوز ، فإن الصحيح أنه يجب على الشباب ستر أفخاذهم ، وأنه لا يجوز مشاهدة اللاعبين وهم بهذه الحالة من الكشف عن أفخاذهم ” ا
“খেলাধুলা করা জায়েয (বৈধ), যদি তা কোনো ওয়াজিব (আবশ্যিক) দায়িত্ব থেকে বিমুখ বা গাফেল না করে। আর যদি তা কোনো ওয়াজিব কাজ থেকে বিমুখ করে, তবে তা হারাম (নিষিদ্ধ)। আর যদি এটি মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়—যার ফলে তার সময়ের সিংহভাগ এতেই ব্যয় হয়—তবে তা সময়ের অপচয়; আর এই পরিস্থিতিতে এর সর্বনিম্ন বিধান হলো এটি ‘মাকরূহ’ (অপছন্দনীয়)।
পক্ষান্তরে, খেলাধুলাকারী ব্যক্তি যদি এমন ছোট প্যান্ট পরিহিত থাকে যার কারণে তার উরু বা উরুর অধিকাংশ অংশ প্রকাশ পেয়ে যায়, তবে তা জায়েয নয়। কারণ সঠিক মতানুযায়ী, যুবকদের জন্য তাদের উরু ঢেকে রাখা ওয়াজিব (আবশ্যিক)। আর খেলোয়াড়রা উরু উন্মুক্ত রাখা অবস্থায় তাদের খেলা দেখাও জায়েয নয়।”(সমাপ্ত—উদ্ধৃত: ‘ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ’, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৩১)
.
সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সা‘ঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অনুষদ সদস্য ও অধ্যাপক,আকিদা ও ফিকহের প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ‘আব্দুর রহমান বিন নাসির আল-বাররাক (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫২ হি./১৯৩৩ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল;প্রশ্ন: অমুসলিম বা কাফের দেশগুলোর ফুটবল ম্যাচ দেখার বিধান (হুকুম) কী?
জবাবে শাইখ হাফিজাহুল্লাহ বলেন:
نظّمة؛ كمباراة كأس العالم، أو كأس كذا، أو المبارايات التي تُقام بين البلدان والدول، كلّ هذه من الباطل، مشتمل على أنواع من الباطل، والله تعالى يقول في عباد الرحمن: وَٱلَّذِينَ لَا يَشهَدُونَ ٱلزُّورَ [الفرقان:72] هذا زور، نفْس اللعب، فاللعب اسمه “لعب”، اللعب للصبيان، هذا الأصل في لعب الكرة أنّها مِن أعمال الصبيان، ولكن تطوّرت حتى صارت علمًا وصارت عملًا معظّمًا !يكفي العاقل ما يجري من الغوغاء واللغو والصّياح والصّفير والتّصفيق والأعمال الجنونيّة عند الهزيمة أو النّصر، أيُّ نصر وأي هزيمة ! ولاسيما بالنسبة لعمل المسلمين مهزلة، كيف يمارسون هذه الأعمال ويفرحون بالنّصر في اللعب وتنكسر نفوسهم! أضف إلى هذا ما يُنفق عليها من الأموال الهائلة، هؤلاء اللاعبون من الكفار أو من المسلمين يتقاضون الأموال الطائلة، هذا عمل مناقض لموجب العقل والشرع، كيف تشاهدها أنت يا إنسان، يا رجل عاقل، ألّا تشمئز نفسكّ من مشاهدة هذا اللغو، سبحان الله، عجب!
“আমার মতে এটি জায়েয নয়। এই পরিচিত ও সংগঠিত খেলাগুলো দেখা জায়েয নয় যেমন বিশ্বকাপের খেলা, অমুক কাপের খেলা, কিংবা দেশ ও রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচসমূহ। এগুলো সবই বাতিল কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং বিভিন্ন ধরনের অসত্য ও অনর্থে পরিপূর্ণ।আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের গুণ বর্ণনা করে বলেছেন:”আর তারা মিথ্যা ও অসার কাজে উপস্থিত থাকে না।”(সূরা ফুরকান ৭২) এটাও (খেলাধুলাও) এক ধরনের অসত্য ও অনর্থক। কারণ এটি মূলত খেলা, আর খেলা তো শিশুদের কাজ। বল খেলা মূলত শিশুদের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একে এক ধরনের বিদ্যা ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, একজন বিবেকবান মানুষের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে এসব খেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের হইচই, অর্থহীন কথাবার্তা, চিৎকার-চেঁচামেচি, বাঁশি বাজানো, হাততালি দেওয়া এবং জয়-পরাজয়ের সময় উন্মত্ত আচরণগুলো দেখে। এটা কেমন বিজয়? আর কেমন পরাজয়? বিশেষ করে মুসলমানদের অবস্থা তো এক ধরনের প্রহসন। তারা এসব কাজে মেতে ওঠে, খেলায় জিতলে আনন্দে আত্মহারা হয়, আর হারলে তাদের মনোবল ভেঙে পড়ে, এর সঙ্গে আরও যোগ করুন যে, এসবের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়। এসব খেলোয়াড় তারা কাফির হোক বা মুসলিম অত্যন্ত বিপুল অর্থ গ্রহণ করে। এটি এমন একটি কাজ, যা সুস্থ বিবেক ও শরীয়তের দাবির পরিপন্থী। হে মানুষ হে বিবেকবান ব্যক্তি তুমি কীভাবে এসব খেলা দেখো? এসব অর্থহীন কর্মকাণ্ড দেখতে কি তোমার অন্তর বিরক্ত হয় না? সুবহানাল্লাহ সত্যিই বিস্ময়কর।”(https://shalbarrak.com/fatwas/3051)

(https://sh-albarrak.com/fatwas/13810)

.
সৌদি আরবের বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি,যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] ইমাম সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন: টিভিতে ফুটবল খেলা দেখার বিধান কী? উত্তরে শাইখ হাফিজাহুল্লাহ বলেন: «
يعني عندك فراغ! ما لك شغل إلا متابعة القدم ومدري وايش! المسلم وقته ثمين ما ينبغي أن يضيعه في المباريات والمسلسلات والأشياء الهابطة التي لا تفيده في دينه ولا في دنياه. يحفظ وقته فيما ينفعه وما يفيده. كونك تنام أحسن من كونك تشاهد المبارايات. تنام، ترتاح، تقوم تصلي آخر الليل، أحسن لك من أنك تشاهد شيىء ما فيه فائدة، ويؤخر عليك النوم، ويكسلك عن صلاة الفجر، نعم»
“এর মানে হচ্ছে আপনার হাতে (অতিরিক্ত) অবসর সময় আছে! ফুটবল খেলা বা এই জাতীয় জিনিসপত্র নিয়ে পড়ে থাকা ছাড়া যেন আপনার আর কোনো কাজই নেই! একজন মুসলমানের সময় অত্যন্ত মূল্যবান। ফুটবল খেলা, নাটক-সিরিয়াল বা এই ধরনের অহেতুক বিষয়ে সময় নষ্ট করা তার মোটেও সমচীন নয়, যা তার দ্বীন (ধর্ম) কিংবা দুনিয়া—কোনোটারই উপকারে আসে না।বরং তার উচিত নিজের সময়কে এমন কাজে নিয়োজিত রাখা যা তার জন্য কল্যাণকর এবং উপকারী।আপনার জন্য খেলা দেখার চেয়ে ঘুমিয়ে থাকাটাও অনেক ভালো। আপনি ঘুমাবেন, বিশ্রাম নেবেন, তারপর রাতের শেষভাগে (তাহাজ্জুদ) সালাত আদায়ের জন্য উঠবেন—এটি আপনার জন্য এমন কিছু দেখার চেয়ে অনেক উত্তম যাতে কোনো কল্যাণ নেই, যা আপনার ঘুমাতে দেরি করিয়ে দেয় এবং ফজরের সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে আপনাকে অলস করে তোলে।”(শাইখের অডিও ফতোয়া থেকে অনূদিত)
.
অপর এক ফাতওয়ায় শাইখ (হাফিযাহুল্লাহ)-কে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:প্রশ্ন: আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করুন, হে সম্মানিত শাইখ! এক প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—যেসব মানুষ কাফির রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন ক্রীড়া দলকে সমর্থন করে, তাদের ব্যাপারে আপনার দিকনির্দেশনা কী? পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তারা ঐ দলগুলোর পরাজয়ে গভীরভাবে মর্মাহত হয় এবং বিজয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হয়। শুধু তাই নয়, তাদের কেউ কেউ ঐসব কাফির দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কারণে নিজেদের মুসলিম ভাইদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলে, এমনকি শত্রুতায়ও জড়িয়ে পড়ে।আর যখন তাদেরকে নসীহত করা হয়, তখন তারা বলে, “আমরা তো কেবল খেলাকে এবং খেলোয়াড়দেরই সমর্থন করি।”এমন লোকদের ব্যাপারে আপনার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কী?
.
উত্তরে শাইখ হাফিজাহুল্লাহ বলেন;
«واللعب واللاعبين ايش الفائدة منه؟ هذا كله من العبث! أنك تشجع العبث وتشجع الهزل.ما يليق بالمؤمن أنه يشجع الهزل والعبث من المسلم فكيف بالكافر. هذا ترهات لا تجوز. نعم».
​”খেলাধুলা এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে কী ফায়দা (উপকার) আছে? এর পুরোটাই তো অনর্থক কাজের অন্তর্ভুক্ত!(খেলোয়াড়দের সমর্থন করা মানে) আপনি অনর্থক কাজকে সমর্থন করছেন এবং তামাশাকে উৎসাহিত করছেন। মুমিনের জন্য সংগত নয় যে সে কোনো মুসলমানের তামাশা ও অনর্থক কাজকে সমর্থন করবে, তাহলে কাফিরের ব্যাপারটা কেমন করে (বৈধ) হতে পারে? এগুলো অসার বিষয়, যা জায়েয নয়। হ্যাঁ।”(শাইখের অডিও ফতোয়া থেকে অনূদিত)
.
পরিশেষে বলা যায়, টেলিভিশনে বা সরাসরি মাঠে গিয়ে ফিফা বিশ্বকাপসহ যেকোনো ফুটবল ম্যাচ দেখা ইসলামের দৃষ্টিতে পরিহারযোগ্য। কারণ, আধুনিক যুগের এসব জমকালো ফুটবল আয়োজন কেবল সাধারণ বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর সাথে বিলিয়ন ডলারের জুয়া ও বাণিজ্যিক স্বার্থ, খেলোয়াড়দের সতর (নাভি থেকে হাঁটু) উন্মুক্ত থাকা, বাদ্যযন্ত্র ও বেপর্দা পরিবেশের মতো একাধিক শরীয়তবিরোধী উপাদান জড়িত। এছাড়া এটি মানুষের মূল্যবান সময় অপচয় করে এবং ফরজ সালাত ও দ্বীনি দায়িত্বের প্রতি উদাসীনতা ও আসক্তি তৈরি করে। সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ) এবং শাইখ ইবনে উসাইমীন ও শাইখ ইবনে জিবরীনের মতো শীর্ষস্থানীয় ফক্বীহ ও উলামাগণের ফতোয়া অনুযায়ী—যে খেলায় শরীয়ত নিষিদ্ধ বিষয় ও ফিতনার উপাদান বিদ্যমান থাকে, তা দেখা ও তাতে উপস্থিত হওয়া গুনাহের কাজ। সুতরাং, একজন সচেতন মুমিনের দায়িত্ব হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বীনের বিধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব অনর্থক ও ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থাকা এবং ইহকাল ও পরকালের কল্যাণকর কাজে নিজের সময়কে নিয়োজিত করা। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়ল: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায়: ওস্তায ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি সৌদি আরব।

নির্জনতা ও অনাবশ্যক স্পর্শ ছাড়া নারী সহকারীর উপস্থিতিতে একজন পুরুষ ডাক্তারের জন্য নারী রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা কি শরীয়তসম্মত

 প্রশ্ন: নির্জনতা (খালওয়াহ) ও অনাবশ্যক স্পর্শ ছাড়া, নারী সহকারীর উপস্থিতিতে একজন পুরুষ ডাক্তারের জন্য নারী রোগীর সমস্যা শোনা, তাকে দেখা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা কি শরীয়তসম্মত?

▬▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য।শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর প্রথমেই প্রশ্নকারী ডাক্তার ভাইকে ধন্যবাদ জানাই—বর্তমান সময়ে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসআলার শরয়ি বিধান জানার আগ্রহ প্রকাশ করার জন্য। আল্লাহ আমাদের সকলকে কথা ও কাজে সঠিক পথ ও তাওফিক দান করুন। ইসলাম মানবজীবনের মৌলিক প্রয়োজনসমূহের অন্যতম হিসেবে চিকিৎসার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ বৈধ; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা অপরিহার্যও হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও শরীয়ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা নির্ধারণ করেছে; যেমন—খালওয়াহ (নারী-পুরুষের নির্জন অবস্থান) পরিহার করা, দৃষ্টি ও স্পর্শকে প্রয়োজনের সীমায় আবদ্ধ রাখা এবং ফিতনার সম্ভাবনা থেকে দূরে থাকা। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি (ﷺ) বলেছেন,”কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে একত্র হলে শয়তান তাদের তৃতীয়জন হয়।” অন্য হাদীসে তিনি বলেন: “কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে না থাকে, তবে তার সাথে মাহরাম থাকতে হবে।” (সহীহ মুসলিম, হা/২৫১৩)। আরও এসেছে,“আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের ফিতনার চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা আমি রেখে যাইনি।” (সহীহ বুখারী হা/৪৮০৮; সহীহ মুসলিম, হা/৬৮৮১)।আমাদের সালাফগনও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সম্ভাব্য ফিতনার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাই মূলনীতি হলো—নারীদের চিকিৎসা নারী ডাক্তার এবং পুরুষদের চিকিৎসা পুরুষ ডাক্তার কর্তৃক সম্পন্ন হওয়া। তবে জরুরি প্রয়োজন,অক্ষমতা বা বিকল্পের অভাবে ভিন্ন লিঙ্গের ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া কখন অনুমোদিত সেটি পরিষ্কারভাবে বুঝার জন্য নিচে পুরো মাসআলাটি নিয়ে সংক্ষেপে কয়েকটি পয়েন্টে আলোচনা করা হলো:
.
প্রথমত: মূলনীতি হলো কোনো পুরুষ ডাক্তারের জন্য মহিলা রোগী দেখা জায়েজ নয়। কারণ চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীকে দেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং কখনো কখনো সংবেদনশীল বিষয় অবলোকন এবং রোগীকে স্পর্শ করার প্রয়োজন হতে পারে।তাই নারীদের চিকিৎসা নারী ডাক্তারাই করবেন।তবে যদি কোনো মুসলিম বা অমুসলিম নারী চিকিৎসক পাওয়া না যায়, কিংবা জরুরি ও বিশেষ প্রয়োজনে (যেমন: পুরুষ চিকিৎসক অধিক অভিজ্ঞ বা দক্ষ হলে) পুরুষ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে—তবে শরীয়তের শর্ত ও সীমারেখা মেনে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুর জন্য পুরুষ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েজ। এতে কোনো গুনাহ নেই।কারন আলেমগণের নিকট স্বতঃসিদ্ধ মূলনীতি হচ্ছে- ইসলামী শরিয়ত কল্যাণ সাধন কিংবা কল্যাণকে পরিপূর্ণতা দিতে এসেছে এবং অকল্যাণকে প্রতিহত করা কিংবা হ্রাস করার জন্য এসেছে। তাই বড় অকল্যাণকে দূর করার জন্য ছোট অকল্যাণে লিপ্ত হওয়া জায়েয।যেসব পেশায় চাকুরী করা নিষিদ্ধ কোন কোন আলেম সাধ্যানুযায়ী মন্দকে হ্রাস করার জন্য সেসব পেশায় চাকুরী করা জায়েয ফতোয়া দিয়ে থাকেন।যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ফতোয়া দিয়েছেন। তিনি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:فيمن يتولى الولايات ، ويُلزم بأخذ المكوس المحرمة من الناس ، لكنه يجتهد في العدل ورفع الظلم بحسب إمكانه ، ويخفف من المكوس ما استطاع ، ولو ترك الولاية لحل محله من يزيد معه الظلم ، فأفتى رحمه الله بأنه يجوز له البقاء في ولايته ، بل بقاؤه على ذلك أفضل من تركه ، إذا لم يشتغل بما هو أفضل منه ،”যে ব্যক্তিকে সরকারী কোন পদে নিয়োগ দিয়ে জনগণ থেকে মুকুস (হারাম ট্যাক্স) আদায়ে তাকে বাধ্য করা হয়, কিন্তু সে ব্যক্তি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা ও যুলমকে প্রতিহত করার ও যতদূর সম্ভব মুকুস (হারাম ট্যাক্স) কমানোর সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে। যদি তিনি এ পদ ছেড়ে দেন তাহলে এমন ব্যক্তি পদটি দখল করবে যে মানুষের উপর আরও বেশি যুলুম করবে। সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে তিনি ফতোয়া দেন যে, এমন ব্যক্তির জন্য এ পদে বহাল থাকা জায়েয। বরঞ্চ তার চেয়ে উত্তম কোন ব্যক্তি যদি পদটি গ্রহণ না করে তাহলে তার জন্য এ পদে বহাল থাকা পদ ছেড়ে দেয়ার চেয়ে উত্তম। তিনি বলেন:وقد يكون ذلك واجبا عليه إذا لم يقم به غيره قادرا عليه . فنشر العدل بحسب الإمكان ، ورفع الظلم بحسب الإمكان فرض على الكفاية ، يقوم كل إنسان بما يقدر عليه من ذلك إذا لم يقم غيره في ذلك مقامه …“কখনো কখনো এ পদে বহাল থাকা তার উপর ফরজও হতে পারে; যদি অন্য কেউ দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম না হয়। কারণ সাধ্যানুযায়ী ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা ও যুলুমকে প্রতিহত করা ফরজে কিফায়া। প্রত্যেক ব্যক্তি তার সক্ষমতা অনুযায়ী এ ফরজিয়ত আদায়ের চেষ্টা করবে; যদি তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ সে দায়িত্ব পালন না করে।”(ইবনু তাইমিয়া; মাজমুউল ফাতাওয়া; খণ্ড: ৩০; পৃষ্ঠা: ৩৫৬-৩৬০; থেকে সংকলিত] জ্ঞাতব্য হচ্ছে- মুকুস (হারাম ট্যাক্স) আদায় করা মারাত্মক হারাম। এটি কবিরা গুনাহ। কিন্তু একজন নেককার মুসলিমের এ পদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যে যেহেতু সাধ্যমত অকল্যাণকে হ্রাস করা ও সীমিত করার সুযোগ রয়েছে তাই তার জন্য এটি জায়েয হবে।
.
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) শাইখুল ইসলাম (রহঃ) এর একটি বাণীর উপর সংযোজন করতে গিয়ে বলেন: “والمصالح العامة يجب مراعاتها ، لو مثلا تركنا مسألة الطب ، وصار أهل الخير لا يتعلمون الطب ، قال : كيف أتعلم الطب وإلى جانبنا نساء ممرضات ومتعلمات ومطبقات لمعلومات؟ نقول : هل أنت إذا امتنعت عن هذا هل سيبقى الجو فارغا ؟ سيأتي أناس خبثاء يفسدون في الأرض بعد إصلاحها ، وأنت ربما إذا اجتمعت أنت والثاني والثالث والرابع ، ربما في يوم من الأيام يهدي الله ولاة الأمور ويجعلون النساء على حدة والرجال على حدة“সাধারণ কল্যাণকে রক্ষা করতে হবে। উদাহরণত: আমরা যদি ডাক্তারিবিদ্যা ছেড়ে দিতে বলি এবং ভাল লোকেরা ডাক্তারিবিদ্যা অর্জন না করে; বলে যে, আমরা কিভাবে চিকিৎসাবিদ্যা অর্জন করব; আমাদের পাশে থাকে মহিলা নার্স, শিক্ষার্থী, ইন্টার্নী ডাক্তার? আমরা বলব: আপনি যদি এ ডাক্তারিবিদ্যা অর্জন করা থেকে বিরত থাকেন তাহলে এ বিদ্যার ময়দান কি খালি থাকবে? অচিরেই খারাপ লোকগুলো এ ময়দান দখল করে নিবে এবং জমিনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিবে। বরং আপনারা একজন, দুইজন, তিনজন, চারজন যদি একত্রিত হন আশা করি এমন একদিন আসবে যেদিন আল্লাহ তাআলা রাষ্ট্রপ্রধানকে হেদায়েত দিবেন এবং তিনি মহিলাদের জন্য আলাদা ও পুরুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করবেন।”(শারহ কিতাবুস-সিয়াসা আল-শারইয়্যা, পৃষ্ঠা-১৪৯)
.
সুতরাং যেহেতু বাংলাদেশের হাসপাতালসমূহে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মিশ্রিত চিকিৎসা-পরিবেশ বিরাজমান এবং পৃথক চিকিৎসা-ব্যবস্থা খুবই সীমিত; তাই এ বাস্তবতায় পুরুষ চিকিৎসকের জন্য শরীয়তসম্মত নীতিমালা, প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও বৈধতার শর্তাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক।যেন চিকিৎসার প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পাশাপাশি শরীয়তের বিধিবিধানও সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম না হয়। অতএব, প্রয়োজন বা জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও বিধিনিষেধের অধীনে পুরুষ ডাক্তারের জন্য মহিলা রোগী দেখা বৈধ হতে পারে।
যেমন—
.
(১).নারী রোগীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করা: নারী রোগী দেখার ক্ষেত্রে পুরুষ ডাক্তারের জন্য নির্জনে অবস্থান করা বৈধ নয়। তাই রোগীর সাথে তাঁর কোনো মাহরাম—যেমন: স্বামী, বাবা বা ভাই—উপস্থিত থাকতে হবে। আর যদি মাহরাম উপস্থিত না থাকেন, তবে এমন কোনো বিশ্বস্ত নারী উপস্থিত থাকলেও যথেষ্ট, যার উপস্থিতিতে শালীনতা ও পর্দার পরিবেশ বজায় থাকে; যেমন রোগীর মা বা অন্য কোনো নারী সহকারী। কারণ এতে খলওয়াহ (নির্জন অবস্থান) দূর হয়ে যায়।
.
​(২).পুরুষ ডাক্তারের সামনে নারী রোগীর পূর্ণাঙ্গ পর্দা বজায় রাখা:অর্থাৎ চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলেও নন-মাহরাম নারী ও পুরুষের মাঝে শরীয়ত নির্ধারিত পর্দার বিধান যথাসম্ভব বজায় রাখা আবশ্যক। নারী রোগীর জন্য পুরুষ ডাক্তারের সামনে শালীনতা, লজ্জাশীলতা ও পরিপূর্ণ পর্দার নীতিমালা অনুসরণ করা ফরজ। চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনের কারণে যতটুকু ছাড় অনুমোদিত, তা কেবল প্রয়োজনের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে; এর বাইরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে শরীর প্রকাশ, সৌন্দর্য প্রদর্শন বা পর্দার বিধান শিথিল করা বৈধ নয়। সুতরাং চিকিৎসার সময়ও নারী ও পুরুষ উভয়ের কর্তব্য হলো—আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলা, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মাত্রায় পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা।
.
(৩).রোগীর শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশই দেখা:পুরুষ ডাক্তারের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজনে যতটুকু দেখা অপরিহার্য, ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে; এর অতিরিক্ত কোনো অংশের দিকে দৃষ্টি দেওয়া বৈধ নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের উচিত আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা, সর্বদা এ বিশ্বাস হৃদয়ে জাগ্রত রাখা যে, আল্লাহ তাকে দেখছেন এবং তাঁর সকল কর্মের হিসাব সংরক্ষণ করছেন।
.
(৪).রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রয়োজনেই ডাক্তার রোগীর শরীরের যে অংশ পরীক্ষা করা অপরিহার্য, কেবল সেই পরিমাণই স্পর্শ করা বৈধ; এর বাইরে অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় স্পর্শ সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। আর যদি সরাসরি স্পর্শ ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়—যেমন কোনো মহিলা রোগীকে অন্য কোনো মহিলার সহায়তায় পরীক্ষা করা, অথবা পুরুষ ডাক্তার দস্তানা (গ্লাভস), কাপড় কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত আবরণ ব্যবহার করে পরীক্ষা করতে পারেন—তাহলে সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করা আবশ্যক। কেননা, এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো প্রয়োজনকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা এবং যথাসম্ভব সরাসরি স্পর্শ এড়িয়ে চলা।
.
​(৫).নারী রোগীর সাথে কথাবার্তা কেবল প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা:অর্থাৎ,পুরুষ ডাক্তারের জন্য নারী রোগীর সাথে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর ও কথাবার্তা শুধুমাত্র রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল তথ্য জানার পরিমাণেই সীমাবদ্ধ থাকবে। চিকিৎসাগত প্রয়োজন ব্যতীত অপ্রয়োজনীয়, দীর্ঘ, ব্যক্তিগত, হাসি-তামাশাপূর্ণ বা অতিরিক্ত আলাপচারিতা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। শরয়ি শালীনতা, পেশাগত সৌজন্য ও প্রয়োজনের নীতিমালা বজায় রেখেই যোগাযোগ করতে হবে। অতএব কোনো ডাক্তার যদি এই বিষয়গুলো মেনে চলেন, তবে প্রয়োজনবশত তাঁর জন্য নারী রোগীদের চিকিৎসা করায় কোনো অসুবিধা নেই।
.
এ বিষয়ে ‘ইসলামী ফিকাহ একাডেমি’ থেকে একটি সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে রয়েছে:” الأصل أنه إذا توافرت طبيبة متخصصة يجب أن تقوم بالكشف على المريضة ، وإذا لم يتوافر ذلك فتقوم بذلك طبيبة غير مسلمة ثقة ، فإن لم يتوافر ذلك يقوم به طبيب مسلم ، وإن لم يتوافر طبيب مسلم يمكن أن يقوم مقامه طبيب غير مسلم ، على أن يطّلع من جسم المرأة على قدر الحاجة في تشخيص المرض ومداواته وألا يزيد عن ذلك وأن يغض الطرف قدر استطاعته ، وأن تتم معالجة الطبيب للمرأة هذه بحضور محرم أو زوج أو امرأة ثقة خشية الخلوة. “শরিয়তের মূল বিধান হচ্ছে- বিশেষজ্ঞ মহিলা ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি মুসলিম মহিলা ডাক্তার না পাওয়া যায় তাহলে বিশ্বস্ত অমুসলিম মহিলা ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি অমুসলিম মহিলা ডাক্তারও না পাওয়া যায় তাহলে মুসলিম পুরুষ ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি মুসলিম ডাক্তারও না পাওয়া যায় তাহলে অমুসলিম পুরুষ ডাক্তার সে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে শর্ত হল, পুরুষ ডাক্তার রোগিনীর শরীরের ততটুকু দেখবেন যতটুকু দেখা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার স্বার্থে প্রয়োজন; এর বেশি দেখবে না এবং সাধ্যমত দৃষ্টি অবনত রাখবে। পুরুষ ডাক্তারকে রোগিনীর চিকিৎসা করতে হবে রোগিনীর মোহরেম কিংবা স্বামী কিংবা কোন বিশ্বস্ত নারীর উপস্থিতিতে; যাতে করে নিষিদ্ধ নির্জনবাস না ঘটে।”(একাডেমীর জার্নাল থেকে সংকলিত (৮/১/৪৯)
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন:الواجب أن تكون الطبيبات مختصات للنساء ، والأطباء مختصين للرجال إلا عند الضرورة القصوى إذا وجد مرض في الرجال ليس له طبيب رجل ، فهذا لا بأس به ، والله يقول : ( وقد فصل لكم ما حرم عليكم إلا ما اضطررتم إليه ) الأنعام / 119“আবশ্যক (ওয়াজিব) হলো—নারী চিকিৎসকরা নারীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত থাকবেন এবং পুরুষ চিকিৎসকরা পুরুষদের চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত থাকবেন। তবে চরম অপরিহার্যতার পরিস্থিতি হলে ভিন্ন কথা; যেমন, পুরুষদের মধ্যে এমন কোনো রোগ দেখা দিল, যার জন্য কোনো পুরুষ চিকিৎসক পাওয়া যায় না—তাহলে সে ক্ষেত্রে (নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণে) কোনো অসুবিধা বা গুনাহ নেই। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন:”তিনি তোমাদের জন্য বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন, কোন কোন বিষয় তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে; তবে সেই অবস্থা ব্যতীত, যখন তোমরা বাধ্য বা নিরুপায় হয়ে পড়ো।”(সূরা আল-আন‘আম: ১১৯; ফাতাওয়া আজিলা লি-মানসুবিস সিহহাহ; পৃষ্ঠা: ২৯)।
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয় যে, “আমরা একদল ডাক্তার রিয়াদে চাকুরী করি। আমাদের ডিউটিকালে পুরুষ ও মহিলা রোগী আসে। কখনো কখনো কোন মহিলা রোগী মাথা ব্যথা বা পেটে ব্যথার কথা বলেন। পরিপূর্ণ চিকিৎসার দাবী হচ্ছে- রোগিনীকে পরীক্ষা করে দেখা। পরীক্ষার মাধ্যমে মাথা ব্যথার কারণ নির্ণয় করা। রোগের কারণ নির্ণয় করতে গেলে রোগীর পেট কিংবা মাথা কিংবা অন্য কোন অঙ্গ পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়; যাতে করে ডাক্তারের উপর কোন দায় না আসে। আর যদি রোগিনীকে পরীক্ষা করা না হয় হতে পারে এতে করে রোগিনী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। অর্থাৎ এক্ষেত্রে পরীক্ষা না করারও সুযোগ আছে। তবে যথাযথ কনসালটেন্সির করতে গেলে পরীক্ষা করা প্রয়োজন…। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) জবাবে বলেন:”الواجب على إدارة المستشفى أن تلاحظ هذا وأن تجعل المناوبة بين الرجال والنساء حتى إذا احتاج النساء المرضى أن يُعالجن أو يفحصن أُرسل إليهن النساء ، فإذا لم تقم الإدارة بهذا الواجب عليها ولم تبال فأنتم لا حرج أن تفحصوا النساء ، لكن بشرط ألا يكون هناك خلوة أو شهوة ، وأيضا يكون هناك حاجة إلى الفحص ، فإن لم يكن حاجة وأمكن تأخير الفحص الدقيق إلى وقت تحضر فيه النساء فأخروه ، وإذا كان لا يمكن فهذه حاجة ولا بأس بها”হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হচ্ছে- পুরুষ ডাক্তার ও মহিলা ডাক্তারের মাঝে এমনভাবে ডিউটি ভাগ করে দেয়া যাতে করে মহিলা রোগী আসলে তাদের চেক-আপ করা ও পরীক্ষা করার জন্য মহিলা ডাক্তারের কাছে পাঠানো যায়। যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ কর্তব্য পালন না করে, এ বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ না করে তাহলে মহিলাদের চিকিৎসা করায় আপনারা গুনাহগার হবেন না। তবে শর্ত হচ্ছে- চিকিৎসাকালে কোন মহিলা রোগীর সাথে নির্জনবাস না ঘটা এবং যৌন উত্তেজনা না আসা এবং প্রকৃতপক্ষে রোগীকে পরীক্ষা করার প্রয়োজন থাকা। যদি পরীক্ষা করার প্রয়োজন না থাকে, কিংবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা পরবর্তীতে মহিলা ডাক্তার আসার পর করলেও চলে তাহলে সে পরীক্ষা পরবর্তীতেই করতে হবে। আর যদি দেরী করার সুযোগ না থাকে; তাহলে এটি প্রয়োজন। এমতাবস্থায় পুরুষ ডাক্তার মহিলা রোগীর চিকিৎসা করলে গুনাহ হবে না।”(ইবনু উসাইমীন; লিকাআতুল বাব আল-মাফতুহ (১/২০৬)
.
আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি ও মুসলমানদের পরিবেশ-পরিস্থিতি শোধরে দেন। আমাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপন সকল ফেতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী ও দোয়াতে সাড়াদানকারী। আল্লাহই ভাল জানেন।
▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখার বিধান কী

 প্রশ্ন: নারীদের জন্য টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখা কি জায়েজ?

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ-সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখার মধ্যে শরিয়তের দৃষ্টিতে বেশ কিছু আপত্তিকর বিষয় রয়েছে।
– প্রথমত: প্রায় সব খেলাতেই কোনো না কোনোভাবে হারাম বাজি বা জুয়ার সম্পর্ক থাকে।
– দ্বিতীয়ত: এসব খেলায় সতর ঢাকা থাকে না।
আরো থাকে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং গান বাজনা বা মিউজিকের উপস্থিতি। এর বাইরেও এসব খেলা দেখে অনর্থক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
একজন বুদ্ধিমান মানুষের উচিত, তার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য উপকারী বিষয়ে সময় দেওয়া। তাই কোনো মুসলিম পুরুষ বা নারীর জন্য এই ধরনের খেলায় মগ্ন হওয়া ঠিক নয়। বরং দুনিয়া ও আখেরাতে উপকার দেবে এমন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত।
🔸ফুটবল বিশ্বকাপ বা এই জাতীয় খেলাধুলার টুর্নামেন্ট (প্রতিযোগিতা) দেখার বিষয়ে সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান:
“مباريات كرة القدم التي على مال أو نحوه من جوائز حرام؛ لكون ذلك قمارًا؛ لأنه لا يجوز أخذ السَّبَق وهو العوض إلا فيما أذن فيه الشرع، وهو المسابقة على الخيل والإبل والرماية، وعلى هذا فحضور المباريات حرام، ومشاهدتها كذلك، لمن علم أنها على عوض؛ لأن في حضوره لها إقرارًا لها. أما إذا كانت المباراة على غير عوض، ولم تشغل عما أوجب الله من الصلاة وغيرها، ولم تشتمل على محظور: ككشف العورات، أو اختلاط النساء بالرجال، أو وجود آلات لهو – فلا حرج فيها ولا في مشاهدتها”
“যেসব ফুটবল খেলায় টাকা-পয়সা বা পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকে সেগুলো হারাম। কারণ তা জুয়ার মধ্যে পড়ে। শরিয়তে শুধু ঘোড়দৌড়, উটের দৌড় এবং তীরন্দাজি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার নেওয়ার অনুমতি আছে। তাই যে খেলায় পুরস্কারের লেনদেন থাকে, তা জানা থাকলে সেখানে উপস্থিত হওয়া বা খেলা দেখা — দুই-ই হারাম। কারণ সেখানে যাওয়া মানেই হলো বিষয়টিকে সমর্থন করা। তবে খেলায় যদি কোনো পুরস্কারের শর্ত না থাকে, নামাজসহ আল্লাহর ফরজ করা কাজগুলো থেকে দূরে না রাখে, এবং সতর খুলে ফেলা, নারী-পুরুষের মেলামেশা বা গান-বাজনার মতো কোনো নিষিদ্ধ বিষয় না থাকে তাহলে খেলা দেখা বা অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”
[ফাতাওয়া আল লাজনাহ আদ দায়িমাহ, ১৫/২৩৮]
🔸বিনোদন ও কোনো দলকে সাপোর্ট করার জন্য নারীদের এই খেলা দেখা যাবে কি না এ বিষয়ে শাইখ ইবনে জিবরিন (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
“لا يجوز مشاهدة المباريات، حيث إن اللاعبين رجال متجردون غالبًا عن اللباس الساتر، وقد يبدو بعض الفخذ، وقد تتمثل العورة وراء اللباس، وذلك فتنة للنساء، ولو كان القصد التسلية ففي الإمكان التسلي بالذكر والقرآن وكتب الحديث والفقه والأحكام”
“এসব খেলা দেখা জায়েজ নয়। কারণ খেলোয়াড়রা সাধারণত পুরো শরীর ঢাকা পোশাক পরে না। অনেক সময় তাদের উরু দেখা যায়। আবার টাইট কাপড়ের কারণেও শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি নারীদের মনকে নষ্ট করার বা ফিতনার কারণ হতে পারে। আর মন ভালো করার বা বিনোদনের যদি দরকার হয় তবে জিকির, কুরআন তিলাওয়াত এবং হাদিস, ফিকহ ও ইসলামের বিধিবিধানের বইপত্র পড়েও আনন্দ পাওয়া সম্ভব।”
[শাইখ ইবনে জিবরিনের ওয়েবসাইট]
🔸টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটবল খেলা দেখার সার্বিক বিধান নিয়ে শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.) কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
“الذي أرى أن مشاهدة الألعاب التي تعرض في التلفاز أو في غيره من المشاهدات أنها مضيعة للوقت, وأن الإنسان العاقل الحازم لا يضيع وقته بمثل هذه الأمور التي لا تعود عليه بفائدة إطلاقًا. هذا إن سلمت من شر آخر, فإن اقترن بها شر آخر بحيث يقوم في قلب المتفرج تعظيم اللاعب الكافر مثلًا, فإن هذا حرام بلا شك, لأنه لا يجوز لنا أن نعظم الكفار أبدًا مهما حصل لهم من التقدم. أو كانت هذه المباراة قد ظهرت فيها أفخاذ شباب يحصل بها فتنة, فإن الراجح عندي أنه لا يجوز للشباب حين لعبهم بالكرة أن يخرجوا أفخاذهم; لما في ذلك من الفتنة, حتى على القول بأن الفخذ ليس بعورة. فلا أرى أن الشاب يخرج فخذه أبدًا. أما إذا قلنا بأن الفخذ عورة كما هو المشهور من مذهب الإمام أحمد, فالأمر في هذا واضح: أنه لا يجوز على كل حال. فالذي أنصح به إخواننا أن يحرصوا على أوقاتهم فإن الأوقات أغلى من الأموال”
“আমার মতে, টেলিভিশন বা অন্য কোনো মাধ্যমে এই ধরনের খেলাধুলা দেখা স্রেফ সময়ের অপচয়। একজন বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল মানুষ এমন কাজে সময় নষ্ট করতে পারে না যা তার কোনো কাজে আসে না। এটা তো ওই সময়ের কথা যখন খেলায় অন্য কোনো মন্দ দিক না থাকে। কিন্তু যদি এর সাথে আরও খারাপ কিছু যোগ হয়—যেমন: দর্শকের মনে কোনো অমুসলিম খেলোয়াড়ের প্রতি ভক্তি বা সম্মান তৈরি হওয়া—তবে তা নিঃসন্দেহে হারাম। কারণ অমুসলিমরা দুনিয়ার কাজে যতই এগিয়ে যাক না কেন তাদের মনে স্থান দেওয়া আমাদের জন্য জায়েজ নেই। অথবা খেলায় যদি যুবকদের উরু দেখা যায় যা মানুষের মনে খারাপ চিন্তা তৈরি করে তবে আমার মতে—খেলার সময় যুবকদের উরু বের করে রাখা জায়েজ নয়। এমনকি উরুকে যারা সতর মনে করেন না, তাদের মত অনুযায়ীও যুবকদের উরু উন্মুক্ত করা ঠিক নয়। আর ইমাম আহমদের মাজহাবের বিখ্যাত মত অনুযায়ী উরু যদি সতর হয় তাহলে তো বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার যে,কোনোভাবেই এটি দেখা জায়েজ নয়। তাই আমি আমার ভাইদের বলব, সময়ের যত্ন নিন। কারণ সময় টাকা-পয়সার চেয়েও অনেক বেশি দামি।” [আল মিশকাত ফোরাম]
وَاللَّهُ أَعْلَمُ
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
তারিখ: ১৮ রবিউস সানি ১৪৩১ হি. / ০৩ এপ্রিল ২০১০ খ্রি.
প্রশ্ন নং: ১৪৬৮৪৪
সূত্র: Islamqa info
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চিহ্ন ব্যবহারের ইসলামি বিধান

 সোশ্যাল মিডিয়া ও দৈনন্দিন জীবনে হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চিহ্ন (♥) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই চিহ্নের উৎস ও ব্যবহারের শরিয়তগত বিধান সম্পর্কে বিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের ফতওয়া ও মতামত নিচে তুলে ধরা হলো।

▪️ইসলাম সওয়াল ও জওয়াব (ইসলাম কিউএ)-এর ফতওয়া:
প্রশ্ন: আমি শুনেছি যে, আমরা—বিশেষ করে মেয়েরা—যে হৃদয় আকৃতির চিহ্নটি (♥) প্রচুর ব্যবহার করি। সেটি নাকি গ্রিকদের কোনো এক দেবতাকে নির্দেশ করে, যাকে তারা ‘ভালোবাসার দেবতা’ বলে থাকে। এখন সাজসজ্জা, অলংকার, ব্যাগ বা ঝুলন্ত কোনো শৌখিন বস্তুতে এই আকৃতিটি ব্যবহার করার বিধান কী?
উত্তর:
«لَا يَظْهَرُ لَنَا حَرَجٌ فِي اسْتِعْمَالِ الْأَشْكَالِ التَّعْبِيرِيَّةِ عُمُومًا، كَرَمْزِ “قَلْبِ الْحُبِّ” وَنَحْوِهِ مِنَ الْأَشْكَالِ الَّتِي تَرْمُزُ لِمَعَانٍ حَسَنَةٍ أَوْ لَا مَحْذُورَ فِيهَا، وَلَيْسَ فِي النُّصُوصِ الشَّرْعِيَّةِ مَا يَمْنَعُ مِنْ ذَلِكَ. وَالْكَلَامُ الْمَذْكُورُ عَنْ أَصْلِ هَذَا الشَّكْلِ لَا نَعْلَمُ لَهُ أَسَاسًا مِنَ الصِّحَّةِ، بَلِ الظَّاهِرُ أَنَّ هَذَا الشَّكْلَ مَأْخُوذٌ مِنْ شَكْلِ الْقَلْبِ الْحَقِيقِيِّ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.»
“আমাদের দৃষ্টিতে সাধারণভাবে যেকোনো অভিব্যক্তিমূলক চিহ্ন যেমন: ‘ভালোবাসার হার্ট’ বা এ জাতীয় চিহ্ন, যা ভালো অর্থ প্রকাশ করে এবং যাতে শরিয়তবিরোধী কিছু নেই—তা ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। শরিয়তের কোনো দলিলে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণও নেই। এর উৎস সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার কোনো সঠিক ভিত্তি আমাদের জানা নেই। বরং আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, এটি মানুষের বাস্তব হৃদপিণ্ডের আকৃতি থেকেই নেওয়া হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।” [প্রশ্ন নম্বর: ১৫৪১৯১, তারিখ: ০৮ রবিউস সানি ১৪৩২ হি. / ১৩ মার্চ ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ]
▪️ইসলাম ওয়েব-এর ফতওয়া:
প্রশ্ন: হোয়াটসঅ্যাপে হার্ট বা হৃদয় আকৃতির ইমোজি ব্যবহার করা কি হারাম? এ বিষয়ে কি কোনো ফতওয়া আছে? এটি কি খ্রিষ্টানদের কোনো নিষিদ্ধ প্রথা?
উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের উপর। অতঃপর-
فَتُوجَدُ فَتْوَى لِأَهْلِ الْعِلْمِ ظَاهِرُهَا أَنَّهَا تُحَرِّمُ اسْتِعْمَالَ هَذَا الرَّمْزِ، كَمَا أَنَّ هُنَاكَ فَتْوَى أُخْرَى مُغَايِرَةً لَهَا تَرَى جَوَازَ اسْتِعْمَالِهِ، وَالَّذِي يَظْهَرُ لَنَا الْجَوَازُ، إِلَّا إِذَا اسْتُعْمِلَ فِي مَقْصَدٍ مُحَرَّمٍ شَأْنُهُ شَأْنُ كُلِّ الْوَسَائِلِ الْمُبَاحَةِ تُتَّخَذُ وَسِيلَةً إِلَى الْحَرَامِ، وَلَمْ نَقِفْ عَلَى كَلَامِ أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ذَكَرَ أَنَّ رَمْزَ الْقَلْبِ الْمَوْجُودَ فِي مِثْلِ هَذِهِ الْبَرَامِجِ أَنَّهُ عَادَةٌ نَصْرَانِيَّةٌ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
“আলেমদের একাংশের ফতওয়ার বাহ্যিক বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তারা এই প্রতীকটি ব্যবহার করা হারাম মনে করেন। আবার অন্য আলেমদের ফতওয়া রয়েছে যারা এটি ব্যবহার জায়েজ মনে করেন। আমাদের কাছেও এটি বৈধ বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে যদি কোনো হারাম উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় তাহলে তা নিষিদ্ধ হবে। কারণ যেকোনো বৈধ মাধ্যম হারামের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলে হারাম হয়ে যায়। এই হৃদয় আকৃতির প্রতীকটি খ্রিষ্টানদের কোনো বিশেষ ধর্মীয় প্রথা—এমন কোনো বক্তব্য আমরা কোনো আলেমের কাছ থেকে পাইনি। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।”
(ফতোয়া নম্বর: ২৮৪৬৬৩, তারিখ: ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৬ হি. / ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ইং)
▪️শাইখ ড. সুলাইমান আর রুহাইলি (বিখ্যাত দাঈ এবং মসজিদে কুবা, মদিনা মুনাওয়ারা-এর ইমাম ও খতিব) -এর অভিমত
প্রশ্ন: ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে হার্ট বা হৃদয়ের চিহ্ন ব্যবহার করার বিধান কী?
هَذِهِ الْعَلَامَةُ الَّتِي يَضَعُونَهَا -أَيِ الْقَلْبُ- لِأَنَّ الْمَحَبَّةَ مَحَلُّهَا الْقَلْبُ؛ مِنْ حَيْثُ الْأَصْلِ إِنْ كَانَتْ تُسْتَعْمَلُ فِيمَا يَجُوزُ، كَأَنْ يُرْسِلَ الرَّجُلُ ذَلِكَ لِزَوْجَتِهِ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ، فَهَذَا جَائِزٌ وَلَا إِشْكَالَ فِيهِ. أَمَّا اسْتِعْمَالُ هَذَا الرَّمْزِ فِيمَا بَيْنَ الرِّجَالِ، أَوْ فِيمَا بَيْنَ النِّسَاءِ بَعْضِهِنَّ مَعَ بَعْضٍ، فَأَرَى -وَاللَّهُ أَعْلَمُ- أَنَّهُ لَا يَلِيقُ؛ لَا أَقُولُ إِنَّهُ حَرَامٌ، وَلَكِنْ أَقُولُ إِنَّهُ لَا يَلِيقُ وَلَيْسَ مِنْ شَأْنِ أَهْلِ الْمُرُوءَاتِ، وَاجْتِنَابُهُ خَيْرٌ. أَمَّا إِذَا اسْتُعْمِلَ فِيمَا يَجُوزُ -كَمَا قُلْتُ- بِأَنْ يُرْسِلَ الرَّجُلُ لِامْرَأَتِهِ، أَوْ إِلَى أُمِّهِ، أَوْ إِلَى أُخْتِهِ، هَذِهِ الْعَلَامَةَ دَلَالَةً عَلَى الْمَحَبَّةِ؛ فَمَا يَظْهَرُ لِي -وَاللَّهُ أَعْلَمُ- أَنَّ فِي ذَلِكَ بَأْسًا.
“মানুষ সাধারণত এই চিহ্নটি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যবহার করে। কারণ হৃদপিণ্ডই ভালোবাসার স্থান। মূলনীতির ভিত্তিতে যদি এটি বৈধ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়—যেমন: স্বামী তার স্ত্রীকে পাঠাল—তাহলে এটি জায়েজ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে পুরুষেরা একে অপরকে কিংবা নারীরা একে অপরকে এই চিহ্ন পাঠানোআমার মতে অনুচিত। আমি একে হারাম বলছি না। তবে এটি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের জন্য শোভনীয় নয় এবং এটি এড়িয়ে চলাই উত্তম। তবে যদি বৈধ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেমন: স্বামী স্ত্রীকে, ছেলে মাকে বা বোনকে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য পাঠায়—তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা আছে বলে আমার মনে হয় না। আল্লাহই ভালো জানেন।”
▪️সৌদি আরবের ফতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (লাজনাহ দায়িমাহ)-এর ফতওয়া:
– বিশেষ প্রেক্ষাপট: এই ফতোয়াটি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ হার্ট চিহ্ন ব্যবহার সংক্রান্ত নয়। বরং এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রদান করা হয়েছে, যখন কাফের দেশে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবমাননার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া চলছিল এবং সেই সময় চাবির রিং, গেঞ্জি ও স্টিকারে “আমি ❤ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” লেখার একটি বিশেষ ধারা দেখা যাচ্ছিল।
প্রশ্ন: জেদ্দা দাওয়াহ ও ইরশাদ সেন্টারের সদস্য শাইখ মুহাম্মদ বিন আতিয়্যাহ আল জাবিরি জানতে চেয়েছেন, বর্তমানে কিছু মানুষের মাঝে হৃদপিণ্ডের (হার্ট) আকৃতিতে তৈরি চাবির রিংয়ের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। যেহেতু হৃদপিণ্ড ভালোবাসার প্রতীক তাই এই রিংয়ের উপর লেখা থাকে: “আমি (হৃদপিণ্ডের চিহ্ন) রসুল” — যার অর্থ দাঁড়ায় “আমি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভালোবাসি।” রিংয়ের উল্টো পাশে লেখা থাকে: “হে আমার প্রিয় রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।” এছাড়াও গলায় ঝোলানোর লকেট এবং কোনো কোনো নারীর পোশাকে বুকের বাম পাশে একই ধরনের লেখা দেখা যাচ্ছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী?
উত্তর:
وَبَعْدَ دِرَاسَةِ اللَّجْنَةِ لِلِاسْتِفْتَاءِ أَجَابَتْ بِأَنَّ عَمَلَ الشَّكْلِ الْمَذْكُورِ وَكِتَابَةَ الْعِبَارَةِ الْمَذْكُورَةِ عَلَى الْمَلَابِسِ وَالْمَيْدَالِيَاتِ وَنَحْوِهَا لَيْسَ مِنْ هَدْيِ سَلَفِ الْأُمَّةِ الَّذِينَ هُمْ أَفْضَلُ الْقُرُونِ وَأَشَدُّ تَعْظِيمًا وَحُبًّا لِلرَّسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّنْ جَاءَ بَعْدَهُمْ، كَمَا أَنَّ فِيهِ تَشَبُّهًا بِأَهْلِ الْفِسْقِ الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ مِثْلَ هَذِهِ الرُّمُوزِ دَلَالَةً عَلَى حُبِّهِمْ وَعِشْقِهِمُ الْمُحَرَّمِ لِغَيْرِهِمْ، وَيَتَفَانَوْنَ فِيهِ مِنْ غَيْرِ الْتِفَاتٍ لِحُكْمِ الشَّرِيعَةِ الْمُطَهَّرَةِ فِيهِ، كَمَا أَنَّ الشَّكْلَ الْمَذْكُورَ يُفْهَمُ مِنْهُ أَيْضًا: أَنَّ حُبَّ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَحُبِّ غَيْرِهِ مِنَ الْمَخْلُوقِينَ، وَهَذَا غَلَطٌ كَبِيرٌ؛ لِأَنَّ مَحَبَّةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاجِبَةٌ شَرْعًا، وَلَا يَتِمُّ الْإِيمَانُ إِلَّا بِهَا، أَمَّا مَحَبَّةُ غَيْرِهِ فَقَدْ تَكُونُ مَشْرُوعَةً، وَقَدْ تَكُونُ مُحَرَّمَةً، وَبِنَاءً عَلَى مَا تَقَدَّمَ فَإِنَّ كِتَابَةَ الْعِبَارَةِ الْمَذْكُورَةِ وَبَيْعَهَا وَشِرَاءَهَا وَاسْتِعْمَالَهَا لَا يَجُوزُ. وَبِاللهِ التَّوْفِيقُ.
“উক্ত বিষয়টি পর্যালোচনার পর স্থায়ী কমিটি এই মর্মে উত্তর দিচ্ছে যে—পোশাক, মেডেল বা এ জাতীয় বস্তুর উপর উক্ত হার্ট আকৃতি তৈরি করা এবং তাতে নির্দিষ্ট বাক্য লিখে রাখা উম্মতের পূর্বসূরি সালাফদের আদর্শ নয়। অথচ তারা পরবর্তী সকল প্রজন্মের তুলনায় সর্বশ্রেষ্ঠ যুগের অধিকারী ছিলেন এবং রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সর্বাধিক সম্মান ও ভালোবাসা পোষণ করতেন। এর পাশাপাশি এতে ফাসেকদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে, যারা এই জাতীয় প্রতীককে হারাম প্রেম ও কামাবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে এবং শরীআতের বিধানের পরোয়া না করেই তাতে মগ্ন থাকে। আরও একটি সমস্যা হলো, এই প্রতীক থেকে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর প্রতি ভালোবাসা অন্য যেকোনো সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার মতোই সাধারণ একটি বিষয়। এটি এক মারাত্মক ভুল। কারণ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভালোবাসা শরিয়তে ওয়াজিব এবং এটি ছাড়া ইমান পূর্ণ হয় না। পক্ষান্তরে অন্য কারও প্রতি ভালোবাসা কখনো বৈধ, কখনো নিষিদ্ধ হতে পারে। অতএব, উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এই বাক্যগুলো লেখা, এ জাতীয় দ্রব্যাদি কেনা-বেচা করা এবং তা ব্যবহার করা জায়েজ নয়। আল্লাহই তাওফিক দানকারী।”
ইলমি গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি:
সদস্য: বকর আবু যাইদ, সালেহ আল ফাওযান, আব্দুল্লাহ বিন গুদাইয়ান।
প্রধান: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহ.)।
সারাংশ: হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চিহ্ন ব্যবহারের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইসলাম কিউএ ও ইসলাম ওয়েবসহ অধিকাংশ আলেম মনে করেন, সাধারণ ক্ষেত্রে এই চিহ্ন ব্যবহার জায়েজ। তবে হারাম উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে তা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। শাইখ ড. রুহাইলি মনে করেন, স্বামী-স্ত্রী বা মাহরামদের মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশে এটি ব্যবহার করা বৈধ। তবে সমলিঙ্গের মধ্যে ব্যবহার শোভনীয় নয়। অন্যদিকে, লাজনাহ দায়িমার ফতোয়াটি বিশেষভাবে সেই প্রচলনকে নিষিদ্ধ করেছে, যেখানে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে চাবির রিং বা পোশাকে এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কারণ এতে সালাফদের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি, ফাসেকদের সাথে সাদৃশ্য এবং নবীপ্রেমের মর্যাদাকে সাধারণ প্রেমের স্তরে নামিয়ে আনার আশঙ্কা রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন ‌।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
গ্রন্থনায়:আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

ঈদের নামাজের সময় কখন শুরু হয় এবং কখন শেষ হয়

 ▪️প্রথম: ঈদের নামাজের সময় শুরু হয় সূর্য একটি বর্শার পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে—অর্থাৎ সূর্যোদয়ের প্রায় পনেরো থেকে বিশ মিনিট পর—এবং শেষ হয় সূর্য ঠিক মাথার উপরে আসার (যওয়াল) আগ পর্যন্ত।

জমহুর তথা হানাফি, মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবের মতে—সময় শুরু হয় সূর্য একটি বর্শা পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে। শাফেয়ি মাজহাবের মতে সময় শুরু হয় সূর্যোদয় থেকেই। কেননা এটি একটি বিশেষ কারণযুক্ত নামাজ, তাই মাকরুহ ওয়াক্তের বাধা এখানে প্রযোজ্য নয়।
প্রথম দলিল:
أَبُو عُمَيْرِ بنُ أَنَسِ بنِ مَالِكٍ قالَ: حَدَّثَنِي عُمُومَتِي مِنَ الأنصارِ مِن أصحابِ رسولِ اللهِ ﷺ قالُوا: أُغْمِيَ عَلَيْنَا هِلَالُ شَوَّالٍ فَأَصْبَحْنَا صِيَامًا، فَجَاءَ رَكْبٌ مِنْ آخِرِ النَّهَارِ فَشَهِدُوا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُمْ رَأَوُا الهِلَالَ بِالأَمْسِ، فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ يُفْطِرُوا، وَأَنْ يَخْرُجُوا إِلَى عِيدِهِمْ مِنَ الغَدِ
আবু উমায়ের ইবনে আনাস ইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার আনসারি চাচারা—যাঁরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবি ছিলেন—আমাকে বলেছেন: একবার শাওয়ালের চাঁদ আমাদের কাছে দেখা যায়নি। তাই আমরা সিয়াম রেখে সকাল করলাম। দিনের শেষভাগে এক দল লোক নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে সাক্ষ্য দিল যে, তারা গতকাল চাঁদ দেখেছে। তখন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের রোজা ভঙ্গ করতে করতে এবং পরের দিন ঈদে বের হতে নির্দেশ দিলেন। [সুনানে আবু দাউদ: ১১৫৭; সুনানে নাসাই: ১৫৫৭; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৫৩। ইবনুল মুনজির, খাত্তাবি, ইবনে হাজম, নববি ও শাওকানি (রহিমাহুমুল্লাহ) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।]
দ্বিতীয় দলিল:
يَزِيدُ بنُ خُمَيْرٍ الرَّحَبِيُّ قالَ: خَرَجَ عَبْدُ اللهِ بنُ بُسْرٍ صَاحِبُ رَسُولِ اللهِ ﷺ مَعَ النَّاسِ فِي يَومِ عِيدِ فِطْرٍ أَوْ أَضْحَى، فَأَنْكَرَ إِبْطَاءَ الإِمَامِ، فَقَالَ: إِنَّا كُنَّا قَدْ فَرَغْنَا سَاعَتَنَا هَذِهِ، وَذَلِكَ حِينَ التَّسْبِيحِ
ইয়াজিদ ইবনে খুমায়র আর রাহবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবি—একবার ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার দিন মানুষের সঙ্গে বের হলেন এবং ইমামের দেরিতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বললেন: “আমরা তো এই সময়ের মধ্যেই নামাজ শেষ করে ফেলতাম আর এটা হলো তাসবিহের (অর্থাৎ যখন চাশতের সময় শুরু হয়)।” [সুনানে আবু দাউদ: ১১৩৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩১৭। আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) সহিহ বলেছেন]
তৃতীয় দলিল—ইজমা: শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, কোনো কোনো আলেম বলেছেন: ঈদের নামাজের সময় সূর্য উঁচু হওয়ার পর থেকে যাওয়াল (সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়া) পর্যন্ত—এবং এতে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই। [আদ দারারি আল মাদিয়্যাহ: ১/১১৮]
▪️দ্বিতীয়: ঈদের নামাজ পরের দিনে পড়া যাবে কি: যদি কোনো কারণে ঈদের দিন নামাজ পড়া না হয় তাহলে পরের দিন কাজা করা যাবে। এর দলিল হলো উপরে বর্ণিত প্রথম হাদিসটি — যেখানে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরের দিন ঈদে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
▪️তৃতীয়: ঈদুল আজহা আগে পড়া ও ঈদুল ফিতর দেরিতে পড়া মুস্তাহাব: ঈদুল আজহার নামাজ সময়ের শুরুতেই পড়া মুস্তাহাব। ঈদুল ফিতরের নামাজ প্রথম ওয়াক্ত থেকে সামান্য বিলম্বে পড়া মুস্তাহাব। এটি জমহুরের মত — হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব। [হানাফি সূত্র: আল-বাহরুর রায়েক, ইবনে নুজাইম (২/১৭৩); হাশিয়াতুত তাহতাউই (পৃ. ৩৪৬)। শাফেয়ি সূত্র: রাওদাতুত তালিবিন, নববি (২/৭৬); আল হাউয়িল কাবির, মাওয়ার্দি (২/৪৮৮)।] ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ঈদুল ফিতর দেরিতে পড়ার কারণ হলো, মানুষ যাতে নামাজে বের হওয়ার আগেই সদাকাতুল ফিতর আদায় করার সুযোগ পায়। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে এসেছে:
أُمِرَ أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلَاةِ
“নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সদাকাতুল ফিতর মানুষ নামাজে বের হওয়ার আগেই আদায় করতে হবে।”
সুতরাং নামাজ দেরিতে হলে মানুষের জন্য সময় আরও প্রশস্ত হয়। আর ঈদুল আজহা আগে পড়ার কারণ হলো, কুরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিয়ার বা নিদর্শন।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে নামাজ ও কুরবানিকে পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
“অতএব আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কুরবানি করুন।” [সুরা কাউসার: ২]
কুরবানি নামাজের আগে করা যায় না। তাই নামাজ আগে পড়া হলে কুরবানির সময় আরও প্রশস্ত হয়। [আশ শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমিন: ৫/১২২]
সূত্র: আল মাওসুআহ আল ফিকহিয়্যাহ—দুরারুস সানিয়্যাহ (dorar.net)

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।

আরাফাতের রোজা কোন দিন এ নিয়ে বিতর্ক এবং সমাধান

 আরাফার দিনের নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এই একটি রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার পূর্বের এবং পরের—মোট দুই বছরের গুনাহ খাতা মোচন করে দেন। তবে এই ফজিলতপূর্ণ দিনটি আসলে কোনটি তা নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে দুটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য অভিমত রয়েছে:

▪️প্রথম অভিমত (অধিকাংশ আলেমের মত): পূর্ববর্তী ও বর্তমান যুগের বহু গবেষক আলেমের মতে, নিজ নিজ দেশের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই ৯ জিলহজ আরাফার রোজা রাখতে হবে। যেভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আমরা রমজান, ঈদ, কুরবানি ও অন্যান্য ইবাদতের তারিখ নির্ধারণ করি, এটিও ঠিক তেমনই। [এই মত অনুযায়ী, ভারত উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে আগামী বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) রোজা রাখার দিন।]
▪️দ্বিতীয় অভিমত: আধুনিক যুগের একদল নির্ভরযোগ্য ও বরেণ্য আলেম মনে করেন, ‘আরাফা’ মূলত একটি স্থানের নাম। তাই সৌদি আরবের ৯ জিলহজ, অর্থাৎ আরাফার ময়দানে হাজিদের অবস্থানের দিনটিকে প্রাধান্য দিয়ে বৈশ্বিকভাবে একই দিনে এই রোজা রাখা উচিত। [এই মতের ওপর ভিত্তিতে মঙ্গলবার ২৬ মে‌, ২০২৬ তারিখে রোজা রাখার দিন।] যেহেতু দুটি মতেরই শরিয়তসম্মত ভিত্তি এবং যুক্তি রয়েছে তাই যার কাছে যেটিকে অধিক বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য মনে হয় তিনি সে অনুযায়ী আমল করতে পারেন। এই নফল ইবাদত নিয়ে নিয়ে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বা ঝগড়া-ফাসাদ করার কোনো সুযোগ নেই।
– সাধারণ নফলের নিয়তে দুইদিন রোজার মাধ্যমে আরাফাতের সওয়াব অর্জন করা সম্ভব:
কোনো ধরনের সংশয় বা বিতর্কে না গিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান হতে পারে—যদি কেউ আগামীকাল মঙ্গলবার এবং বুধবার (২৬ ও ২৭ মে), এই দুই দিনই রোজা রাখেন। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ত করতে হবে জিলহজ মাসের সাধারণ নফল রোজার, সুনির্দিষ্টভাবে ‘দুই দিন আরাফার রোজা’ মনে করে নয়। কারণ, আরাফার দিন মূলত একটিই, দুটি নয়; তাই সুনির্দিষ্টভাবে দুই দিনকে আরাফার দিন মনে করে রোজা রাখলে তা বিদআত বলে গণ্য হবে। কিন্তু জিলহজ মাসের প্রথম ৯ দিন সাধারণ নফল রোজা রাখা যেহেতু স্বতঃসিদ্ধ ও শরিয়তসম্মত তাই সাধারণ নফল রোজার নিয়তে এই দুই দিন রোজা রাখলে ইনশাআল্লাহ আরাফার দিনের মূল সওয়াব নিশ্চিতভাবেই অর্জিত হয়ে যাবে। বিষয়টি ঠিক লাইলাতুল কদরের মতো। কদরের রাতকে নিশ্চিত করার জন্য কেউ যদি রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি রাত জেগে ইবাদত করে তবে সে যেমন নিশ্চিতভাবেই কদরের রাতের সওয়াব পেয়ে যায়; ঠিক তেমনি, সাধারণ নফলের নিয়তে এই দুই দিন রোজা রাখলে আরাফার দিনের অসামান্য ফজিলত মিস হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। তবে আমরা আগে যেমনটি বলেছি, নির্দিষ্টভাবে আরাফার নিয়তে রোজা রাখলে শুধু এক দিন রাখতে হবে‌। আর তা হয় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে অথবা নিজ দেশের চাঁদের হিসেব অনুযায়ী। যেটা যার কাছে অধিক দলিলসম্মত ও যুক্তিযোগ্য মনে হয়। উভয় পক্ষই ইনশাআল্লাহ গ্রহণযোগ্য ইজতিহাদি মত অনুসরণ করছেন।
▪️আমার ব্যক্তিগত মত:
আমার ব্যক্তিগত মত হল, জুমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মত অনুযায়ী অন্যান্য ইবাদতের মতো আরাফাতের রোজা রাখা উচিত, নিজ দেশের চাঁদ অনুযায়ী ৯ জিলহজ। যদিও একসময় আমি দ্বিতীয় মতের পক্ষে অর্থাৎ সৌদি আরবের চাঁদের হিসেবে রোজা রাখার পক্ষে ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে প্রথম মতটি অধিক যুক্তিযোগ্য মনে হওয়ায় সেখান থেকে ফিরে এসেছি।
আল্লাহু আলাম। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। মহান আল্লাহ আমাদের ইবাদত-বন্দেগি কবুল করুন এবং ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন। আমিন।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

চাঁদ দেখায় মতভেদ থাকলে আরাফার দিনের দোয়া কীভাবে করব

 প্রশ্ন: ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি বিষয়ে আমি বিভ্রান্তিতে পড়েছি। আপনাদের আগের ফতোয়ায় পড়েছিলাম যে, হাজি নন এমন ব্যক্তিদের জন্য জিলহজ মাসের নবম দিন সিয়াম পালন করতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো, যাঁরা স্থানীয় তারিখ অনুসরণ করেন তাঁদের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নবম তারিখ এবং যুক্তরাজ্যের নবম তারিখ আলাদা হয়ে যায়। অর্থাৎ সৌদিতে যেদিন ঈদ, সেদিন হয়তো ব্রিটেনে জিলহজের দশম দিন। আমি একটি বইয়ে পড়েছি যে, আরাফার দিন (নবম জিলহজ) হাজিদের সঙ্গে একই সময়ে দোয়া করা উচিত। যদি সকল মুসলিমের ঈদ একই দিনে হতো, তাহলে বিষয়টি সহজ হতো। কিন্তু স্থানীয় মত অনুসরণ করলে নবম তারিখ সবসময় ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, সৌদিতে আরাফার দিন যদি নবম জিলহজ হয়, আর ব্রিটেনে স্থানীয় হিসেবে সেটি অষ্টম জিলহজ হয়, তাহলে কি ব্রিটেনে বসে হাজিদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সেদিনই — যদিও সেটি সেখানে অষ্টম — দোয়া করতে হবে? নাকি নবম তারিখের জন্য অপেক্ষা করতে হবে? কোনো অবস্থাতেই পুরোপুরি মিল হবে না, কারণ ব্রিটেনের নবম তারিখ সৌদিতে হয়ে যাবে দশম। আশা করি প্রশ্নটি বোধগম্য হয়েছে। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান (আল্লাহ আপনাদের উত্তম পুরস্কার দিন)।

উত্তর: আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর রসুলের প্রতি দরুদ ও সালামের পর:
▪️প্রথমত: আরাফার দিন ও সিয়াম প্রসঙ্গে: আরাফার দিন হলো জিলহজ মাসের নবম তারিখ। এই তারিখ প্রতিটি দেশের জন্য সেই দেশের স্থানীয় হিলাল (নতুন চাঁদ) দর্শনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। ফলে মক্কায় যদি এটি বৃহস্পতিবার হয়, অন্য কোনো দেশে সেটি হতে পারে বুধবার বা শনিবার। চাঁদের উদয়স্থল (المطالع) ভিন্ন হলে মক্কাবাসীদের তারিখ অনুসরণ করা আবশ্যিক নয়। আহলে ইলমদের মধ্যে এটাই রাজেহ বা অগ্রাধিকারযোগ্য মত — প্রতিটি দেশের নিজস্ব রুইয়াত (চাঁদ দেখার সাক্ষ্য) গ্রহণযোগ্য, যখন উদয়স্থল ভিন্ন হয়। অতএব ব্রিটেনের মুসলিমরা যদি নিজেরা নতুন চাঁদ অনুসন্ধান করে তাহলে তাঁদের সেই চাঁদ দর্শন অনুযায়ী আমল করতে হবে।  অন্যথায় নিকটবর্তী দেশের অনুসরণ করবেন। [দ্রষ্টব্য: প্রশ্ন নং ৪০৭২০]
▪️দ্বিতীয়ত: আরাফার দিনের দোয়ার ফজিলত: আরাফার দিনের দোয়ার বিশাল ফজিলত (মর্যাদা ও পুরস্কার) রয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:
«خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ»
“সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া। আর সর্বোত্তম কথা যা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবিগণ বলেছেন তা হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির — অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকার উপাস্য নেই। তিনি একক। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই আর তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।” (তিরমিজি: ৩৫৮৫; আলবানি রহিমাহুল্লাহ ‘সহিহুত তারগিব’: ১৫৩৬-তে হাসান বলেছেন)
▪️এই ফজিলত কি কেবল আরাফায় অবস্থানকারী হাজিদের জন্য, নাকি সব স্থানের মুসলিমদের জন্য? এই বিষয়ে সম্মানিত আলেমদের মধ্যে ইখতিলাফ (মতভেদ) রয়েছে। [যার বিস্তারিত আলোচনা প্রশ্ন নং ৭০২৮২-তে করা হয়েছে] যাঁরা বলেন এই ফজিলত সব দেশ ও সব স্থানের জন্য প্রযোজ্য, তাঁদের মতে প্রতিটি ব্যক্তি নিজ দেশের চাঁদ দর্শনের ভিত্তিতে নির্ধারিত নবম জিলহজে দোয়া করবেন—হাজিরা তার আগের দিন আরাফায় অবস্থান করুন বা পরের দিন-এতে কোনো পার্থক্য নেই।
وَاللهُ أَعْلَم
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
সূত্র: ইসলাম সওয়াল ও জওয়াব (islamqa.info)
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।

Translate