November 16, 2020

42. সুরাহ আল শুরা (01-53)

 

সুরাহ আল শুরা (01-53)



ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺣﻢ
[1] হা-মীম।
[1] Hâ-Mîm [These letters are one of the
miracles of the Qur’ân and none but
Allâh (Alone) knows their meanings]
[2] ﻭَﺍﻟﻜِﺘٰﺐِ ﺍﻟﻤُﺒﻴﻦِ
[2] শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।
[2] By the manifest Book (this Qur’ân)
that makes things clear,
[3] ﺇِﻧّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟﻨٰﻪُ ﻓﻰ ﻟَﻴﻠَﺔٍ ﻣُﺒٰﺮَﻛَﺔٍ ۚ
ﺇِﻧّﺎ ﻛُﻨّﺎ ﻣُﻨﺬِﺭﻳﻦَ
[3] আমি একে নাযিল করেছি। এক
বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি
সতর্ককারী।
[3] We sent it (this Qur’ân) down on a
blessed night [(i.e. night of Qadr, Sûrah
No: 97) in the month of Ramadân — the
9th month of the Islâmic calendar].
Verily, We are ever warning [mankind
that Our Torment will reach those who
disbelieve in Our Oneness of Lordship
and in Our Oneness of worship].
[4] ﻓﻴﻬﺎ ﻳُﻔﺮَﻕُ ﻛُﻞُّ ﺃَﻣﺮٍ ﺣَﻜﻴﻢٍ
[4] এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়
স্থিরীকৃত হয়।
[4] Therein (that night) is decreed every
matter of ordainments
[5] ﺃَﻣﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻋِﻨﺪِﻧﺎ ۚ ﺇِﻧّﺎ ﻛُﻨّﺎ
ﻣُﺮﺳِﻠﻴﻦَ
[5] আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে,
আমিই প্রেরণকারী।
[5] As a Command (or this Qur’an or the
Decree of every matter) from Us. Verily,
We are ever sending (the Messengers),
[6] ﺭَﺣﻤَﺔً ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻚَ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ
ﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[6] আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে
রহমতস্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা,
সর্বজ্ঞ।
[6] (As) a Mercy from your Lord. Verily!
He is the All-Hearer, the All-Knower.
[7] ﺭَﺏِّ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭﺽِ
ﻭَﻣﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ۖ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﻣﻮﻗِﻨﻴﻦَ
[7] যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে
দেখতে পাবে। তিনি নভোমন্ডল,
ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যেবর্তী সবকিছুর
পালনকর্তা।
[7] The Lord of the heavens and the
earth and all that is between them, if you
(but) have a faith with certainty.
[8] ﻻ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟّﺎ ﻫُﻮَ ﻳُﺤﻲۦ
ﻭَﻳُﻤﻴﺖُ ۖ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﻭَﺭَﺏُّ ﺀﺍﺑﺎﺋِﻜُﻢُ
ﺍﻷَﻭَّﻟﻴﻦَ
[8] তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।
তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন।
তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং
তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃ-পুরুষদেরও
পালনকর্তা।
[8] Lâ ilaha illa Huwa (none has the right
to be worshipped but He). It is He Who
gives life and causes death,— your Lord
and the Lord of your fore-fathers.
[9] ﺑَﻞ ﻫُﻢ ﻓﻰ ﺷَﻚٍّ ﻳَﻠﻌَﺒﻮﻥَ
[9] এতদসত্ত্বেও এরা সন্দেহে পতিত
হয়ে ক্রীড়া-কৌতুক করছে।
[9] Nay! They play about in doubt.
[10] ﻓَﺎﺭﺗَﻘِﺐ ﻳَﻮﻡَ ﺗَﺄﺗِﻰ
ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀُ ﺑِﺪُﺧﺎﻥٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[10] অতএব আপনি সেই দিনের অপেক্ষা
করুন, যখন আকাশ ধূয়ায় ছেয়ে যাবে।
[10] Then wait you for the Day when the
sky will bring forth a visible smoke.
[11] ﻳَﻐﺸَﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺱَ ۖ ﻫٰﺬﺍ
ﻋَﺬﺍﺏٌ ﺃَﻟﻴﻢٌ
[11] যা মানুষকে ঘিরে ফেলবে। এটা
যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
[11] Covering the people? this is a
painful torment.
[12] ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻛﺸِﻒ ﻋَﻨَّﺎ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏَ
ﺇِﻧّﺎ ﻣُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
[12] হে আমাদের পালনকর্তা আমাদের
উপর থেকে শাস্তি প্রত্যাহার করুন,
আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।
[12] (They will say): “Our Lord! Remove
the torment from us, really we shall
become believers!”
[13] ﺃَﻧّﻰٰ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﺬِّﻛﺮﻯٰ ﻭَﻗَﺪ
ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﺭَﺳﻮﻝٌ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[13] তারা কি করে বুঝবে, অথচ তাদের
কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট বর্ণনাকারী
রসূল।
[13] How can there be for them an
admonition (at the time when the
torment has reached them), when a
Messenger explaining things clearly has
already come to them.
[14] ﺛُﻢَّ ﺗَﻮَﻟَّﻮﺍ ﻋَﻨﻪُ ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻣُﻌَﻠَّﻢٌ ﻣَﺠﻨﻮﻥٌ
[14] অতঃপর তারা তাকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন
করে এবং বলে, সে তো উম্মাদ-
শিখানো কথা বলে।
[14] Then they had turned away from
him (Messenger Muhammad SAW) and
said: “Hw is One taught (by a human
being), a madman!”
[15] ﺇِﻧّﺎ ﻛﺎﺷِﻔُﻮﺍ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ ﻗَﻠﻴﻠًﺎ ۚ
ﺇِﻧَّﻜُﻢ ﻋﺎﺋِﺪﻭﻥَ
[15] আমি তোমাদের উপর থেকে
আযাব কিছুটা প্রত্যাহার করব, কিন্তু
তোমরা পুনরায় পুনর্বস্থায় ফিরে
যাবে।
[15] Verily, We shall remove the torment
for a while. Verily! You will revert (to
disbelief).
[16] ﻳَﻮﻡَ ﻧَﺒﻄِﺶُ ﺍﻟﺒَﻄﺸَﺔَ
ﺍﻟﻜُﺒﺮﻯٰ ﺇِﻧّﺎ ﻣُﻨﺘَﻘِﻤﻮﻥَ
[16] যেদিন আমি প্রবলভাবে ধৃত করব,
সেদিন পুরোপুরি প্রতিশোধ গ্রহণ
করবই।
[16] On the Day when We shall seize you
with the greatest seizure (punishment).
Verily, We will exact retribution.
[17] ۞ ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻓَﺘَﻨّﺎ ﻗَﺒﻠَﻬُﻢ ﻗَﻮﻡَ
ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ﻭَﺟﺎﺀَﻫُﻢ ﺭَﺳﻮﻝٌ
ﻛَﺮﻳﻢٌ
[17] তাদের পূর্বে আমি ফেরাউনের
সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছি এবং
তাদের কাছে আগমন করেছেন একজন
সম্মানিত রসূল,
[17] And indeed We tried before them
Fir’aun’s (Pharaoh) people, when there
came to them a noble Messenger [i.e.
Mûsa (Moses) A.S.],
[18] ﺃَﻥ ﺃَﺩّﻭﺍ ﺇِﻟَﻰَّ ﻋِﺒﺎﺩَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ
ﺇِﻧّﻰ ﻟَﻜُﻢ ﺭَﺳﻮﻝٌ ﺃَﻣﻴﻦٌ
[18] এই মর্মে যে, আল্লাহর
বান্দাদেরকে আমার কাছে অর্পণ কর।
আমি তোমাদের জন্য প্রেরীত
বিশ্বস্ত রসূল।
[18] Saying: “Deliver to me the slaves of
Allâh (i.e. the Children of Israel). Verily!
I am to you a Messenger worthy of all
trust,
[19] ﻭَﺃَﻥ ﻻ ﺗَﻌﻠﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ۖ
ﺇِﻧّﻰ ﺀﺍﺗﻴﻜُﻢ ﺑِﺴُﻠﻄٰﻦٍ ﻣُﺒﻴﻦٍ
[19] আর তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে
ঔদ্ধত্য প্রকাশ করো না। আমি
তোমাদের কাছে প্রকাশ্য প্রমাণ
উপস্থিত করছি।
[19] “And exalt not yourselves against
Allâh. Truly, I have come to you with a
manifest authority.
[20] ﻭَﺇِﻧّﻰ ﻋُﺬﺕُ ﺑِﺮَﺑّﻰ ﻭَﺭَﺑِّﻜُﻢ
ﺃَﻥ ﺗَﺮﺟُﻤﻮﻥِ
[20] তোমরা যাতে আমাকে
প্রস্তরবর্ষণে হত্যা না কর, তজ্জন্যে
আমি আমার পালনকর্তা ও তোমাদের
পালনকর্তার শরনাপন্ন হয়েছি।
[20] “And truly, I seek refuge with my
Lord and your Lord, lest you should
stone me (or call me a sorcerer or kill
me).
[21] ﻭَﺇِﻥ ﻟَﻢ ﺗُﺆﻣِﻨﻮﺍ ﻟﻰ
ﻓَﺎﻋﺘَﺰِﻟﻮﻥِ
[21] তোমরা যদি আমার প্রতি বিশ্বাস
স্থাপন না কর, তবে আমার কাছ থেকে
দূরে থাক।
[21] “But if you believe me not, then keep
away from me and leave me alone.”
[22] ﻓَﺪَﻋﺎ ﺭَﺑَّﻪُ ﺃَﻥَّ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﻗَﻮﻡٌ
ﻣُﺠﺮِﻣﻮﻥَ
[22] অতঃপর সে তার পালনকর্তার
কাছে দোয়া করল যে, এরা অপরাধী
সম্প্রদায়।
[22] (But they were aggressive), so he
[Mûsa (Moses)] called upon his Lord
(saying): “These are indeed the people
who are Mujrimûn (disbelievers,
polytheists, sinners, criminals).”
[23] ﻓَﺄَﺳﺮِ ﺑِﻌِﺒﺎﺩﻯ ﻟَﻴﻠًﺎ ﺇِﻧَّﻜُﻢ
ﻣُﺘَّﺒَﻌﻮﻥَ
[23] তাহলে তুমি আমার বান্দাদেরকে
নিয়ে রাত্রিবেলায় বের হয়ে পড়।
নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধবন করা
হবে।
[23] (Allâh said): “Depart you with My
slaves by night. Surely, you will be
pursued
[24] ﻭَﺍﺗﺮُﻙِ ﺍﻟﺒَﺤﺮَ ﺭَﻫﻮًﺍ ۖ ﺇِﻧَّﻬُﻢ
ﺟُﻨﺪٌ ﻣُﻐﺮَﻗﻮﻥَ
[24] এবং সমুদ্রকে অচল থাকতে দাও।
নিশ্চয় ওরা নিমজ্জত বাহিনী।
[24] “And leave the sea as it is (quiet and
divided). Verily, they are a host to be
drowned.”
[25] ﻛَﻢ ﺗَﺮَﻛﻮﺍ ﻣِﻦ ﺟَﻨّٰﺖٍ
ﻭَﻋُﻴﻮﻥٍ
[25] তারা ছেড়ে গিয়েছিল কত উদ্যান
ও প্রস্রবন,
[25] How many of gardens and springs
that they [Fir’aun’s (Pharaoh) people] left
behind,
[26] ﻭَﺯُﺭﻭﻉٍ ﻭَﻣَﻘﺎﻡٍ ﻛَﺮﻳﻢٍ
[26] কত শস্যক্ষেত্র ও সূরম্য স্থান।
[26] And green crops (fields) and goodly
places,
[27] ﻭَﻧَﻌﻤَﺔٍ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻓﻴﻬﺎ ﻓٰﻜِﻬﻴﻦَ
[27] কত সুখের উপকরণ, যাতে তারা
খোশগল্প করত।
[27] And comforts of life wherein they
used to take delight!
[28] ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ۖ ﻭَﺃَﻭﺭَﺛﻨٰﻬﺎ ﻗَﻮﻣًﺎ
ﺀﺍﺧَﺮﻳﻦَ
[28] এমনিই হয়েছিল এবং আমি
ওগুলোর মালিক করেছিলাম ভিন্ন
সম্প্রদায়কে।
[28] Thus (it was)! And We made other
people inherit them (i.e. We made the
Children of Israel to inherit the kingdom
of Egypt).
[29] ﻓَﻤﺎ ﺑَﻜَﺖ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀُ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽُ ﻭَﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣُﻨﻈَﺮﻳﻦَ
[29] তাদের জন্যে ক্রন্দন করেনি
আকাশ ও পৃথিবী এবং তারা অবকাশও
পায়নি।
[29] And the heavens and the earth wept
not for them , nor were they given a
respite.
[30] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﻧَﺠَّﻴﻨﺎ ﺑَﻨﻰ
ﺇِﺳﺮٰﺀﻳﻞَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ ﺍﻟﻤُﻬﻴﻦِ
[30] আমি বনী-ইসরাঈলকে অপমানজনক
শাস্তি থেকে উদ্ধার করছি।
[30] And indeed We saved the Children
of Israel from the humiliating torment,
[31] ﻣِﻦ ﻓِﺮﻋَﻮﻥَ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛﺎﻥَ
ﻋﺎﻟِﻴًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺴﺮِﻓﻴﻦَ
[31] ফেরাউন সে ছিল
সীমালংঘনকারীদের মধ্যে
শীর্ষস্থানীয়।
[31] From Fir’aun (Pharaoh); Verily, he
was arrogant and was of the Musrifûn
(those who transgress beyond bound in
spending and other things and commit
great sins).
[32] ﻭَﻟَﻘَﺪِ ﺍﺧﺘَﺮﻧٰﻬُﻢ ﻋَﻠﻰٰ ﻋِﻠﻢٍ
ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[32] আমি জেনেশুনে তাদেরকে
বিশ্ববাসীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব
দিয়েছিলাম।
[32] And We chose them (the Children of
Israel) above the ‘Alamîn (mankind, and
jinn) [during the time of Mûsa (Moses)]
with knowledge,
[33] ﻭَﺀﺍﺗَﻴﻨٰﻬُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻝﺀﺍﻳٰﺖِ
ﻣﺎ ﻓﻴﻪِ ﺑَﻠٰﺆٌﺍ۟ ﻣُﺒﻴﻦٌ
[33] এবং আমি তাদেরকে এমন
নিদর্শনাবলী দিয়েছিলাম যাতে ছিল
স্পষ্ট সাহায্য।
[33] And granted them signs in which
there was a plain trial.
[34] ﺇِﻥَّ ﻫٰﺆُﻻﺀِ ﻟَﻴَﻘﻮﻟﻮﻥَ
[34] কাফেররা বলেই থাকে,
[34] Verily, these (Quraish) people are
saying:
[35] ﺇِﻥ ﻫِﻰَ ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻮﺗَﺘُﻨَﺎ ﺍﻷﻭﻟﻰٰ
ﻭَﻣﺎ ﻧَﺤﻦُ ﺑِﻤُﻨﺸَﺮﻳﻦَ
[35] প্রথম মৃত্যুর মাধ্যমেই আমাদের
সবকিছুর অবসান হবে এবং আমরা
পুনরুত্থিত হব না।
[35] “There is nothing but our first
death, and we shall not be resurrected.
[36] ﻓَﺄﺗﻮﺍ ﺑِـٔﺎﺑﺎﺋِﻨﺎ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ
ﺻٰﺪِﻗﻴﻦَ
[36] তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে
আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে এস।
[36] “Then bring back our forefathers, if
you speak the truth!”
[37] ﺃَﻫُﻢ ﺧَﻴﺮٌ ﺃَﻡ ﻗَﻮﻡُ ﺗُﺒَّﻊٍ
ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ ۚ ﺃَﻫﻠَﻜﻨٰﻬُﻢ ۖ
ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻣُﺠﺮِﻣﻴﻦَ
[37] ওরা শ্রেষ্ঠ, না তুব্বার সম্প্রদায় ও
তাদের পূর্ববর্তীরা? আমি ওদেরকে
ধ্বংস করে দিয়েছি। ওরা ছিল
অপরাধী।
[37] Are they better or the people of
Tubba’ and those before them? We
destroyed them because they were
indeed Mujrimûn (disbelievers,
polytheists, sinners, criminals).
[38] ﻭَﻣﺎ ﺧَﻠَﻘﻨَﺎ ﺍﻟﺴَّﻤٰﻮٰﺕِ
ﻭَﺍﻷَﺭﺽَ ﻭَﻣﺎ ﺑَﻴﻨَﻬُﻤﺎ ﻟٰﻌِﺒﻴﻦَ
[38] আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও
এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু
ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
[38] And We created not the heavens
and the earth, and all that is between
them, for mere play,
[39] ﻣﺎ ﺧَﻠَﻘﻨٰﻬُﻤﺎ ﺇِﻟّﺎ ﺑِﺎﻟﺤَﻖِّ
ﻭَﻟٰﻜِﻦَّ ﺃَﻛﺜَﺮَﻫُﻢ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[39] আমি এগুলো যথাযথ উদ্দেশ্যে
সৃষ্টি করেছি; কিন্তু তাদের
অধিকাংশই বোঝে না।
[39] We created them not except with
truth (i.e. to examine and test those who
are obedient and those who are
disobedient and then reward the
obedient ones and punish the
disobedient ones), but most of them
know not.
[40] ﺇِﻥَّ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻔَﺼﻞِ ﻣﻴﻘٰﺘُﻬُﻢ
ﺃَﺟﻤَﻌﻴﻦَ
[40] নিশ্চয় ফয়সালার দিন তাদের
সবারই নির্ধারিত সময়।
[40] Verily, the Day of Judgement (when
Allâh will judge between the creatures) is
the time appointed for all of them,—
[41] ﻳَﻮﻡَ ﻻ ﻳُﻐﻨﻰ ﻣَﻮﻟًﻰ ﻋَﻦ
ﻣَﻮﻟًﻰ ﺷَﻴـًٔﺎ ﻭَﻻ ﻫُﻢ ﻳُﻨﺼَﺮﻭﻥَ
[41] যেদিন কোন বন্ধুই কোন বন্ধুর
উপকারে আসবে না এবং তারা
সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।
[41] The Day when Maula (a near
relative) cannot avail Maula (a near
relative) in aught, and no help can they
receive,
[42] ﺇِﻟّﺎ ﻣَﻦ ﺭَﺣِﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ
ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢُ
[42] তবে আল্লাহ যার প্রতি দয়া করেন,
তার কথা ভিন্ন। নিশ্চয় তিনি
পরাক্রমশালী দয়াময়।
[42] Except him on whom Allâh has
Mercy. Verily, He is the All-Mighty, the
Most Merciful.
[43] ﺇِﻥَّ ﺷَﺠَﺮَﺕَ ﺍﻟﺰَّﻗّﻮﻡِ
[43] নিশ্চয় যাক্কুম বৃক্ষ
[43] Verily, the tree of Zaqqûm,
[44] ﻃَﻌﺎﻡُ ﺍﻷَﺛﻴﻢِ
[44] পাপীর খাদ্য হবে;
[44] Will be the food of the sinners,
[45] ﻛَﺎﻟﻤُﻬﻞِ ﻳَﻐﻠﻰ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺒُﻄﻮﻥِ
[45] গলিত তাম্রের মত পেটে ফুটতে
থাকবে।
[45] Like boiling oil, it will boil in the
bellies,
[46] ﻛَﻐَﻠﻰِ ﺍﻟﺤَﻤﻴﻢِ
[46] যেমন ফুটে পানি।
[46] Like the boiling of scalding water.
[47] ﺧُﺬﻭﻩُ ﻓَﺎﻋﺘِﻠﻮﻩُ ﺇِﻟﻰٰ
ﺳَﻮﺍﺀِ ﺍﻟﺠَﺤﻴﻢِ
[47] একে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও
জাহান্নামের মধ্যস্থলে,
[47] (It will be said) “Seize him and drag
him into the midst of blazing Fire,
[48] ﺛُﻢَّ ﺻُﺒّﻮﺍ ﻓَﻮﻕَ ﺭَﺃﺳِﻪِ ﻣِﻦ
ﻋَﺬﺍﺏِ ﺍﻟﺤَﻤﻴﻢِ
[48] অতঃপর তার মাথার উপর ফুটন্ত
পানির আযাব ঢেলে দাও,
[48] “Then pour over his head the
torment of boiling water,
[49] ﺫُﻕ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰُ
ﺍﻟﻜَﺮﻳﻢُ
[49] স্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো
সম্মানিত, সম্ভ্রান্ত।
[49] “Taste you (this)! Verily, you were
(pretending to be) the mighty, the
generous!
[50] ﺇِﻥَّ ﻫٰﺬﺍ ﻣﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺑِﻪِ
ﺗَﻤﺘَﺮﻭﻥَ
[50] এ সম্পর্কে তোমরা সন্দেহে পতিত
ছিলে।
[50] “Verily, this is that whereof you used
to doubt!”
[51] ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻤُﺘَّﻘﻴﻦَ ﻓﻰ ﻣَﻘﺎﻡٍ
ﺃَﻣﻴﻦٍ
[51] নিশ্চয় খোদাভীরুরা নিরাপদ
স্থানে থাকবে-
[51] Verily! The Muttaqûn (pious – see
V.2:2), will be in place of Security
(Paradise)
[52] ﻓﻰ ﺟَﻨّٰﺖٍ ﻭَﻋُﻴﻮﻥٍ
[52] উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণীসমূহে।
[52] Among Gardens and Springs;
[53] ﻳَﻠﺒَﺴﻮﻥَ ﻣِﻦ ﺳُﻨﺪُﺱٍ
ﻭَﺇِﺳﺘَﺒﺮَﻕٍ ﻣُﺘَﻘٰﺒِﻠﻴﻦَ
[53] তারা পরিধান করবে চিকন ও পুরু
রেশমীবস্ত্র, মুখোমুখি হয়ে বসবে।
[53] Dressed in fine silk and (also) in
thick silk, facing each other,
[54] ﻛَﺬٰﻟِﻚَ ﻭَﺯَﻭَّﺟﻨٰﻬُﻢ ﺑِﺤﻮﺭٍ
ﻋﻴﻦٍ
[54] এরূপই হবে এবং আমি তাদেরকে
আনতলোচনা স্ত্রী দেব।
[54] So (it will be), and We shall marry
them to Hur (fair females) with wide,
lovely eyes.
[55] ﻳَﺪﻋﻮﻥَ ﻓﻴﻬﺎ ﺑِﻜُﻞِّ ﻓٰﻜِﻬَﺔٍ
ﺀﺍﻣِﻨﻴﻦَ
[55] তারা সেখানে শান্ত মনে বিভিন্ন
ফল-মূল আনতে বলবে।
[55] They will call therein for every kind
of fruit in peace and security;
[56] ﻻ ﻳَﺬﻭﻗﻮﻥَ ﻓﻴﻬَﺎ ﺍﻟﻤَﻮﺕَ
ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻤَﻮﺗَﺔَ ﺍﻷﻭﻟﻰٰ ۖ ﻭَﻭَﻗﻯٰﻬُﻢ
ﻋَﺬﺍﺏَ ﺍﻟﺠَﺤﻴﻢِ
[56] তারা সেখানে মৃত্যু আস্বাদন
করবে না, প্রথম মৃত্যু ব্যতীত এবং
আপনার পালনকর্তা তাদেরকে
জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা
করবেন।
[56] They will never taste death therein
except the first death (of this world), and
He will save them from the torment of
the blazing Fire,
[57] ﻓَﻀﻠًﺎ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻚَ ۚ ﺫٰﻟِﻚَ ﻫُﻮَ
ﺍﻟﻔَﻮﺯُ ﺍﻟﻌَﻈﻴﻢُ
[57] আপনার পালনকর্তার কৃপায় এটাই
মহা সাফল্য।
[57] As a Bounty from your Lord! That
will be the supreme success!
[58] ﻓَﺈِﻧَّﻤﺎ ﻳَﺴَّﺮﻧٰﻪُ ﺑِﻠِﺴﺎﻧِﻚَ
ﻟَﻌَﻠَّﻬُﻢ ﻳَﺘَﺬَﻛَّﺮﻭﻥَ
[58] আমি আপনার ভাষায় কোরআনকে
সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা স্মরণ
রাখে।
[58] Certainly, We have made this
(Qur’ân) easy in your tongue, in order
that they may remember.
[59] ﻓَﺎﺭﺗَﻘِﺐ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻣُﺮﺗَﻘِﺒﻮﻥَ
[59] অতএব, আপনি অপেক্ষা করুন,
তারাও অপেক্ষা করছে।
[59] Wait then (O Muhammad SAW);
Verily, they (too) are waiting.
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah Al Shura Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. হা-মীম। 2. আইন, সীন ক্বা-ফ। 3. এমনিভাবে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ আপনার প্রতি ও আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহী প্রেরণ করেন। 4. নভোমন্ডলে যা কিছু আছে এবং ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সমস্তই তাঁর। তিনি সমুন্নত, মহান। 5. আকাশ উপর থেকে ফেটে পড়ার উপক্রম হয় আর তখন ফেরেশতাগণ তাদের পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং পৃথিবীবাসীদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে। শুনে রাখ, আল্লাহই ক্ষমাশীল, পরম করুনাময়। 6. যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখেন। আপনার উপর নয় তাদের দায়- দায়িত্ব। 7. এমনি ভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে। 8. আল্লাহ ইচ্ছা করলে সমস্ত লোককে এক দলে পরিণত করতে পারেন। কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করেন। আর যালেমদের কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী নেই। 9. তারা কি আল্লাহ ব্যতীত অপরকে অভিভাবক স্থির করেছে? পরন্তু আল্লাহই তো একমাত্র অভিভাবক। তিনি মৃতদেরকে জীবিত করেন। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। 10. তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে সোপর্দ। ইনিই আল্লাহ আমার পালনকর্তা আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। 11. তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন। 12. আকাশ ও পৃথিবীর চাবি তাঁর কাছে। তিনি যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী। 13. তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নিধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। আপনি মূশরেকদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আমন্ত্রণ জানান, তা তাদের কাছে দুঃসাধ্য বলে মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে পথ প্রদর্শন করেন। 14. তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই তারা পারস্পরিক বিভেদের কারণে মতভেদ করেছে। যদি আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ফয়সালা হয়ে যেত। তাদের পর যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছে, তারা অস্বস্তিকর সন্দেহে পতিত রয়েছে। 15. সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল থাকুন; আপনি তাদের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করবেন না। বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তণ হবে। 16. আল্লাহর দ্বীন মেনে নেয়ার পর যারা সে সম্পর্কে বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়, তাদের বিতর্ক তাদের পালনকর্তার কাছে বাতিল, তাদের প্রতি আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব। 17. আল্লাহই সত্যসহ কিতাব ও ইনসাফের মানদন্ড নাযিল করেছেন। আপনি কি জানেন, সম্ভবতঃ কেয়ামত নিকটবর্তী। 18. যারা তাতে বিশ্বাস করে না তারা তাকে তড়িৎ কামনা করে। আর যারা বিশ্বাস করে, তারা তাকে ভয় করে এবং জানে যে, তা সত্য। জেনে রাখ, যারা কেয়ামত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা দূরবর্তী পথ ভ্রষ্টতায় লিপ্ত রয়েছে। 19. আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা, রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী। 20. যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না। 21. তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। 22. আপনি কাফেরদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে ভীতসন্ত্রস্ত দেখবেন। তাদের কর্মের শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর পতিত হবে। আর যারা মুমিন ও সৎকর্মী, তারা জান্নাতের উদ্যানে থাকবে। তারা যা চাইবে, তাই তাদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে। এটাই বড় পুরস্কার। 23. এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী। 24. নাকি তারা একথা বলে যে, তিনি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করেছেন? আল্লাহ ইচ্ছা করলে আপনার অন্তরে মোহর এঁটে দিতেন। বস্তুতঃ তিনি মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন এবং নিজ বাক্য দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয় তিনি অন্তর্নিহিত বিষয় সম্পর্কে সর্বিশেষ জ্ঞাত। 25. তিনি তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন পাপসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমাদের কৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। 26. তিনি মুমিন ও সৎকর্মীদের দোয়া শোনেন এবং তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। 27. যদি আল্লাহ তাঁর সকল বান্দাকে প্রচুর রিযিক দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ নাযিল করেন। নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের খবর রাখেন ও সবকিছু দেখেন। 28. মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পরে তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং স্বীয় রহমত ছড়িয়ে দেন। তিনিই কার্যনির্বাহী, প্রশংসিত। 29. তাঁর এক নিদর্শন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি এবং এতদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীব-জন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি যখন ইচ্ছা এগুলোকে একত্রিত করতে সক্ষম। 30. তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন। 31. তোমরা পৃথিবীতে পলায়ন করে আল্লাহকে অক্ষম করতে পার না এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন কার্যনির্বাহী নেই, সাহায্যকারীও নেই। 32. সমুদ্রে ভাসমান পর্বতসম জাহাজসমূহ তাঁর অন্যতম নিদর্শন। 33. তিনি ইচ্ছা করলে বাতাসকে থামিয়ে দেন। তখন জাহাজসমূহ সমুদ্রপৃষ্ঠে নিশ্চল হয়ে পড়ে যেন পাহাড়। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক সবরকারী, কৃতজ্ঞের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। 34. অথবা তাদের কৃতকর্মের জন্যে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেন এবং অনেককে ক্ষমাও করে দেন। 35. এবং যারা আমার ক্ষমতা সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা যেন জানে যে, তাদের কোন পলায়নের জায়গা নেই। 36. অতএব, তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী তাদের জন্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করে। 37. যারা বড় গোনাহ ও অশ্লীল কার্য থেকে বেঁচে থাকে এবং ক্রোধাম্বিত হয়েও ক্ষমা করে, 38. যারা তাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য করে, নামায কায়েম করে; পারস্পরিক পরামর্শক্রমে কাজ করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে, 39. যারা আক্রান্ত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে। 40. আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। যে ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে; নিশ্চয় তিনি অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন নাই। 41. নিশ্চয় যে অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তাদের বিরুদ্ধেও কোন অভিযোগ নেই। 42. অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের উপর অত্যাচার চালায় এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। 43. অবশ্যই যে সবর করে ও ক্ষমা করে নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ। 44. আল্লাহ যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তার জন্যে তিনি ব্যতীত কোন কার্যনির্বাহী নেই। পাপাচারীরা যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন আপনি তাদেরকে দেখবেন যে, তারা বলছে আমাদের ফিরে যাওয়ার কোন উপায় আছে কি? 45. জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করার সময় আপনি তাদেরকে দেখবেন, অপমানে অবনত এবং অর্ধ নিমীলিত দৃষ্টিতে তাকায়। মুমিনরা বলবে, কেয়ামতের দিন ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা নিজেদের ও তাদের পরিবার-পরিজনের ক্ষতি সাধন করেছে। শুনে রাখ, পাপাচারীরা স্থায়ী আযাবে থাকবে। 46. আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না, যে তাদেরকে সাহায্য করবে। আল্লাহ তা’আলা যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন গতি নেই। 47. আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে অবশ্যম্ভাবী দিবস আসার পূর্বে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য কর। সেদিন তোমাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তা নিরোধকারী কেউ থাকবে না। 48. যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনাকে আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই, তখন সে উল্লসিত, আর যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের কোন অনিষ্ট ঘটে, তখন মানুষ খুব অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়। 49. নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তা’আলারই। তিনি যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। 50. অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল। 51. কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়। 52. এমনিভাবে আমি আপনার কাছে এক ফেরেশতা প্রেরণ করেছি আমার আদেশক্রমে। আপনি জানতেন না, কিতাব কি এবং ঈমান কি? কিন্তু আমি একে করেছি নূর, যাদ্দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করি। নিশ্চয় আপনি সরল পথ প্রদর্শন করেন- 53. আল্লাহর পথ। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল যা কিছু আছে, সব তাঁরই। শুনে রাখ, আল্লাহ তা’আলার কাছেই সব বিষয়ে পৌঁছে। *********

41. সুরাহ ফুযযিলাত/হা মিম -সাজদাহ(1-54)

 

সুরাহ ফুযযিলাত/হা মিম -সাজদাহ(1-54)


ﺑِﺴﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ – শুরু
করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম
করুণাময়, অতি দয়ালু
[1] ﺣﻢ
[1] হা-মীম।
[1] HâMîm [These letters are one of the
miracles of the Qur’ân, and none but
Allâh (Alone) knows their meanings.]
[2] ﺗَﻨﺰﻳﻞٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺮَّﺣﻤٰﻦِ
ﺍﻟﺮَّﺣﻴﻢِ
[2] এটা অবতীর্ণ পরম করুণাময়, দয়ালুর
পক্ষ থেকে।
[2] A revelation from (Allâh) the Most
Gracious, the Most Merciful.
[3] ﻛِﺘٰﺐٌ ﻓُﺼِّﻠَﺖ ﺀﺍﻳٰﺘُﻪُ
ﻗُﺮﺀﺍﻧًﺎ ﻋَﺮَﺑِﻴًّﺎ ﻟِﻘَﻮﻡٍ ﻳَﻌﻠَﻤﻮﻥَ
[3] এটা কিতাব, এর আয়াতসমূহ
বিশদভাবে বিবৃত আরবী কোরআনরূপে
জ্ঞানী লোকদের জন্য।
[3] A Book whereof the Verses are
explained in detail — a Qur’ân in Arabic
for people who know.
[4] ﺑَﺸﻴﺮًﺍ ﻭَﻧَﺬﻳﺮًﺍ ﻓَﺄَﻋﺮَﺽَ
ﺃَﻛﺜَﺮُﻫُﻢ ﻓَﻬُﻢ ﻻ ﻳَﺴﻤَﻌﻮﻥَ
[4] সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে,
অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ
ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা শুনে না।
[4] Giving glad tidings [of Paradise to the
one who believes in the Oneness of Allâh
(i.e. Islâmic Monotheism) and fears Allâh
much (abstains from all kinds of sins and
evil deeds) and loves Allâh much
(performing all kinds of good deeds
which He has ordained)], and warning
(of punishment in the Hell Fire to the
one who disbelieves in the Oneness of
Allâh), but most of them turn away, so
they hear not.
[5] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻗُﻠﻮﺑُﻨﺎ ﻓﻰ ﺃَﻛِﻨَّﺔٍ
ﻣِﻤّﺎ ﺗَﺪﻋﻮﻧﺎ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻭَﻓﻰ
ﺀﺍﺫﺍﻧِﻨﺎ ﻭَﻗﺮٌ ﻭَﻣِﻦ ﺑَﻴﻨِﻨﺎ
ﻭَﺑَﻴﻨِﻚَ ﺣِﺠﺎﺏٌ ﻓَﺎﻋﻤَﻞ ﺇِﻧَّﻨﺎ
ﻋٰﻤِﻠﻮﻥَ
[5] তারা বলে আপনি যে বিষয়ের
দিকে আমাদের কে দাওয়াত দেন, সে
বিষয়ে আমাদের অন্তর আবরণে আবৃত,
আমাদের কর্ণে আছে বোঝা এবং
আমাদের ও আপনার মাঝখানে আছে
অন্তরাল। অতএব, আপনি আপনার কাজ
করুন এবং আমরা আমাদের কাজ করি।
[5] And they say: “Our hearts are under
coverings (screened) from that to which
you invite us, and in our ears is
deafness, and between us and you is a
screen, so work you (on your way);
verily, we are working (on our way).”
[6] ﻗُﻞ ﺇِﻧَّﻤﺎ ﺃَﻧﺎ۠ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِﺜﻠُﻜُﻢ
ﻳﻮﺣﻰٰ ﺇِﻟَﻰَّ ﺃَﻧَّﻤﺎ ﺇِﻟٰﻬُﻜُﻢ ﺇِﻟٰﻪٌ
ﻭٰﺣِﺪٌ ﻓَﺎﺳﺘَﻘﻴﻤﻮﺍ ﺇِﻟَﻴﻪِ
ﻭَﺍﺳﺘَﻐﻔِﺮﻭﻩُ ۗ ﻭَﻭَﻳﻞٌ
ﻟِﻠﻤُﺸﺮِﻛﻴﻦَ
[6] বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ,
আমার প্রতি ওহী আসে যে, তোমাদের
মাবুদ একমাত্র মাবুদ, অতএব তাঁর দিকেই
সোজা হয়ে থাক এবং তাঁর কাছে
ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরিকদের
জন্যে রয়েছে দুর্ভোগ,
[6] Say (O Muhammad SAW): “I am only
a human being like you. It is revealed to
me that your Ilâh (God) is One Ilâh (God –
Allâh), therefore take Straight Path to
Him (with true Faith — Islâmic
Monotheism) and obedience to Him, and
seek forgiveness of Him. And woe to Al-
Mushrikûn (the polytheists, idolaters,
disbelievers in the Oneness of Allâh).
[7] ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻻ ﻳُﺆﺗﻮﻥَ ﺍﻟﺰَّﻛﻮٰﺓَ
ﻭَﻫُﻢ ﺑِﺎﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﻫُﻢ ﻛٰﻔِﺮﻭﻥَ
[7] যারা যাকাত দেয় না এবং
পরকালকে অস্বীকার করে।
[7] Those who give not the Zakât and
they are disbelievers in the Hereafter.
[8] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼّٰﻠِﺤٰﺖِ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﺟﺮٌ ﻏَﻴﺮُ
ﻣَﻤﻨﻮﻥٍ
[8] নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও
সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে
অফুরন্ত পুরস্কার।
[8] Truly, those who believe (in the
Oneness of Allâh and in His Messenger
Muhammad SAW — Islâmic Monotheism)
and do righteous good deeds, for them
will be an endless reward that will never
stop (i.e. Paradise).
[9] ۞ ﻗُﻞ ﺃَﺋِﻨَّﻜُﻢ ﻟَﺘَﻜﻔُﺮﻭﻥَ
ﺑِﺎﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻷَﺭﺽَ ﻓﻰ
ﻳَﻮﻣَﻴﻦِ ﻭَﺗَﺠﻌَﻠﻮﻥَ ﻟَﻪُ ﺃَﻧﺪﺍﺩًﺍ ۚ
ﺫٰﻟِﻚَ ﺭَﺏُّ ﺍﻟﻌٰﻠَﻤﻴﻦَ
[9] বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে
অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি
করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি
তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র
বিশ্বের পালনকর্তা।
[9] Say (O Muhammad SAW): “Do you
verily disbelieve in Him Who created the
earth in two Days And you set up rivals
(in worship) with Him? That is the Lord
of the ‘Alamîn (mankind, jinn and all
that exists).
[10] ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻓﻴﻬﺎ ﺭَﻭٰﺳِﻰَ ﻣِﻦ
ﻓَﻮﻗِﻬﺎ ﻭَﺑٰﺮَﻙَ ﻓﻴﻬﺎ ﻭَﻗَﺪَّﺭَ ﻓﻴﻬﺎ
ﺃَﻗﻮٰﺗَﻬﺎ ﻓﻰ ﺃَﺭﺑَﻌَﺔِ ﺃَﻳّﺎﻡٍ ﺳَﻮﺍﺀً
ﻟِﻠﺴّﺎﺋِﻠﻴﻦَ
[10] তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল
পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে
কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার
দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের
ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল
জিজ্ঞাসুদের জন্যে।
[10] He placed therein (i.e. the earth)
firm mountains from above it, and He
blessed it, and measured therein its
sustenance (for its dwellers) in four Days
equal (i.e. all these four ‘days’ were
equal in the length of time), for all those
who ask (about its creation).
[11] ﺛُﻢَّ ﺍﺳﺘَﻮﻯٰ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀِ
ﻭَﻫِﻰَ ﺩُﺧﺎﻥٌ ﻓَﻘﺎﻝَ ﻟَﻬﺎ
ﻭَﻟِﻸَﺭﺽِ ﺍﺋﺘِﻴﺎ ﻃَﻮﻋًﺎ ﺃَﻭ
ﻛَﺮﻫًﺎ ﻗﺎﻟَﺘﺎ ﺃَﺗَﻴﻨﺎ ﻃﺎﺋِﻌﻴﻦَ
[11] অতঃপর তিনি আকাশের দিকে
মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ,
অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে
বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায়
অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা
স্বেচ্ছায় আসলাম।
[11] Then He rose over (Istawâ) towards
the heaven when it was smoke, and said
to it and to the earth: “Come both of you
willingly or unwillingly.” They both said:
“We come, willingly.”
[12] ﻓَﻘَﻀﻯٰﻬُﻦَّ ﺳَﺒﻊَ ﺳَﻤٰﻮﺍﺕٍ
ﻓﻰ ﻳَﻮﻣَﻴﻦِ ﻭَﺃَﻭﺣﻰٰ ﻓﻰ ﻛُﻞِّ
ﺳَﻤﺎﺀٍ ﺃَﻣﺮَﻫﺎ ۚ ﻭَﺯَﻳَّﻨَّﺎ ﺍﻟﺴَّﻤﺎﺀَ
ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﺑِﻤَﺼٰﺒﻴﺢَ ﻭَﺣِﻔﻈًﺎ ۚ
ﺫٰﻟِﻚَ ﺗَﻘﺪﻳﺮُ ﺍﻟﻌَﺰﻳﺰِ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢِ
[12] অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে
দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং
প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ
করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে
প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও
সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী
সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।
[12] Then He completed and finished
from their creation (as) seven heavens in
two Days and He made in each heaven
its affair. And We adorned the nearest
(lowest) heaven with lamps (stars) to be
an adornment as well as to guard (from
the devils by using them as missiles
against the devils). Such is the Decree of
Him the All-Mighty, the All-Knower.
[13] ﻓَﺈِﻥ ﺃَﻋﺮَﺿﻮﺍ ﻓَﻘُﻞ
ﺃَﻧﺬَﺭﺗُﻜُﻢ ﺻٰﻌِﻘَﺔً ﻣِﺜﻞَ ﺻٰﻌِﻘَﺔِ
ﻋﺎﺩٍ ﻭَﺛَﻤﻮﺩَ
[13] অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে
নেয়, তবে বলুন, আমি তোমাদেরকে
সতর্ক করলাম এক কঠোর আযাব
সম্পর্কে আদ ও সামুদের আযাবের মত।
[13] But if they turn away, then say (O
Muhammad SAW): “I have warned you
of a Sâ’iqah (a destructive awful cry,
torment, hit, a thunderbolt) like the
Sâ’iqah which overtook ‘Ad and Thamûd
(people).”
[14] ﺇِﺫ ﺟﺎﺀَﺗﻬُﻢُ ﺍﻟﺮُّﺳُﻞُ ﻣِﻦ
ﺑَﻴﻦِ ﺃَﻳﺪﻳﻬِﻢ ﻭَﻣِﻦ ﺧَﻠﻔِﻬِﻢ ﺃَﻟّﺎ
ﺗَﻌﺒُﺪﻭﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪَ ۖ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻮ ﺷﺎﺀَ
ﺭَﺑُّﻨﺎ ﻟَﺄَﻧﺰَﻝَ ﻣَﻠٰﺌِﻜَﺔً ﻓَﺈِﻧّﺎ ﺑِﻤﺎ
ﺃُﺭﺳِﻠﺘُﻢ ﺑِﻪِ ﻛٰﻔِﺮﻭﻥَ
[14] যখন তাদের কাছে রসূলগণ
এসেছিলেন সম্মুখ দিক থেকে এবং
পিছন দিক থেকে এ কথা বলতে যে,
তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও পূজা
করো না। তারা বলেছিল, আমাদের
পালনকর্তা ইচ্ছা করলে অবশ্যই
ফেরেশতা প্রেরণ করতেন, অতএব,
আমরা তোমাদের আনীত বিষয় অমান্য
করলাম।
[14] When the Messengers came to them,
from before them and behind them
(saying): “Worship none but Allâh” They
said: “If our Lord had so willed, He
would surely have sent down the angels.
So indeed we disbelieve in that with
which you have been sent.”
[15] ﻓَﺄَﻣّﺎ ﻋﺎﺩٌ ﻓَﺎﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﻓِﻰ
ﺍﻷَﺭﺽِ ﺑِﻐَﻴﺮِ ﺍﻟﺤَﻖِّ ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ
ﻣَﻦ ﺃَﺷَﺪُّ ﻣِﻨّﺎ ﻗُﻮَّﺓً ۖ ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﺮَﻭﺍ
ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻘَﻬُﻢ ﻫُﻮَ ﺃَﺷَﺪُّ
ﻣِﻨﻬُﻢ ﻗُﻮَّﺓً ۖ ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﻳَﺠﺤَﺪﻭﻥَ
[15] যারা ছিল আদ, তারা পৃথিবীতে
অযথা অহংকার করল এবং বলল,
আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর কে?
তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, যে আল্লাহ
তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি
তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর ?
বস্তুতঃ তারা আমার নিদর্শনাবলী
অস্বীকার করত।
[15] As for ‘Ad, they were arrogant in the
land without right, and they said: “Who
is mightier than us in strength?” See they
not that Allâh, Who created them was
mightier in strength than them. And they
used to deny Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, revelations)!
[16] ﻓَﺄَﺭﺳَﻠﻨﺎ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺭﻳﺤًﺎ
ﺻَﺮﺻَﺮًﺍ ﻓﻰ ﺃَﻳّﺎﻡٍ ﻧَﺤِﺴﺎﺕٍ
ﻟِﻨُﺬﻳﻘَﻬُﻢ ﻋَﺬﺍﺏَ ﺍﻟﺨِﺰﻯِ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ۖ ﻭَﻟَﻌَﺬﺍﺏُ
ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ﺃَﺧﺰﻯٰ ۖ ﻭَﻫُﻢ ﻻ
ﻳُﻨﺼَﺮﻭﻥَ
[16] অতঃপর আমি তাদেরকে পার্থিব
জীবনে লাঞ্ছনার আযাব আস্বাদন
করানোর জন্যে তাদের উপর প্রেরণ
করলাম ঝঞ্ঝাবায়ু বেশ কতিপয় অশুভ
দিনে। আর পরকালের আযাব তো আরও
লাঞ্ছনাকর এমতাবস্থায় যে, তারা
সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
[16] So We sent upon them furious wind
in days of evil omen (for them) that We
might give them a taste of disgracing
torment in this present worldly life, but
surely the torment of the Hereafter will
be more disgracing, and they will never
be helped.
[17] ﻭَﺃَﻣّﺎ ﺛَﻤﻮﺩُ ﻓَﻬَﺪَﻳﻨٰﻬُﻢ
ﻓَﺎﺳﺘَﺤَﺒُّﻮﺍ ﺍﻟﻌَﻤﻰٰ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻬُﺪﻯٰ ﻓَﺄَﺧَﺬَﺗﻬُﻢ ﺻٰﻌِﻘَﺔُ
ﺍﻟﻌَﺬﺍﺏِ ﺍﻟﻬﻮﻥِ ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﻜﺴِﺒﻮﻥَ
[17] আর যারা সামূদ, আমি তাদেরকে
প্রদর্শন করেছিলাম, অতঃপর তারা
সৎপথের পরিবর্তে অন্ধ থাকাই পছন্দ
করল। অতঃপর তাদের কৃতকর্মের কারণে
তাদেরকে অবমাননাকর আযাবের বিপদ
এসে ধৃত করল।
[17] And as for Thamûd, We showed and
made clear to them the Path of Truth
(Islâmic Monotheism) through Our
Messenger, (i.e. showed them the way of
success), but they preferred blindness to
guidance, so the Sâ’iqah (a destructive
awful cry, torment, hit, a thunderbolt) of
disgracing torment seized them, because
of what they used to earn.
[18] ﻭَﻧَﺠَّﻴﻨَﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ
ﻭَﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﺘَّﻘﻮﻥَ
[18] যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল ও
সাবধানে চলত, আমি তাদেরকে উদ্ধার
করলাম।
[18] And We saved those who believed
and used to fear Allâh, keep their duty to
Him and avoid evil.
[19] ﻭَﻳَﻮﻡَ ﻳُﺤﺸَﺮُ ﺃَﻋﺪﺍﺀُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﻓَﻬُﻢ ﻳﻮﺯَﻋﻮﻥَ
[19] যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে
অগ্নিকুন্ডের দিকে ঠেলে নেওয়া হবে।
এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন
দলে।
[19] And (remember) the Day that the
enemies of Allâh will be gathered to the
Fire, then they will be driven [(to the
fire), former ones being withheld till
their later ones will join them].
[20] ﺣَﺘّﻰٰ ﺇِﺫﺍ ﻣﺎ ﺟﺎﺀﻭﻫﺎ
ﺷَﻬِﺪَ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﺳَﻤﻌُﻬُﻢ
ﻭَﺃَﺑﺼٰﺮُﻫُﻢ ﻭَﺟُﻠﻮﺩُﻫُﻢ ﺑِﻤﺎ
ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[20] তারা যখন জাহান্নামের কাছে
পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চক্ষু ও ত্বক
তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে।
[20] Till, when they reach it (Hell-fire),
their hearing (ears) and their eyes, and
their skins will testify against them as to
what they used to do.
[21] ﻭَﻗﺎﻟﻮﺍ ﻟِﺠُﻠﻮﺩِﻫِﻢ ﻟِﻢَ
ﺷَﻬِﺪﺗُﻢ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ۖ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃَﻧﻄَﻘَﻨَﺎ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﻧﻄَﻖَ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲﺀٍ
ﻭَﻫُﻮَ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺮَّﺓٍ ﻭَﺇِﻟَﻴﻪِ
ﺗُﺮﺟَﻌﻮﻥَ
[21] তারা তাদের ত্বককে বলবে,
তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য
দিলে কেন? তারা বলবে, যে আল্লাহ
সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি
আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন।
তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি
করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে
প্রত্যাবর্তিত হবে।
[21] And they will say to their skins,
“Why do you testify against us?” They
will say: “Allâh has caused us to speak,”
— He causes all things to speak, and He
created you the first time, and to Him
you are made to return.”
[22] ﻭَﻣﺎ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗَﺴﺘَﺘِﺮﻭﻥَ ﺃَﻥ
ﻳَﺸﻬَﺪَ ﻋَﻠَﻴﻜُﻢ ﺳَﻤﻌُﻜُﻢ ﻭَﻻ
ﺃَﺑﺼٰﺮُﻛُﻢ ﻭَﻻ ﺟُﻠﻮﺩُﻛُﻢ ﻭَﻟٰﻜِﻦ
ﻇَﻨَﻨﺘُﻢ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻻ ﻳَﻌﻠَﻢُ ﻛَﺜﻴﺮًﺍ
ﻣِﻤّﺎ ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[22] তোমাদের কান, তোমাদের চক্ষু
এবং তোমাদের ত্বক তোমাদের
বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে না ধারণার
বশবর্তী হয়ে তোমরা তাদের কাছে
কিছু গোপন করতে না। তবে
তোমাদের ধারণা ছিল যে, তোমরা
যা কর তার অনেক কিছুই আল্লাহ
জানেন না।
[22] And you have not been hiding
yourselves (in the world), lest your ears,
and your eyes, and your skins should
testify against you, but you thought that
Allâh knew not much of what you were
doing.
[23] ﻭَﺫٰﻟِﻜُﻢ ﻇَﻨُّﻜُﻢُ ﺍﻟَّﺬﻯ
ﻇَﻨَﻨﺘُﻢ ﺑِﺮَﺑِّﻜُﻢ ﺃَﺭﺩﻯٰﻜُﻢ
ﻓَﺄَﺻﺒَﺤﺘُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺨٰﺴِﺮﻳﻦَ
[23] তোমাদের পালনকর্তা সম্বন্ধে
তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে
ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা
ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।
[23] And that thought of yours which you
thought about your Lord, has brought
you to destruction, and you have become
(this Day) of those utterly lost!
[24] ﻓَﺈِﻥ ﻳَﺼﺒِﺮﻭﺍ ﻓَﺎﻟﻨّﺎﺭُ
ﻣَﺜﻮًﻯ ﻟَﻬُﻢ ۖ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﺴﺘَﻌﺘِﺒﻮﺍ
ﻓَﻤﺎ ﻫُﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﻌﺘَﺒﻴﻦَ
[24] অতঃপর যদি তারা সবর করে, তবুও
জাহান্নামই তাদের আবাসস্থল। আর
যদি তারা ওযরখাহী করে, তবে তাদের
ওযর কবুল করা হবে না।
[24] Then, if they bear the torment
patiently, then the Fire is the home for
them, and if they seek to please Allâh,
yet they are not of those who will ever be
allowed to please Allâh.
[25] ۞ ﻭَﻗَﻴَّﻀﻨﺎ ﻟَﻬُﻢ ﻗُﺮَﻧﺎﺀَ
ﻓَﺰَﻳَّﻨﻮﺍ ﻟَﻬُﻢ ﻣﺎ ﺑَﻴﻦَ ﺃَﻳﺪﻳﻬِﻢ
ﻭَﻣﺎ ﺧَﻠﻔَﻬُﻢ ﻭَﺣَﻖَّ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ
ﺍﻟﻘَﻮﻝُ ﻓﻰ ﺃُﻣَﻢٍ ﻗَﺪ ﺧَﻠَﺖ ﻣِﻦ
ﻗَﺒﻠِﻬِﻢ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠِﻦِّ ﻭَﺍﻹِﻧﺲِ ۖ
ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺧٰﺴِﺮﻳﻦَ
[25] আমি তাদের পেছনে সঙ্গী
লাগিয়ে দিয়েছিলাম, অতঃপর
সঙ্গীরা তাদের অগ্র-পশ্চাতের আমল
তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে
দিয়েছিল। তাদের ব্যাপারেও শাস্তির
আদেশ বাস্তবায়িত হল, যা
বাস্তবায়িত হয়েছিল তাদের পূর্ববতী
জিন ও মানুষের ব্যাপারে। নিশ্চয়
তারা ক্ষতিগ্রস্ত।
[25] And We have assigned them (devils)
intimate companions (in this world),
who have made fair-seeming to them,
what was before them (evil deeds which
they were doing in the present worldly
life and disbelief in the Reckoning and
the Resurrection) and what was behind
them (denial of the matters in the
coming life of the Hereafter as regards
punishment or reward). And the Word
(i.e. the torment) is justified against
them as it was justified against those
who were among the previous
generations of jinn and men that had
passed away before them. Indeed they
(all) were the losers.
[26] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﻻ
ﺗَﺴﻤَﻌﻮﺍ ﻟِﻬٰﺬَﺍ ﺍﻟﻘُﺮﺀﺍﻥِ ﻭَﺍﻟﻐَﻮﺍ
ﻓﻴﻪِ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢ ﺗَﻐﻠِﺒﻮﻥَ
[26] আর কাফেররা বলে, তোমরা এ
কোরআন শ্রবণ করো না এবং এর
আবৃত্তিতে হঞ্জগোল সৃষ্টি কর, যাতে
তোমরা জয়ী হও।
[26] And those who disbelieve say:
“Listen not to this Qur’ân, and make
noise in the midst of its (recitation) that
you may overcome.”
[27] ﻓَﻠَﻨُﺬﻳﻘَﻦَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ
ﻋَﺬﺍﺑًﺎ ﺷَﺪﻳﺪًﺍ ﻭَﻟَﻨَﺠﺰِﻳَﻨَّﻬُﻢ
ﺃَﺳﻮَﺃَ ﺍﻟَّﺬﻯ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳَﻌﻤَﻠﻮﻥَ
[27] আমি অবশ্যই কাফেরদেরকে কঠিন
আযাব আস্বাদন করাব এবং আমি
অবশ্যই তাদেরকে তাদের মন্দ ও হীন
কাজের প্রতিফল দেব।
[27] But surely, We shall cause those who
disbelieve to taste a severe torment, and
certainly, We shall requite them the
worst of what they used to do.
[28] ﺫٰﻟِﻚَ ﺟَﺰﺍﺀُ ﺃَﻋﺪﺍﺀِ ﺍﻟﻠَّﻪِ
ﺍﻟﻨّﺎﺭُ ۖ ﻟَﻬُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﺩﺍﺭُ ﺍﻟﺨُﻠﺪِ ۖ
ﺟَﺰﺍﺀً ﺑِﻤﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﺑِـٔﺎﻳٰﺘِﻨﺎ
ﻳَﺠﺤَﺪﻭﻥَ
[28] এটা আল্লাহর শত্রুদের শাস্তি-
জাহান্নাম। তাতে তাদের জন্যে
রয়েছে স্থায়ী আবাস, আমার
আয়াতসমূহ অস্বীকার করার
প্রতিফলস্বরূপ।
[28] That is the recompense of the
enemies of Allâh: the Fire. Therein will
be for them the eternal home, a
(deserving) recompense for that they
used to deny Our Ayât (proofs,
evidences, verses, lessons, signs,
revelations, etc.).
[29] ﻭَﻗﺎﻝَ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺭَﺑَّﻨﺎ
ﺃَﺭِﻧَﺎ ﺍﻟَّﺬَﻳﻦِ ﺃَﺿَﻠّﺎﻧﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺠِﻦِّ
ﻭَﺍﻹِﻧﺲِ ﻧَﺠﻌَﻠﻬُﻤﺎ ﺗَﺤﺖَ
ﺃَﻗﺪﺍﻣِﻨﺎ ﻟِﻴَﻜﻮﻧﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻷَﺳﻔَﻠﻴﻦَ
[29] কাফেররা বলবে, হে আমাদের
পালনকর্তা! যেসব জিন ও মানুষ
আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল,
তাদেরকে দেখিয়ে দাও, আমরা
তাদেরকে পদদলিত করব, যাতে তারা
যথেষ্ট অপমানিত হয়।
[29] And those who disbelieve will say:
“Our Lord! Show us those among jinn
and men who led us astray, that we may
crush them under our feet so that they
become the lowest.”
[30] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺛُﻢَّ ﺍﺳﺘَﻘٰﻤﻮﺍ ﺗَﺘَﻨَﺰَّﻝُ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢُ
ﺍﻟﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔُ ﺃَﻟّﺎ ﺗَﺨﺎﻓﻮﺍ ﻭَﻻ
ﺗَﺤﺰَﻧﻮﺍ ﻭَﺃَﺑﺸِﺮﻭﺍ ﺑِﺎﻟﺠَﻨَّﺔِ
ﺍﻟَّﺘﻰ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺗﻮﻋَﺪﻭﻥَ
[30] নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের
পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই
অবিচল থাকে, তাদের কাছে
ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে,
তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো
না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত
জান্নাতের সুসংবাদ শোন।
[30] Verily, those who say: “Our Lord is
Allâh (Alone),” and then they stand firm,
on them the angels will descend (at the
time of their death) (saying): “Fear not,
nor grieve! But receive the glad tidings
of Paradise which you have been
promised!
[31] ﻧَﺤﻦُ ﺃَﻭﻟِﻴﺎﺅُﻛُﻢ ﻓِﻰ
ﺍﻟﺤَﻴﻮٰﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧﻴﺎ ﻭَﻓِﻰ
ﺍﻝﺀﺍﺧِﺮَﺓِ ۖ ﻭَﻟَﻜُﻢ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﺎ
ﺗَﺸﺘَﻬﻰ ﺃَﻧﻔُﺴُﻜُﻢ ﻭَﻟَﻜُﻢ ﻓﻴﻬﺎ
ﻣﺎ ﺗَﺪَّﻋﻮﻥَ
[31] ইহকালে ও পরকালে আমরা
তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের
জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং
সেখানে তোমাদের জন্যে আছে
তোমরা দাবী কর।
[31] “We have been your friends in the
life of this world and are (so) in the
Hereafter. Therein you shall have (all)
that your inner-selves desire, and
therein you shall have (all) for which you
ask.
[32] ﻧُﺰُﻟًﺎ ﻣِﻦ ﻏَﻔﻮﺭٍ ﺭَﺣﻴﻢٍ
[32] এটা ক্ষমাশীল করুনাময়ের পক্ষ
থেকে সাদর আপ্যায়ন।
[32] “An entertainment from (Allâh), the
Oft-Forgiving, Most Merciful.”
[33] ﻭَﻣَﻦ ﺃَﺣﺴَﻦُ ﻗَﻮﻟًﺎ ﻣِﻤَّﻦ
ﺩَﻋﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻋَﻤِﻞَ ﺻٰﻠِﺤًﺎ
ﻭَﻗﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻨﻰ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻤُﺴﻠِﻤﻴﻦَ
[33] যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়,
সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন
আজ্ঞাবহ, তার কথা অপেক্ষা উত্তম
কথা আর কার?
[33] And who is better in speech than he
who [says: “My Lord is Allâh (believes in
His Oneness),” and then stands firm (acts
upon His Order), and] invites (men) to
Allâh’s (Islâmic Monotheism), and does
righteous deeds, and says: “I am one of
the Muslims.”
[34] ﻭَﻻ ﺗَﺴﺘَﻮِﻯ ﺍﻟﺤَﺴَﻨَﺔُ ﻭَﻟَﺎ
ﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺔُ ۚ ﺍﺩﻓَﻊ ﺑِﺎﻟَّﺘﻰ ﻫِﻰَ
ﺃَﺣﺴَﻦُ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺑَﻴﻨَﻚَ
ﻭَﺑَﻴﻨَﻪُ ﻋَﺪٰﻭَﺓٌ ﻛَﺄَﻧَّﻪُ ﻭَﻟِﻰٌّ
ﺣَﻤﻴﻢٌ
[34] সমান নয় ভাল ও মন্দ। জওয়াবে তাই
বলুন যা উৎকৃষ্ট। তখন দেখবেন আপনার
সাথে যে ব্যক্তির শত্রুতা রয়েছে, সে
যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু।
[34] The good deed and the evil deed
cannot be equal. Repel (the evil) with one
which is better (i.e. Allâh orders the
faithful believers to be patient at the
time of anger, and to excuse those who
treat them badly), then verily! he,
between whom and you there was
enmity, (will become) as though he was a
close friend.
[35] ﻭَﻣﺎ ﻳُﻠَﻘّﻯٰﻬﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ
ﺻَﺒَﺮﻭﺍ ﻭَﻣﺎ ﻳُﻠَﻘّﻯٰﻬﺎ ﺇِﻟّﺎ ﺫﻭ
ﺣَﻆٍّ ﻋَﻈﻴﻢٍ
[35] এ চরিত্র তারাই লাভ করে, যারা
সবর করে এবং এ চরিত্রের অধিকারী
তারাই হয়, যারা অত্যন্ত ভাগ্যবান।
[35] But none is granted it (the above
quality) except those who are patient –
and none is granted it except the owner
of the great portion (of happiness in the
Hereafter i.e. Paradise and of a high
moral character) in this world.
[36] ﻭَﺇِﻣّﺎ ﻳَﻨﺰَﻏَﻨَّﻚَ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺸَّﻴﻄٰﻦِ ﻧَﺰﻍٌ ﻓَﺎﺳﺘَﻌِﺬ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ۖ
ﺇِﻧَّﻪُ ﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤﻴﻊُ ﺍﻟﻌَﻠﻴﻢُ
[36] যদি শয়তানের পক্ষ থেকে আপনি
কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব করেন, তবে
আল্লাহর শরণাপন্ন হোন। নিশ্চয় তিনি
সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
[36] And if an evil whisper from Shaitân
(Satan) tries to turn you away (O
Muhammad SAW) (from doing good),
then seek refuge in Allâh. Verily, He is
the All-Hearer, the All-Knower.
[37] ﻭَﻣِﻦ ﺀﺍﻳٰﺘِﻪِ ﺍﻟَّﻴﻞُ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭُ
ﻭَﺍﻟﺸَّﻤﺲُ ﻭَﺍﻟﻘَﻤَﺮُ ۚ ﻻ
ﺗَﺴﺠُﺪﻭﺍ ﻟِﻠﺸَّﻤﺲِ ﻭَﻻ ﻟِﻠﻘَﻤَﺮِ
ﻭَﺍﺳﺠُﺪﻭﺍ ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺧَﻠَﻘَﻬُﻦَّ
ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﺇِﻳّﺎﻩُ ﺗَﻌﺒُﺪﻭﻥَ
[37] তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে
দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা
সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও
না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি
এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা
নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তাঁরই এবাদত
কর।
[37] And from among His Signs are the
night and the day, and the sun and the
moon. Prostrate yourselves not to the
sun nor to the moon, but prostrate
yourselves to Allâh Who created them, if
you (really) worship Him.
[38] ﻓَﺈِﻥِ ﺍﺳﺘَﻜﺒَﺮﻭﺍ ﻓَﺎﻟَّﺬﻳﻦَ
ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻚَ ﻳُﺴَﺒِّﺤﻮﻥَ ﻟَﻪُ ﺑِﺎﻟَّﻴﻞِ
ﻭَﺍﻟﻨَّﻬﺎﺭِ ﻭَﻫُﻢ ﻻ ﻳَﺴـَٔﻤﻮﻥَ ۩
[38] অতঃপর তারা যদি অহংকার করে,
তবে যারা আপনার পালনকর্তার কাছে
আছে, তারা দিবারাত্রি তাঁর
পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা
ক্লান্ত হয় না।
[38] But if they are too proud (to do so),
then there are those who are with your
Lord (angels) glorify Him night and day,
and never are they tired.
[39] ﻭَﻣِﻦ ﺀﺍﻳٰﺘِﻪِ ﺃَﻧَّﻚَ ﺗَﺮَﻯ
ﺍﻷَﺭﺽَ ﺧٰﺸِﻌَﺔً ﻓَﺈِﺫﺍ ﺃَﻧﺰَﻟﻨﺎ
ﻋَﻠَﻴﻬَﺎ ﺍﻟﻤﺎﺀَ ﺍﻫﺘَﺰَّﺕ ﻭَﺭَﺑَﺖ ۚ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻯ ﺃَﺣﻴﺎﻫﺎ ﻟَﻤُﺤﻰِ
ﺍﻟﻤَﻮﺗﻰٰ ۚ ﺇِﻧَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ
ﻗَﺪﻳﺮٌ
[39] তাঁর এক নিদর্শন এই যে, তুমি
ভূমিকে দেখবে অনুর্বর পড়ে আছে।
অতঃপর আমি যখন তার উপর বৃষ্টি বর্ষণ
করি, তখন সে শস্যশ্যামল ও স্ফীত হয়।
নিশ্চয় যিনি একে জীবিত করেন, তিনি
জীবিত করবেন মৃতদেরকেও। নিশ্চয়
তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।
[39] And among His Signs (in this), that
you see the earth barren, but when We
send down water (rain) to it, it is stirred
to life and growth (of vegetations).
Verily, He Who gives it life, surely is
Able to give life to the dead (on the Day
of Resurrection). Indeed! He is Able to do
all things.
[40] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻳُﻠﺤِﺪﻭﻥَ ﻓﻰ
ﺀﺍﻳٰﺘِﻨﺎ ﻻ ﻳَﺨﻔَﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴﻨﺎ ۗ
ﺃَﻓَﻤَﻦ ﻳُﻠﻘﻰٰ ﻓِﻰ ﺍﻟﻨّﺎﺭِ ﺧَﻴﺮٌ ﺃَﻡ
ﻣَﻦ ﻳَﺄﺗﻰ ﺀﺍﻣِﻨًﺎ ﻳَﻮﻡَ ﺍﻟﻘِﻴٰﻤَﺔِ ۚ
ﺍﻋﻤَﻠﻮﺍ ﻣﺎ ﺷِﺌﺘُﻢ ۖ ﺇِﻧَّﻪُ ﺑِﻤﺎ
ﺗَﻌﻤَﻠﻮﻥَ ﺑَﺼﻴﺮٌ
[40] নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহের
ব্যাপারে বক্রতা অবলম্বন করে, তারা
আমার কাছে গোপন নয়। যে ব্যক্তি
জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ,
না যে কেয়ামতের দিন নিরাপদে
আসবে? তোমরা যা ইচ্ছা কর, নিশ্চয়
তিনি দেখেন যা তোমরা কর।
[40] Verily, those who turn away from
Our Ayât (proofs, evidences, verses,
lessons, signs, revelations, etc. by
attacking, distorting and denying them),
are not hidden from Us. Is he who is cast
into the Fire better or he who comes
secure on the Day of Resurrection? Do
what you will. Verily! He is All-Seer of
what you do (this is a severe threat to the
disbelievers)
[41] ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺑِﺎﻟﺬِّﻛﺮِ
ﻟَﻤّﺎ ﺟﺎﺀَﻫُﻢ ۖ ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻜِﺘٰﺐٌ
ﻋَﺰﻳﺰٌ
[41] নিশ্চয় যারা কোরআন আসার পর
তা অস্বীকার করে, তাদের মধ্যে
চিন্তা-ভাবনার অভাব রয়েছে। এটা
অবশ্যই এক সম্মানিত গ্রন্থ।
[41] Verily, those who disbelieved in the
Reminder (i.e. the Qur’ân) when it came
to them (shall receive the punishment).
And verily, it is an honourable well-
fortified respected Book (because it is
Allâh’s Speech, and He has protected it
from corruption). (See v.15:9)
[42] ﻻ ﻳَﺄﺗﻴﻪِ ﺍﻟﺒٰﻄِﻞُ ﻣِﻦ ﺑَﻴﻦِ
ﻳَﺪَﻳﻪِ ﻭَﻻ ﻣِﻦ ﺧَﻠﻔِﻪِ ۖ ﺗَﻨﺰﻳﻞٌ
ﻣِﻦ ﺣَﻜﻴﻢٍ ﺣَﻤﻴﺪٍ
[42] এতে মিথ্যার প্রভাব নেই, সামনের
দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক
থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়,
প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে
অবতীর্ণ।
[42] Falsehood cannot come to it from
before it or behind it (it is) sent down by
the All-Wise, Worthy of all praise (Allâh
swt).
[43] ﻣﺎ ﻳُﻘﺎﻝُ ﻟَﻚَ ﺇِﻟّﺎ ﻣﺎ ﻗَﺪ
ﻗﻴﻞَ ﻟِﻠﺮُّﺳُﻞِ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻠِﻚَ ۚ ﺇِﻥَّ
ﺭَﺑَّﻚَ ﻟَﺬﻭ ﻣَﻐﻔِﺮَﺓٍ ﻭَﺫﻭ ﻋِﻘﺎﺏٍ
ﺃَﻟﻴﻢٍ
[43] আপনাকে তো তাই বলা হয়, যা
বলা হত পূর্ববর্তী রসূলগনকে। নিশ্চয়
আপনার পালনকর্তার কাছে রয়েছে
ক্ষমা এবং রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক
শাস্তি।
[43] Nothing is said to you (O
Muhammad SAW) except what was said
to the Messengers before you. Verily,
your Lord is the Possessor of forgiveness,
and (also) the Possessor of painful
punishment.
[44] ﻭَﻟَﻮ ﺟَﻌَﻠﻨٰﻪُ ﻗُﺮﺀﺍﻧًﺎ
ﺃَﻋﺠَﻤِﻴًّﺎ ﻟَﻘﺎﻟﻮﺍ ﻟَﻮﻻ ﻓُﺼِّﻠَﺖ
ﺀﺍﻳٰﺘُﻪُ ۖ ﺀَﺃَﻋﺠَﻤِﻰٌّ ﻭَﻋَﺮَﺑِﻰٌّ ۗ
ﻗُﻞ ﻫُﻮَ ﻟِﻠَّﺬﻳﻦَ ﺀﺍﻣَﻨﻮﺍ ﻫُﺪًﻯ
ﻭَﺷِﻔﺎﺀٌ ۖ ﻭَﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻻ ﻳُﺆﻣِﻨﻮﻥَ
ﻓﻰ ﺀﺍﺫﺍﻧِﻬِﻢ ﻭَﻗﺮٌ ﻭَﻫُﻮَ
ﻋَﻠَﻴﻬِﻢ ﻋَﻤًﻰ ۚ ﺃُﻭﻟٰﺌِﻚَ ﻳُﻨﺎﺩَﻭﻥَ
ﻣِﻦ ﻣَﻜﺎﻥٍ ﺑَﻌﻴﺪٍ
[44] আমি যদি একে অনারব ভাষায়
কোরআন করতাম, তবে অবশ্যই তারা
বলত, এর আয়াতসমূহ পরিস্কার ভাষায়
বিবৃত হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে,
কিতাব অনারব ভাষায় আর রসূল আরবী
ভাষী! বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য
হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। যারা
মুমিন নয়, তাদের কানে আছে ছিপি,
আর কোরআন তাদের জন্যে অন্ধত্ব।
তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে
আহবান করা হয়।
[44] And if We had sent this as a Qur’ân
in a foreign language (other than
Arabic), they would have said: “Why are
not its Verses explained in detail (in our
language)? What! (A Book) not in Arabic
and (the Messenger) an Arab?” Say: “It is
for those who believe, a guide and a
healing. And as for those who disbelieve,
there is heaviness (deafness) in their
ears, and it (the Qur’ân) is blindness for
them. They are those who are called
from a place far away (so they neither
listen nor understand).
[45] ﻭَﻟَﻘَﺪ ﺀﺍﺗَﻴﻨﺎ ﻣﻮﺳَﻰ
ﺍﻟﻜِﺘٰﺐَ ﻓَﺎﺧﺘُﻠِﻒَ ﻓﻴﻪِ ۗ ﻭَﻟَﻮﻻ
ﻛَﻠِﻤَﺔٌ ﺳَﺒَﻘَﺖ ﻣِﻦ ﺭَﺑِّﻚَ ﻟَﻘُﻀِﻰَ
ﺑَﻴﻨَﻬُﻢ ۚ ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻟَﻔﻰ ﺷَﻚٍّ ﻣِﻨﻪُ
ﻣُﺮﻳﺐٍ
[45] আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম,
অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়। আপনার
পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত
না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে
যেত। তারা কোরআন সমন্ধে এক
অস্বস্তিকর সন্দেহে লিপ্ত।
[45] And indeed We gave Mûsa (Moses)
the Scripture, but dispute arose therein.
And had it not been for a Word that
went forth before from your Lord, (the
torment would have overtaken them)
and the matter would have been settled
between them. But truly, they are in
grave doubt thereto (i.e. about the
Qur’ân). (Tafsir Al-Qurtubi)
[46] ﻣَﻦ ﻋَﻤِﻞَ ﺻٰﻠِﺤًﺎ ﻓَﻠِﻨَﻔﺴِﻪِ ۖ
ﻭَﻣَﻦ ﺃَﺳﺎﺀَ ﻓَﻌَﻠَﻴﻬﺎ ۗ ﻭَﻣﺎ ﺭَﺑُّﻚَ
ﺑِﻈَﻠّٰﻢٍ ﻟِﻠﻌَﺒﻴﺪِ
[46] যে সৎকর্ম করে, সে নিজের
উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসৎকর্ম
করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার
পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই
যুলুম করেন না।
[46] Whosoever does righteous good deed
it is for (the benefit of) his ownself, and
whosoever does evil, it is against his
ownself, and your Lord is not at all
unjust to (His) slaves.
[47] ۞ ﺇِﻟَﻴﻪِ ﻳُﺮَﺩُّ ﻋِﻠﻢُ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔِ ۚ
ﻭَﻣﺎ ﺗَﺨﺮُﺝُ ﻣِﻦ ﺛَﻤَﺮٰﺕٍ ﻣِﻦ
ﺃَﻛﻤﺎﻣِﻬﺎ ﻭَﻣﺎ ﺗَﺤﻤِﻞُ ﻣِﻦ ﺃُﻧﺜﻰٰ
ﻭَﻻ ﺗَﻀَﻊُ ﺇِﻟّﺎ ﺑِﻌِﻠﻤِﻪِ ۚ ﻭَﻳَﻮﻡَ
ﻳُﻨﺎﺩﻳﻬِﻢ ﺃَﻳﻦَ ﺷُﺮَﻛﺎﺀﻯ ﻗﺎﻟﻮﺍ
ﺀﺍﺫَﻧّٰﻚَ ﻣﺎ ﻣِﻨّﺎ ﻣِﻦ ﺷَﻬﻴﺪٍ
[47] কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই
জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল
আবরণমুক্ত হয় না। এবং কোন নারী
গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না।
যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে
বলবেন, আমার শরীকরা কোথায়?
সেদিন তারা বলবে, আমরা আপনাকে
বলে দিয়েছি যে, আমাদের কেউ এটা
স্বীকার করে না।
[47] To Him (Alone) is referred the
knowledge of the Hour. No fruit comes
out of its sheath, nor does a female
conceive, nor brings forth (young),
except by His Knowledge. And on the
Day when He will call unto them
(polytheists) (saying): “Where are My
(so-called) partners (whom you did
invent)?” They will say: “We inform You
that none of us bears witness to it (that
they are Your partners)!”
[48] ﻭَﺿَﻞَّ ﻋَﻨﻬُﻢ ﻣﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ
ﻳَﺪﻋﻮﻥَ ﻣِﻦ ﻗَﺒﻞُ ۖ ﻭَﻇَﻨّﻮﺍ ﻣﺎ
ﻟَﻬُﻢ ﻣِﻦ ﻣَﺤﻴﺺٍ
[48] পূর্বে তারা যাদের পূজা করত,
তারা উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বুঝে
নেবে যে, তাদের কোন নিস্কৃতি নেই।
[48] And those whom they used to invoke
before before (in this world) shall
disappear from them, and they will
perceive that they have no place of
refuge (from Allâh’s punishment).
[49] ﻻ ﻳَﺴـَٔﻢُ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦُ ﻣِﻦ ﺩُﻋﺎﺀِ
ﺍﻟﺨَﻴﺮِ ﻭَﺇِﻥ ﻣَﺴَّﻪُ ﺍﻟﺸَّﺮُّ
ﻓَﻴَـٔﻮﺱٌ ﻗَﻨﻮﻁٌ
[49] মানুষ উন্নতি কামনায় ক্লান্ত হয়
না; যদি তাকে অমঙ্গল স্পর্শ করে, তবে
সে সম্পূর্ণ রূপে নিরাশ হয়ে পড়ে।
[49] Man (the disbeliever) does not get
tired of asking good (things from Allâh),
but if an evil touches him, then he gives
up all hope and is lost in despair.
[50] ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺃَﺫَﻗﻨٰﻪُ ﺭَﺣﻤَﺔً ﻣِﻨّﺎ
ﻣِﻦ ﺑَﻌﺪِ ﺿَﺮّﺍﺀَ ﻣَﺴَّﺘﻪُ ﻟَﻴَﻘﻮﻟَﻦَّ
ﻫٰﺬﺍ ﻟﻰ ﻭَﻣﺎ ﺃَﻇُﻦُّ ﺍﻟﺴّﺎﻋَﺔَ
ﻗﺎﺋِﻤَﺔً ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺭُﺟِﻌﺖُ ﺇِﻟﻰٰ ﺭَﺑّﻰ
ﺇِﻥَّ ﻟﻰ ﻋِﻨﺪَﻩُ ﻟَﻠﺤُﺴﻨﻰٰ ۚ
ﻓَﻠَﻨُﻨَﺒِّﺌَﻦَّ ﺍﻟَّﺬﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮﻭﺍ ﺑِﻤﺎ
ﻋَﻤِﻠﻮﺍ ﻭَﻟَﻨُﺬﻳﻘَﻨَّﻬُﻢ ﻣِﻦ ﻋَﺬﺍﺏٍ
ﻏَﻠﻴﻆٍ
[50] বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি
তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই,
তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার
যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে,
কেয়ামত সংঘটিত হবে। আমি যদি
আমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাই,
তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য
কল্যাণ রয়েছে। অতএব, আমি
কাফেরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে
অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে
অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি।
[50] And truly, if We give him a taste of
mercy from Us, after some adversity
(severe poverty or disease, etc.) has
touched him, he is sure to say: “This is
due to me (merit), I think not that the
Hour will be established. But if I am
brought back to my Lord, surely, there
will be for me the best (wealth) with
Him. Then, We verily, will show to the
disbelievers what they have done and
We shall make them taste a severe
torment.
[51] ﻭَﺇِﺫﺍ ﺃَﻧﻌَﻤﻨﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻹِﻧﺴٰﻦِ
ﺃَﻋﺮَﺽَ ﻭَﻧَـٔﺎ ﺑِﺠﺎﻧِﺒِﻪِ ﻭَﺇِﺫﺍ
ﻣَﺴَّﻪُ ﺍﻟﺸَّﺮُّ ﻓَﺬﻭ ﺩُﻋﺎﺀٍ
ﻋَﺮﻳﺾٍ
[51] আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ
করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং
পার্শ্ব পরিবর্তন করে। আর যখন তাকে
অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া
করতে থাকে।
[51] And when We show favour to man,
he withdraws and turns away; but when
evil touches him, then he has recourse to
long supplications.
[52] ﻗُﻞ ﺃَﺭَﺀَﻳﺘُﻢ ﺇِﻥ ﻛﺎﻥَ ﻣِﻦ
ﻋِﻨﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺛُﻢَّ ﻛَﻔَﺮﺗُﻢ ﺑِﻪِ ﻣَﻦ
ﺃَﺿَﻞُّ ﻣِﻤَّﻦ ﻫُﻮَ ﻓﻰ ﺷِﻘﺎﻕٍ
ﺑَﻌﻴﺪٍ
[52] বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি,
যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়,
অতঃপর তোমরা একে অমান্য কর, তবে
যে ব্যক্তি ঘোর বিরোধিতায় লিপ্ত,
তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে?
[52] Say: “Tell me, if it (the Qur’ân) is
from Allâh, and you disbelieve in it, who
is more astray than one who is in
opposition far away (from Allâh’s Right
Path and His obedience).
[53] ﺳَﻨُﺮﻳﻬِﻢ ﺀﺍﻳٰﺘِﻨﺎ ﻓِﻰ
ﺍﻝﺀﺍﻓﺎﻕِ ﻭَﻓﻰ ﺃَﻧﻔُﺴِﻬِﻢ
ﺣَﺘّﻰٰ ﻳَﺘَﺒَﻴَّﻦَ ﻟَﻬُﻢ ﺃَﻧَّﻪُ ﺍﻟﺤَﻖُّ ۗ
ﺃَﻭَﻟَﻢ ﻳَﻜﻒِ ﺑِﺮَﺑِّﻚَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻋَﻠﻰٰ
ﻛُﻞِّ ﺷَﻲﺀٍ ﺷَﻬﻴﺪٌ
[53] এখন আমি তাদেরকে আমার
নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করাব পৃথিবীর
দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে;
ফলে তাদের কাছে ফুটে উঠবে যে, এ
কোরআন সত্য। আপনার পালনকর্তা
সর্ববিষয়ে সাক্ষ্যদাতা, এটা কি
যথেষ্ট নয়?
[53] We will show them Our Signs in the
universe, and in their own selves, until it
becomes manifest to them that this (the
Qur’ân) is the truth. Is it not sufficient in
regard to your Lord that He is a Witness
over all things?
[54] ﺃَﻻ ﺇِﻧَّﻬُﻢ ﻓﻰ ﻣِﺮﻳَﺔٍ ﻣِﻦ
ﻟِﻘﺎﺀِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ۗ ﺃَﻻ ﺇِﻧَّﻪُ ﺑِﻜُﻞِّ
ﺷَﻲﺀٍ ﻣُﺤﻴﻂٌ
[54] শুনে রাখ, তারা তাদের
পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতের
ব্যাপারে সন্দেহে পতিত রয়েছে। শুনে
রাখ, তিনি সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে
রয়েছেন।
[54] Verily, they are in doubt concerning
the Meeting with their Lord? (i.e.
Resurrection after their death, and their
return to their Lord). Verily! He it is
Who is surrounding all things!
Bangla translation of Quran. Developed
by Syed Mohammad Rasel
Surah Al Fussilat Recitation: Sa’ad Al Ghamdi 1. হা-মীম। 2. এটা অবতীর্ণ পরম করুণাময়, দয়ালুর পক্ষ থেকে। 3. এটা কিতাব, এর আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত আরবী কোরআনরূপে জ্ঞানী লোকদের জন্য। 4. সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা শুনে না। 5. তারা বলে আপনি যে বিষয়ের দিকে আমাদের কে দাওয়াত দেন, সে বিষয়ে আমাদের অন্তর আবরণে আবৃত, আমাদের কর্ণে আছে বোঝা এবং আমাদের ও আপনার মাঝখানে আছে অন্তরাল। অতএব, আপনি আপনার কাজ করুন এবং আমরা আমাদের কাজ করি। 6. বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ, আমার প্রতি ওহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ একমাত্র মাবুদ, অতএব তাঁর দিকেই সোজা হয়ে থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরিকদের জন্যে রয়েছে দুর্ভোগ, 7. যারা যাকাত দেয় না এবং পরকালকে অস্বীকার করে। 8. নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার। 9. বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। 10. তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। 11. অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম। 12. অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা। 13. অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন, আমি তোমাদেরকে সতর্ক করলাম এক কঠোর আযাব সম্পর্কে আদ ও সামুদের আযাবের মত। 14. যখন তাদের কাছে রসূলগণ এসেছিলেন সম্মুখ দিক থেকে এবং পিছন দিক থেকে এ কথা বলতে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও পূজা করো না। তারা বলেছিল, আমাদের পালনকর্তা ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন, অতএব, আমরা তোমাদের আনীত বিষয় অমান্য করলাম। 15. যারা ছিল আদ, তারা পৃথিবীতে অযথা অহংকার করল এবং বলল, আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর কে? তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, যে আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর? বস্তুতঃ তারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করত। 16. অতঃপর আমি তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার আযাব আস্বাদন করানোর জন্যে তাদের উপর প্রেরণ করলাম ঝঞ্ঝাবায়ু বেশ কতিপয় অশুভ দিনে। আর পরকালের আযাব তো আরও লাঞ্ছনাকর এমতাবস্থায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। 17. আর যারা সামূদ, আমি তাদেরকে প্রদর্শন করেছিলাম, অতঃপর তারা সৎপথের পরিবর্তে অন্ধ থাকাই পছন্দ করল। অতঃপর তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে অবমাননাকর আযাবের বিপদ এসে ধৃত করল। 18. যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল ও সাবধানে চলত, আমি তাদেরকে উদ্ধার করলাম। 19. যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে অগ্নিকুন্ডের দিকে ঠেলে নেওয়া হবে। এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। 20. তারা যখন জাহান্নামের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চক্ষু ও ত্বক তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। 21. তারা তাদের ত্বককে বলবে, তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, যে আল্লাহ সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। 22. তোমাদের কান, তোমাদের চক্ষু এবং তোমাদের ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে না ধারণার বশবর্তী হয়ে তোমরা তাদের কাছে কিছু গোপন করতে না। তবে তোমাদের ধারণা ছিল যে, তোমরা যা কর তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না। 23. তোমাদের পালনকর্তা সম্বন্ধে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ। 24. অতঃপর যদি তারা সবর করে, তবুও জাহান্নামই তাদের আবাসস্থল। আর যদি তারা ওযরখাহী করে, তবে তাদের ওযর কবুল করা হবে না। 25. আমি তাদের পেছনে সঙ্গী লাগিয়ে দিয়েছিলাম, অতঃপর সঙ্গীরা তাদের অগ্র- পশ্চাতের আমল তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে দিয়েছিল। তাদের ব্যাপারেও শাস্তির আদেশ বাস্তবায়িত হল, যা বাস্তবায়িত হয়েছিল তাদের পূর্ববতী জিন ও মানুষের ব্যাপারে। নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত। 26. আর কাফেররা বলে, তোমরা এ কোরআন শ্রবণ করো না এবং এর আবৃত্তিতে হঞ্জগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হও। 27. আমি অবশ্যই কাফেরদেরকে কঠিন আযাব আস্বাদন করাব এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের মন্দ ও হীন কাজের প্রতিফল দেব। 28. এটা আল্লাহর শত্রুদের শাস্তি-জাহান্নাম। তাতে তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আবাস, আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করার প্রতিফলস্বরূপ। 29. কাফেররা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! যেসব জিন ও মানুষ আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে দেখিয়ে দাও, আমরা তাদেরকে পদদলিত করব, যাতে তারা যথেষ্ট অপমানিত হয়। 30. নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন। 31. ইহকালে ও পরকালে আমরা তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্যে আছে তোমরা দাবী কর। 32. এটা ক্ষমাশীল করুনাময়ের পক্ষ থেকে সাদর আপ্যায়ন। 33. যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন আজ্ঞাবহ, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার? 34. সমান নয় ভাল ও মন্দ। জওয়াবে তাই বলুন যা উৎকৃষ্ট। তখন দেখবেন আপনার সাথে যে ব্যক্তির শুত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু। 35. এ চরিত্র তারাই লাভ করে, যারা সবর করে এবং এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয়, যারা অত্যন্ত ভাগ্যবান। 36. যদি শয়তানের পক্ষ থেকে আপনি কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব করেন, তবে আল্লাহর শরণাপন্ন হোন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। 37. তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তাঁরই এবাদত কর। 38. অতঃপর তারা যদি অহংকার করে, তবে যারা আপনার পালনকর্তার কাছে আছে, তারা দিবারাত্রি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না। 39. তাঁর এক নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখবে অনুর্বর পড়ে আছে। অতঃপর আমি যখন তার উপর বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন সে শস্যশ্যামল ও স্ফীত হয়। নিশ্চয় যিনি একে জীবিত করেন, তিনি জীবিত করবেন মৃতদেরকেও। নিশ্চয় তিনি সবকিছু করতে সক্ষম। 40. নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে বক্রতা অবলম্বন করে, তারা আমার কাছে গোপন নয়। যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ, না যে কেয়ামতের দিন নিরাপদে আসবে? তোমরা যা ইচ্ছা কর, নিশ্চয় তিনি দেখেন যা তোমরা কর। 41. নিশ্চয় যারা কোরআন আসার পর তা অস্বীকার করে, তাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনার অভাব রয়েছে। এটা অবশ্যই এক সম্মানিত গ্রন্থ। 42. এতে মিথ্যার প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। 43. আপনাকে তো তাই বলা হয়, যা বলা হত পূর্ববর্তী রসূলগনকে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার কাছে রয়েছে ক্ষমা এবং রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। 44. আমি যদি একে অনারব ভাষায় কোরআন করতাম, তবে অবশ্যই তারা বলত, এর আয়াতসমূহ পরিস্কার ভাষায় বিবৃত হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে, কিতাব অনারব ভাষায় আর রসূল আরবী ভাষী! বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। যারা মুমিন নয়, তাদের কানে আছে ছিপি, আর কোরআন তাদের জন্যে অন্ধত্ব। তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে আহবান করা হয়। 45. আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। তারা কোরআন সমন্ধে এক অস্বস্তিকর সন্দেহে লিপ্ত। 46. যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না। 47. কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল আবরণমুক্ত হয় না। এবং কোন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, আমার শরীকরা কোথায়? সেদিন তারা বলবে, আমরা আপনাকে বলে দিয়েছি যে, আমাদের কেউ এটা স্বীকার করে না। 48. পূর্বে তারা যাদের পূজা করত, তারা উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বুঝে নেবে যে, তাদের কোন নিস্কৃতি নেই। 49. মানুষ উন্নতি কামনায় ক্লান্ত হয় না; যদি তাকে অমঙ্গল স্পর্শ করে, তবে সে সম্পূর্ণ রূপে নিরাশ হয়ে পড়ে। 50. বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাই, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব, আমি কাফেরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি। 51. আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া করতে থাকে। 52. বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, অতঃপর তোমরা একে অমান্য কর, তবে যে ব্যক্তি ঘোর বিরোধিতায় লিপ্ত, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? 53. এখন আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করাব পৃথিবীর দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; ফলে তাদের কাছে ফুটে উঠবে যে, এ কোরআন সত্য। আপনার পালনকর্তা সর্ববিষয়ে সাক্ষ্যদাতা, এটা কি যথেষ্ট নয়? 54. শুনে রাখ, তারা তাদের পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে সন্দেহে পতিত রয়েছে। শুনে রাখ, তিনি সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন। *********

October 30, 2020

অসাধারণ শিক্ষণীয় গল্প-৪

 ছোট্ট এক ছেলে ছিলো প্রচন্ড রাগী। তাই দেখে বাবা তাকে একটা পেরেক ভর্তি ব্যাগ দিল এবং বললো যে, যতবার তুমি রেগে যাবে ততবার একটা করে পেরেক আমাদের বাগানের কাঠের বেড়াতে লাগিয়ে আসবে। প্রথমদিনেই ছেলেটিকে বাগানে গিয়ে ৩৭ টি পেরেক মারতে হলো। ….

পরের কয়েক সপ্তাহে ছেলেটি তার রাগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনতে পারে তাই প্রতিদিন কাঠে নতুন পেরেকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমে এলো। সে বুঝতে পারলো হাতুড়ী দিয়ে কাঠ বেড়ায় পেরেক বসানোর চেয়ে তার রাগকে নিয়ন্ত্রন করা অনেক বেশি সহজ।

শেষ পর্যন্ত সেই দিনটি এলো যেদিন তাকে একটি পেরেকও মারতে হলো না। সে তার বাবাকে এই কথা জানালো। তারা বাবা তাকে বললো এখন তুমি যেসব দিনে তোমার রাগকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করতে পারবে….

সেসব দিনে একটি একটি করে পেরেক খুলে ফেলো। অনেক দিন চলে গেল এবং ছেলেটি একদিন তার বাবাকে জানালো যে সব পেরেকই সে খুলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।তার বাবা এবার তাকে নিয়ে বাগানে গেল এবং কাঠের বেড়াটি দেখিয়ে বললো..

‘তুমি খুব ভাল ভাবে তোমার কাজ সম্পন্ন করেছো,এখন তুমি তোমার রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারো কিন্তু দেখো, প্রতিটা কাঠে পেরেকের গর্ত গুলো এখনো রয়ে গিয়েছে। কাঠের বেড়াটি কখনো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।…

যখন তুমি কাউকে রেগে গিয়ে কিছু বলো তখন তার মনে ঠিক এমন একটা আচড় পরে যায়। তাই নিজের রাগতে নিয়ন্ত্রন করতে শেখো।মানসিক ক্ষত অনেক সময় শারীরিক ক্ষতের চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর……

অসাধারণ শিক্ষণীয় গল্প-৩

 অনেক অনেক দিন আগে একটি বড় আপেল গাছ ছিল। একটি বালককে গাছটি খুব পছন্দ করতো। বালকটিও প্রতিদিন এসে গাছের চারপাশে খেলতো। গাছের ডালে উঠত। আপেল খেত। গাছের গুড়িতে শুয়ে তার ছায়ায় বিশ্রাম নিত। সেও গাছটিকে খুব ভালবাসতো আর আপেল গাছটি ও এতে খুবই আনন্দিত ছিল।

সময় গড়িয়ে যায়, কিন্তু অনেক দিন বালক আর গাছের নিচে খেলতে আসে না। একদিন হটাৎ বালকটি আবার গাছের কাছে ফিরে এলে।
গাছটি বললো, “তুমি আবার ফিরে আসায় আমি খুব আনন্দিত। এসো, আবার খেলা শুরু করো”
কিন্তু বালকটি শুধালো, “আমি এখন আর আগের বালকটি নেই। এখন আমি আর গাছের গুড়িতে দৌড়াদৌড়ি করে খেলা করি না। আমার এখন খেলনা চাই, কিন্তু খেলনা কিনতে টাকা প্রয়োজন।”
গাছটি বললো,”কিন্তু আমার কাছে তো টাকা নেই। তুমি চাইলে আমার সকল আপেল পেরে বাজারে বিক্রি করে টাকা জোগাড় করতে পারো”।
কথাটি বালকটির খুব মনপুত হলো। সে সব আপেল গাছ থেকে পেরে ব্যাগে করে নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। বালকটি খুব আনন্দিত এবং বালকের আনন্দ দেখে গাছটিও খুব তৃপ্ত ও আনন্দিত হলো।

আপেল পেরে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকদিন আর বালকটির দেখা নেই সেই আপেল গাছের গোঁড়ায়। গাছটি খুব দুঃখ পেলো।

হটাৎ একদিন বালকটি গাছের কাছে ফিরে এলো , ততদিনে সে পরিপূর্ণ যুবক। গাছটি এতে খুব আনন্দিত হলো।। বালকটিকে আবারো গাছের সাথে খেলতে অনুরোধ করলো সে।
কিন্তু বালকটি জানালো,”এখন আর তার সে সময় নেই। সে এখন অনেক ব্যাস্ত। তার এখন বাড়ি বানানো খুবই দরকার। এ জন্য গাছটির সাহায্য চাইলো”

কিন্তু গাছটি জানালো তার কোন বাড়ি নেই, তাই তাকে সাহায্য করতে পারছে না। তবে একটা বুদ্ধি দিলো, “তুমি চাইলে আমার কিছু ডাল-পালা কেটে নিয়ে যেতে পারো আর তা দিয়ে বাড়ি বানাতে পারো”

বালকটি তখন গাছের সকল ডাল-পালা কেটে নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি অভিমুখে চলে গেলো, পেছন ফিরে একবার ও গাছটির দিকে তাকালো না। বালকটির আনন্দে গাছটিও খুব আনন্দিত ছিল।
এরপর অনেক দিন আর বালকটির দেখা নেই গাছের গোঁড়ায়।। গাছটি আবারো একা হয়ে গেলো।

অনেক দিন পরে, হটাৎ এক গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে গাছের গোঁড়ায় বালকটির আগমন। ততদিনে তার যৌবন পড়তির দিকে। জীবনের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত তখন। গাছটি বালককে দেখে খুব খুশি হলো, আবারো তার সাথে খেলার অনুরোধ করলো।।

কিন্তু বালকটি জানালো,”আমার এখন আর খেলার বয়স নেই। আমি বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছি। জীবন যুদ্ধে লড়তে লড়তে আজ আমি ক্লান্ত। আমাকে এখন আনন্দের জন্য, ক্লান্তি কাটাতে নদীতে মাছ ধরতে যেতে হবে। কিন্তু আমার কোন নৌকা নেই। তুমি কি আমাকে কোন সহায়তা করতে পারো??”

“তুমি চাইলে আমার গুড়ি কেটে নিয়ে যেতে পারো এবং এটা দিয়ে নৌকা বানিয়ে নিতে পারো”

গাছের এমন পরামর্শে বালকটির চোখে মুখে আনন্দের শিহরন খেলে গেলো। সে তৎক্ষণাৎ কুড়াল দিয়ে গাছের গুড়ি কেটে নিয়ে গেলো। এবং নৌকা বানিয়ে নদীতে চলে গেলো মাছ শিকারে। অনেকদিন আর তার দেখা নেই এখানে।

হটাৎ অনেকদিন পর শেষ পর্যন্ত গাছের কাছে ফিরে এলো লোকটি। ততদিনে সে জীবন সীমার শেষ প্রান্তে।
কিন্তু গাছটি শুধালো,”দুঃখিত বালক। আমার কাছে এখন আর তোমাকে দেওয়ার মতো কিছুই নেই।কোন আপেল নেই……”
বৃদ্ধ হাসলো এবং বললো, “আমারো এখন আপেল খাওয়ার মতো দাত ও নেই”
– “কোন ডাল- পালা বা গুড়ি ও নেই যেখানে তুমি চড়বে”
– “গাছের ডালে চড়ার মতো বয়স ও এখন আমার নেই”
-“সত্যি ই এখন তোমাকে দেওয়ার মতো আমার আর কিছু অবশিষ্ট নেই শুধু মৃতপ্রায় মূলগুলো ছাড়া ” – গাছটি বললো।
“আমার এখন এগুলোর কোনটাই দরকার নেই। আমার শুধু বিশ্রাম নেওয়ার মতো একটা জায়গা চাই, যেখানে বসে আমি আমার এতোগুলো বছরের পাওয়া- না পাওয়ার হিসাবটা একটু মিলাবো।”- বৃদ্ধটি বললো।
“তাহলে মৃতপ্রায় গাছের মূল ই এর জন্য আদর্শ জায়গা। এখানে বসো আর ভাবো জীবন তোমাকে কি দিয়েছে, কি দেয় নি। কি করা উচিত ছিল, আর কি করা ঠিক হয় নি”- গাছটি বললো।
লোকটি গাছের মূলে বসলো আর গাছটি অনেক আনন্দিত হলো। আনন্দ গাছের কান্না হয়ে ঝড়ে পড়লো।।


শিক্ষাঃ আমাদের প্রত্যেকের জীবনেও এমন একটি “আপেল গাছ” আছে, আর তা হলো আমাদের পিতা-মাতা। এবার গাছটির ত্যাগ গুলোর সাথে আমাদের বাবা-মা কে মিলিয়ে দেখুন। আপনি কতটা ব্যাস্ত সেটা কোন কথা নয়, বরং বাবা- মায়ের সাথে জীবনের কথাগুলো শেয়ার করুন, সময় দিন

অসাধারণ শিক্ষণীয় গল্প-২

 এক ব্যক্তি জঙ্গলে হাটছিলেন। হঠাৎ দেখলেন এক সিংহ তার পিছু নিয়েছে। তিনি প্রাণভয়ে দৌড়াতে লাগলেন। কিছুদূর গিয়ে একটি পানিহীন কুয়া দেখতে পেলেন।তিনি চোখ বন্ধ করে দিলেন ঝাঁপ। পড়তে পড়তে তিনি একটি ঝুলন্ত দড়ি দেখেতা খপ করে ধরে ফেললেন। এবং ঐ অবস্থায় ঝুলে রইলেন।উপরে চেয়ে দেখলেন কুয়ার মুখে সিংহটি তাকে খাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। নিচে চেয়ে দেখলেন বিশাল এক সাপ তার নিচে নামার অপেক্ষায় চেয়ে আছে। বিপদের উপর আরো বিপদ হিসেবে দেখতে পেলেন একটি সাদা আর একটি কালো ইঁদুর তার দড়িটি কামড়ে ছিড়ে ফেলতে চাইছে। এমন হিমশিম অবস্থায় কি করবেন যখন তিনি বুঝতে পারছিলেন না, তখন হঠাৎ তার সামনে কুয়ার সাথে লাগোয়া গাছে একটা মৌচাক দেখতে পেলেন। তিনি কি মনে করে সেই মৌচাকের মধুতে আঙ্গুল ডুবিয়ে তা চেটে দেখলেন। সেই মধুর মিষ্টতা এতই বেশি ছিল যে তিনি কিছু মুহূর্তেরজন্য উপরের গর্জনরত সিংহ, নিচের হাঁ করে থাকা সাপ, আর দড়ি কাঁটা ইঁদুরদের কথা ভুলে গেলেন। ফলে তার বিপদ অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ালো।

 এই সিংহটি হচ্ছে আমাদের মৃত্যু, যে সর্বক্ষণ আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।সেই সাপটি হচ্ছে কবর। যা আমাদের অপেক্ষায় আছে। দড়িটি হচ্ছে আমাদের জীবন, যাকে আশ্রয় করেই বেঁচে থাকা। সাদা ইঁদুর হল দিন, আর কালো ইঁদুর হল রাত, যারা প্রতিনিয়ত ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের আয়ু কমিয়ে দিয়ে আমাদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর সেই মৌচাকহল দুনিয়া। যার সামান্য মিষ্টতা পরখ করে দেখতে গেলেও আমাদের এই চতুর্মুখি ভয়ানক বিপদের কথা ভুলে যাওয়াটা বাধ্য। তাই আমাদের সচেতন হওয়া জরুরী।

October 29, 2020

অসাধারণ শিক্ষণীয় গল্প-১

 

 

একবার এক ইঁদুর লক্ষ্য করল যে বাড়িতে ইঁদুর মারার ফাঁদ পাতা রয়েছে। সে খুবই ভয় পেল। ফাঁদটি অকেজো করার জন্য সে ওই বাড়িতে থাকা মুরগির সাহায্য চাইল। মুরগি ঘটনা শুনে জবাব দিল-

“ ফাঁদটি আমার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। অতএব আমি এখানে কোন সাহায্য করতে পারবনা”।
মুরগির কাছ থেকে এই উত্তর শুনে ইঁদুর খুব দুঃখিত হল এবং ছাগলের কাছে গিয়ে সাহায্য চাইল। ছাগল ফাঁদের কথা শুনে বলল-
“ওই ফাঁদ বড়দের জন্য নয়। আমি এখানে তোমাকে কোন সাহায্য করতে পারবনা”।
ইঁদুর ছাগলের কাছ থেকে একই উত্তর শুনে দুঃখিত হয়ে গরুর কাছে এলো। সব কথা শুনে গরু বলল-
“ইদুরের ফাঁদ আমার মত বড় প্রাণীর কোন ক্ষতিই করতে পারবেনা। যা আমার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা- তাতে আমি সাহায্য করতে পারবনা”।
ইঁদুর শেষ পর্যন্ত নিরাশ হয়ে তার ঘরে ফিরে এলো।
রাতের বেলা বাড়ির কর্ত্রী অন্ধকারের ভিতর বুঝতে পারলেন যে ফাঁদে কিছু একটা ধরা পরেছে। অন্ধকারে ফাঁদের কাছে হাত দিতেই উনি হাতে কামড় খেলেন এবং দেখলেন ফাঁদে ইঁদুরের বদলে সাপ ধরা পরেছে।
তার চিৎকারে কর্তার ঘুম ভাঙল। তাড়াতাড়ি ডাক্তার ডাকা হল। চিকিৎসা শুরু হয়ে গেল। কিন্তু অবস্থা মোটেই ভালো না।
পথ্য হিসেবে ডাক্তার মুরগির সূপ খাওয়াতে বল্লেন। সুপের জন্য কর্তা মুরগিকে জবাই করে দিলেন।
অবস্থা আস্তে আস্তে আরও খারাপ হতে লাগলো। দূরদূরান্ত থেকে আরও অনেকে আত্মীয় স্বজন আসতে লাগলো। বাধ্য হয়ে কর্তা ছাগলকে জবাই করলেন তাদের আপ্যায়ন করার জন্য।
আরও ভালো চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার দরকার হতে লাগলো। অবশেষে বাড়ির কর্তা তাদের গরুটিকে কসাইখানায় বিক্রি করে দিল।
একসময় বাড়ির কর্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠল। আর এই সমস্ত কিছু ইঁদুরটি তার ছোট্ট ঘর থেকে পর্যবেক্ষণ করল।


শিক্ষাঃ কেবল নিজের চিন্তায় যে মগ্ন, নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না তার বিপদকালেও কেউ এগিয়ে আসে না। প্রতিবেশীর বিপদ মানেই নিজের বিপদ, দেশ ও জাতির সংকট মানেই নিজের সংকট, মুসলিম হিসেবে মুসলমান জাতির উপরে বিপদ মানেই আমার উপরেও ‍বিপদ-এই চিন্তা থেকে যে নিজেকে মুক্ত করে কেবল স্বার্থচিন্তায়, আত্নচিন্তায় নিমগ্ন তার বিপদ অনিবার্য েইহজগৎ ও পরজগৎ উভয় জগতেই সে বিপদগ্রস্থ হবে। তার হাজার এবাদতও তাকে জাহান্নাম থেকে, নরক থেকে, হেল থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

Translate