Sunday, March 23, 2025

ও মদিনার মাটিরে ....

 ও মদিনার মাটিরে ....

সকল.. সুখ বুঝি, তোর... কপালে..।
ও মদিনার মাটিরে ....
সকল.. সুখ বুঝি, তোর.... কপালে..।


ও মদিনা রে.......
তোর বুকে আমার নবী..যার লাগি পাগল সবি..
যার তরে হইল সৃষ্টি ত্রি..ভুবন...।

ও মদিনা রে.....
তোর বুকে আমার নবী.. যার লাগি পাগল সবি..
যার তরে হইল সৃষ্টি ত্রি..ভুবন...।


ভাবি আমি সারাক্ষণে.. কখন যাবো সেখানে..।
ভাবি আমি সারাক্ষণে.. কখন যাবো সেখানে..।
সহেনা সহেনা আমার প..রাণে..।

ও মদিনার মাটি রে ....
সকল..সুখ বুঝি, তোর..র.. র.. কপালে..।
ও মদিনার মাটি রে ....
সকল.. সুখ বুঝি, তোর..র.. র.. কপালে..।

ও মদিনারে....
পাখি যদি হতাম আমি, উড়ে উড়ে যেতাম আমি
থাকতনা মনের কোন.. যাতনা..।

ও মদিনারে....
পাখি যদি হতাম আমি, উড়ে উড়ে যেতাম আমি
থাকতনা মনের কোন.. যাতনা..।


দেহে নাই পাখা রে..সাথে নাই টাকা রে..
দেহে নাই পাখা রে..সাথে নাই টাকা রে..
কেমনে কেমনে যাবো সে..খানে..।
ও মদিনার মাটি রে ....
সকল.. সুখ বুঝি, তোর..র.... কপালে..।
ও মদিনার মাটি রে ....
সকল.. সুখ বুঝি,তোর..র.. কপালে..।

ও মদিনারে....

তোর বুকে গেলে আমি, কত সুখি হতাম জানি
তোর আমি বুঝাইব.. কে..মনে..।
ও মদিনারে....
তোর বুকে গেলে আমি..কত সুখি হতাম জানি
তোর আমি বুঝাইব.. কে..মনে..।


ভাবি আমি সারাক্ষণে.. কখন যাবো সেখানে..।
ভাবি আমি সারাক্ষণে.. কখন যাবো সেখানে..।
সহেনা সহেনা আমার প..রাণে..।
ও মদিনার মাটি রে ....
সকল.. সুখ বুঝি,তোর..র... কপালে..।
ও মদিনার মাটি রে ....
সকল.. সুখ বুঝি,তোর..র.. কপালে..।
ও মদিনার মাটি রে ....

সকল.. সুখ বুঝি,তোর..র.. কপালে..।

Sunday, March 2, 2025

আল্লামা বিন বায কর্তৃক প্রদত্ব ছোট ছোট প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর

 আল্লামা বিন বায রাহ. কর্তৃক প্রদত্ব ছোট ছোট প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর (৫৪টি)

আল্লামা ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ. রমজান, সিয়াম, তারাবিহ, কিয়ামুল্লায়, ইতিকাফ, সফর, কুরআন তিলাওয়াত, দুআ, উমরা ইত্যা বিষয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত চমৎকার কিছু প্রশ্নোত্তর যেগুলো তিনি ‘ওয়াযায়েফে রমজান’ শীর্ষক কিতাবের ব্যাখ্যা কালীন তাঁর ছাত্রদের পক্ষ থেকে প্রদত্ব বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন।

নিম্নে পাঠকদের উপকার হবে এ আশায় মূল ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে সেখান থেকে কেবল সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরগুলোর অনুবাদ পেশ করা হলো। আল্লাহ তওফিক দাতা।

মোট ৭টি পর্বে ৫৪টি প্রশ্নোত্তর পেশ করা হয়েছে।

❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-১

১. প্রশ্ন: যে ব্যক্তি রমজান মাসে সুদ খায় তার রোজা গ্রহণযোগ্য হবে কি?
শাইখ: সুদ হারাম, তা রমজান হোক বা অন্য সময়। রমজানসহ সব সময় সুদ খাওয়া নিষিদ্ধ।

২. প্রশ্ন: তাহলে তার রোজা কবুল হবে?
শাইখ: তার রোজা কবুল হওয়ার আশা করা যায়। তবে সে গুনাহের ঝুঁকিতে থাকবে।

৩. প্রশ্ন: ইউরোপের কিছু দোকানে মুসলিম মালিকরা রমজানে মদ ও শুকরের মাংস বিক্রি করে। এ ব্যাপারে কী বলা যাবে?
শাইখ: তাদের সতর্ক করা উচিত এবং বোঝানো দরকার যে, এটি হারাম ও নিন্দনীয় কাজ যেন তারা শিখে ও সংশোধন হয়ে যায় এবং এসব কাজ ছেড়ে দেয়।

৪. প্রশ্ন: কিন্তু এতে কি তাদের রোজার কোনও প্রভাব পড়ে?
শাইখ: না, রোজা নষ্ট হয় না। তবে এতে দাগ পড়ে। রোজা শুধু তার ভঙ্গকারী বিষয়গুলো দ্বারা বাতিল হয়। কিন্তু গুনাহ করলে রোজার পূর্ণতা কমে যায়-সওয়াব ও প্রতিদান হ্রাস পায়।

৫. প্রশ্ন: কোনও নারী যদি মসজিদের কাছাকাছি বাস করে তাহলে কি সে ইমামের সাথে নামাজ পড়তে পারবে যদি সে ইমামের কণ্ঠ শুনতে পায়?
শাইখ: না, সে মসজিদে গিয়ে পড়বে অথবা একা বাসায় পড়বে। যদি সে মসজিদে না থাকে বা ইমাম ও জামাতকে না দেখে তাহলে সে তাদের অনুসরণ করতে পারবে না। তবে যদি সে মসজিদের ভেতরে থাকে বা ইমাম ও জামাতকে দেখতে পায় তাহলে কোনও সমস্যা নেই।

৬. প্রশ্ন: যদি বাড়িটি মসজিদের সাথে সংযুক্ত হয় যেমন মুয়াজ্জিন বা ইমামের বাসা?
শাইখ: তবুও, যদি সে ইমাম বা জামাতকে না দেখে তাহলে সে অনুসরণ করতে পারবে না। বরং একা নামাজ পড়বে।

৭. প্রশ্ন: নারীদের জন্য ঘরে নামাজ পড়াই কি উত্তম?
শাইখ: হ্যাঁ, নারীদের জন্য ঘরে নামাজ পড়াই উত্তম।

৮. প্রশ্ন: যদি কিছু নারীরা একসাথে বাড়িতে থাকে তাহলে তারা জামাতে নামাজ পড়বে নাকি একা একা?
শাইখ: উভয়টাই করা যায়। যদি তারা একত্রে নামাজ আদায় করে এবং তাদের মধ্য থেকে একজন ইমামতি করে তাহলে এটি ভালো। এতে তারা শিক্ষা পাবে, কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পারবে এবং উপকৃত হবে। তবে যদি প্রত্যেকে একা একা পড়ে তাতেও কোনও সমস্যা নেই।

৯. প্রশ্ন: যদি নারীরা মসজিদের ভেতরে থাকে কিন্তু তাদের ও পুরুষদের মাঝে পর্দা থাকে তাহলে কি তাদের জামাতে নামাজ পড়া বৈধ?
শাইখ: হ্যাঁ, যদি তারা মসজিদের ভেতরে থাকে তাহলে কোনও সমস্যা নেই। মসজিদুল হারামের মতো স্থানেও তারা ইমামের কণ্ঠ শুনে নামাজ আদায় করতে পারে।

১০. প্রশ্ন: হারাম শরিফের সম্প্রসারিত অংশে কি জামাতে নামাজ আদায় করা যাবে?
শাইখ: হ্যাঁ, তারা ইমামের অনুসরণে সেখানে নামাজ আদায় করতে পারে। এতে কোনও সমস্যা নেই। কারণ এটি মসজিদের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১১. প্রশ্ন: আমি রোজা রেখেছি। কিন্তু সেহরি খেতে পারিনি। আমার রোজা কি সহিহ হবে?
শাইখ: হ্যাঁ, কোনও সমস্যা নেই। সেহরি সুন্নত; তা আবশ্যক নয়। আপনার রোজা শুদ্ধ হবে।

১২. প্রশ্ন: পুরো রমজানের জন্য একবারই কি নিয়ত করা যথেষ্ট নাকি প্রতিদিন আলাদা নিয়ত করতে হবে?
শাইখ: প্রতিদিনের জন্য আলাদা নিয়ত করতে হবে। (এ ক্ষেত্রে আল্লামা উসাইমিন রহ. বলেন, মাসের শুরুতে সারা মাসের রোজার রাখার নিয়ত করাই যথেষ্ট। তবে প্রতিটি রোজার জন্য আলাদা নিয়ত করা উত্তম)

১৩. প্রশ্ন: প্রতি রাতে কি মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়?
শাইখ: হ্যাঁ, আল্লাহ যাকে মুক্তি দিতে চান তাঁর জন্য প্রতি রাতে মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

১৪. প্রশ্ন: রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি রমজানে জামাতে নামাজ পড়ানোর সময় কুনুত করেছেন?
শাইখ: আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে তিনি সংকট কালীন সময় কুনুত করেছেন।

১৫. প্রশ্ন: আমি রমজানের বিতির নামাজে কুনুতের কথা জানতে চাচ্ছি।
শাইখ: হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু কুনুতের শিক্ষা দিয়েছেন এবং এটি একটি শিক্ষা বিষয়ক আমল।

১৬. প্রশ্ন: কেউ যদি মক্কা ও রিয়াদের মধ্যে সফর করে তাহলে তার জন্য কোথায় ইফতার করা উত্তম?
শাইখ: সে যেকোনো স্থানে ইফতার করতে পারে। ইফতারের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বেঁধে দেওয়া হয়নি।

❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-২

১৭. প্রশ্ন: রোজাদারকে ইফতার করানোর অর্থ কি তাকে পরিপূর্ণভাবে খাওয়ানো?
শাইখ: এটি নির্ভর করে আল্লাহ যে সুবিধা দেন তার উপর। কারণ এটি নির্দিষ্ট কোনও শর্তসাপেক্ষ নয়।

১৮. প্রশ্ন: ছোটদের রোজার প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তাদের অভিভাবক কি এতে সওয়াব পাবেন? এবং তারাও কি সওয়াব পাবে?
শাইখ: হ্যাঁ, ঠিক যেমন নামাজ শেখানোর দায়িত্ব আছে, তেমনি রোজার ক্ষেত্রেও আছে। অভিভাবকের দায়িত্ব হলো, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং যত্ন নেওয়া—যাতে তারা রোজার অভ্যাস গড়ে তোলে, যদি তারা শারীরিকভাবে সক্ষম হয়। যেমন: দশ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে।

১৯. প্রশ্ন: যদি তাদের বয়স দশ বছরের কম হয়?
শাইখ: তারা হয়তো রোজা রাখতে পারবে না। তবে দশ বছর বা তার কাছাকাছি বয়সীরা পারার সম্ভাবনা থাকে। তবে এটি নামাজের মতো নয়। নামাজের ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলনামূলক সহজ।

২০. প্রশ্ন: ইউরোপে অনেক মানুষ রমজানে রোজা রাখে। কিন্তু তারা নামাজ পড়ে না। আসলে তারা নামাজ না পড়তে চায় না। বরং তারা নামাজ সম্পর্কে জানেই না। এ অবস্থায় কী করণীয়?

শাইখ: অভিযোগ শুধু আল্লাহর দরবারে! তাদের অবশ্যই শিখতে হবে। কারণ নামাজ সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যে নামাজ পড়ে না সে কাফির হয়ে যায়—আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। তাদের অবশ্যই শিক্ষা দিতে হবে এবং সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। দাঈদের (দাওয়াত প্রদানকারীদের) উচিত, তাদের সঠিক জ্ঞান দেওয়া এবং সত্যের পথে আহ্বান করা।

❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-৩

২১. প্রশ্ন: রমজানের শুরুতে মানুষ মসজিদে উপস্থিত হতে খুব আগ্রহী থাকে। কিন্তু কিছুদিন পরেই এই আগ্রহ কমে যায়। এর প্রতিকার কী?
শাইখ: এর প্রতিকার হলো, আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা এবং তাঁর ভয় হৃদয়ে রাখা। আল্লাহ তাআলাকে শুধু রমজানে নয়; সবসময়ই সম্মান করা ও ইবাদত করা আবশ্যক। একজন মুমিনের জন্য সর্বদা ফরজ আদায় করা এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। তবে বিশেষ ফজিলত পূর্ণ সময়গুলোতে আরও যত্নবান হওয়া উচিত, যেমন রমজান, জিলহজের প্রথম দশদিন, হজের দিনগুলো। এই মহান সময়গুলোতে নেক আমলে অগ্রসর হওয়া জরুরি। তবে সব সময়েই আল্লাহর ফরজ আদায় করতে হবে, তাঁর হারাম কৃত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকতে হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে থাকতে হবে। একজন মুমিনকে সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে যে, সে আল্লাহর একজন দাস, এবং আল্লাহ তাকে সবসময় দেখছেন ও পর্যবেক্ষণ করছেন। আল্লাহ পরম দয়ালু ও দাতা, যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।

২২ প্রশ্ন: হারিস আল-আওয়ার রহ. বর্ণিত চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হাদিসের বিষয়ে কী বলা যায়?
শাইখ: হারিস আল-আওয়ারের হাদিসটি দুর্বল। তবে এসব বর্ণনা মূলত ভালো কাজে উৎসাহিত করার জন্য উল্লেখ করা হয়।

২৩. প্রশ্ন: কুনুতের দোয়া দীর্ঘ করা সম্পর্কে কী বলা যায়?
শাইখ: সুন্নত হলো, কুনুতের দোয়া ও কুরআন খতমের দোয়া দীর্ঘ না করা। ইমামের উচিত মুসল্লিদের কষ্ট না দেওয়া বরং তাদের জন্য সহজ করা।

২৪. প্রশ্ন: কুরআন খতমের সময় দোয়া করলে তা কবুল হয় কি?
শাইখ: এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সহিহ প্রমাণ নেই। তবে সালাফগণ এটি করতেন এবং এতে কল্যাণের আশা করা হয়।

২৫. প্রশ্ন: কুরআন খতমের সময় কি সবাই একত্রিত হয়ে দোয়া করতে পারে?
শাইখ: যদি কেউ দোয়া করে এবং অন্যরা আমিন বলে তাহলে এতে কোনও সমস্যা নেই। এটি কুনুতের মতো, যেমন—নাজিলাহ বা সংকট কালীন কুনুত বা ইস্তিসকা বা বৃষ্টির জন্য দুআর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। ইমাম দুআ করে আর অন্যরা আমিন আমিন বলে।

২৬. প্রশ্ন: কিছু লোক কুরআন খতমের দিনে একত্রিত হয়, খাবারের আয়োজন করে এবং একজন দোয়া করে বাকিরা আমিন বলে। এটি কি জায়েজ?
শাইখ: যদি তারা নিজেদের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াত করে, শেখে এবং খতম করে তাহলে ইনশাআল্লাহ এতে কল্যাণ রয়েছে। এতে কোনও সমস্যা নেই।

২৭. প্রশ্ন: কিন্তু যদি তারা এটি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নিয়ম করে নেয়, যেমন—নির্দিষ্ট সময় পরপর একে অপরের ঘরে একত্রিত হয়, একজন দোয়া করে এবং অন্যরা আমিন বলে?
শাইখ: এ বিষয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা জানা নেই। সালাফগণ বলেছেন, কুরআন খতমের সময় দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা হয়।

২৮. প্রশ্ন: দোয়া কি নামাজের ভেতরে করা উত্তম নাকি নামাজের বাইরে?
শাইখ: উভয়ভাবেই করা জায়েজ।

২৯. প্রশ্ন: কুরআন মুখস্থ করা উত্তম, নাকি বেশি বেশি তিলাওয়াত করা?
শাইখ: রমজানের মাসে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করাই উত্তম। তবে কেউ যদি তিলাওয়াতের পাশাপাশি কিছু সময় মুখস্থ করার জন্য নির্ধারণ করে তাহলে সেটিও কল্যাণকর।

❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-৪

৩০. প্রশ্ন: যদি কেউ হারামে (মক্কায়) অবস্থান করে তার জন্য বেশি সওয়াব কোন কাজে—কুরআন তিলাওয়াত নাকি সাত চক্কর তওয়াফ করা?
শাইখ: তার উচিত, বেশি বেশি তওয়াফ করা। কারণ তওয়াফ শুধু মক্কাতেই করা যায়। এটি এমন একটি ইবাদত যা মক্কার জন্যই নির্দিষ্ট। তাই যত বেশি সম্ভব তওয়াফ করা উচিত। মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তওয়াফ সর্বোত্তম আমল। তবে যারা মক্কায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, তাদের জন্য বেশি বেশি নামাজ পড়াই উত্তম। কারণ তারা সর্বদা তওয়াফ করতে সক্ষম। তেমনি মক্কায় দান-সদকা করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করাও বিশেষ ফজিলত পূর্ণ। কারণ এখানে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

টিকা:
শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “কেউ যদি প্রশ্ন করে: অন্যান্য সৎকর্মগুলোর প্রতিদানও কি এভাবে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়?
উত্তর হলো: নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যার ভিত্তিতে আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি পাওয়া একটি শরিয়ত-নির্ধারিত বিষয়, যা নির্দিষ্ট প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল এবং এতে কিয়াস (যুক্তিসিদ্ধ অনুমান) করার সুযোগ নেই। যদি কোনও সহিহ প্রমাণ পাওয়া যায় যে অন্যান্য আমলগুলোর প্রতিদানও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, তাহলে তা গ্রহণ করা হবে। তবে এতে কোনও সন্দেহ নেই যে ফজিলতপূর্ণ স্থান ও সময়ের একটি বিশেষ প্রভাব রয়েছে সওয়াব বৃদ্ধিতে। যেমন আলেমগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, সৎকর্মের প্রতিদান বিশেষ স্থান ও সময়ে বৃদ্ধি পায়। তবে নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যার ভিত্তিতে এ বৃদ্ধির দাবি করতে হলে তার জন্য নির্দিষ্ট দলিল থাকা আবশ্যক।”(সমাপ্ত)
উল্লেখ্য যে, একটি হাদিস এসেছে, لكلِّ حسنةٍ مِائَةُ ألفِ حسنةٍ হারামে “প্রত্যেক সৎকর্মের জন্য এক লক্ষ সওয়াব রয়েছে।” এ হাদিসটিকে ইমাম জাহাবি, নাওয়াবি, সহ সকল মুহাদ্দিস জইফ বলেছেন। শাইখ আলবানি বলেন, অত্যাধিক জইফ। (অনুবাদক)

৩১. প্রশ্ন: কেউ যদি রমজান মাসের বাইরে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার নফল রোজা রাখে এবং কোনও বন্ধু তাকে চা পান করার আমন্ত্রণ জানায় তাহলে কি সে বলে দেবে যে, সে রোজা আছে?
শাইখ: উত্তম হলো, সে তার রোজা পূর্ণ করবে এবং বলবে: “আমি রোজা আছি, আমাকে মাফ করবেন।” যেমন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إلى طَعَامٍ، وَهو صَائِمٌ، فَلْيَقُلْ: إنِّي صَائِمٌ

“যখন তোমাদের কেউ আহারে আমন্ত্রিত হয় এবং সে রোজাদার থাকে, সে যেন বলে: ‘আমি রোজাদার।'” [সহিহু মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১১৫০] এতে কোনও সমস্যা নেই।

৩২. প্রশ্ন: কেউ যদি মক্কায় থেকে রমজানে কোনও শরিয়ত বিরোধী কাজ করে তাহলে কি তার গুনাহ দ্বিগুণ হবে?
শাইখ: গুনাহের সংখ্যা বাড়বে না। তবে গুনাহের গুরুত্ব ও শাস্তি কঠিন হবে। মক্কায় গুনাহ করা মক্কার বাইরে গুনাহ করার চেয়ে গুরুতর। যেমন: মক্কায় কোনও পাপ করা তায়েফ বা রিয়াদে একই পাপ করার তুলনায় অধিক ভয়ানক।

৩৩. প্রশ্ন: রমজানে গুনাহ করলে কি তা আরও ভয়াবহ হয়?
শাইখ: হ্যাঁ, রমজানে গুনাহ করলে তার শাস্তি আরও গুরুতর হয়। কারণ এটি একটি মহান ও ফজিলত পূর্ণ মাস। তবে গুনাহের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে না বরং শাস্তি কঠোর হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

“যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করে, সে দশগুণ প্রতিদান পাবে। আর যে পাপ করে তাকে কেবল তার সমপরিমাণ শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনও জুলুম করা হবে না।” [সূরা আনআম: ১৬০]

৩৩. প্রশ্ন: রমজানে কেউ যদি বলে “আমি রোজা আছি” তাহলে সে কি এটি প্রকাশ্যে বলবে, নাকি গোপনে?
শাইখ: যদি সে কাউকে তার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করার কারণ বোঝাতে চায়, তাহলে প্রকাশ্যে বলতে পারে, যাতে অন্য ব্যক্তি মনে না করে যে, সে তার নিমন্ত্রণ অপছন্দ করছে বা অসম্মান করছে। তবে রমজানে সাধারণত সবাই জানে যে, মুসলিমরা রোজা রাখে। তাই সে যদি বলে “আমি রোজা আছি”, এতে কোনও সমস্যা নেই।

৩৪. প্রশ্ন: কেউ যদি মদিনায় কোনও শরিয়ত বিরোধী কাজ করে তাহলে কি তার গুনাহও বেশি হবে?
শাইখ: হ্যাঁ, তা-ই হবে। সৎকর্ম ও পাপ—উভয়ই বৃদ্ধি পায়। একইভাবে জিলহজের প্রথম দশ দিনেও।

❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-৫

৩৬. প্রশ্ন: হারামের নিকটবর্তী মসজিদে নামাজ পড়লে কি হারামের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে?
শাইখ: মক্কার সব মসজিদেই সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। কারণ পুরো হারাম এলাকা বরকতময়। তবে কাবার কাছাকাছি নামাজ পড়া এবং বৃহৎ জামাতে অংশগ্রহণ করা আরও উত্তম ও ফজিলত পূর্ণ।

৩৭. প্রশ্ন: রোজাদারের জন্য দোয়ার উত্তম সময় কখন ইফতারের সময়, মাগরিবের পর নাকি আজানের আগে?
শাইখ: রোজাদারকে ইফতারের আগে, পরে এবং সারা দিনই দোয়া করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রোজা অবস্থায়, ইফতারের মুহূর্তে ও সেহরির সময় দোয়া করা সুন্নত এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৩৮. প্রশ্ন: ইতেকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা কত?
শাইখ: এর কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই—না এক দিন, না এক রাত, না এক ঘণ্টা। যে যতটুকু পারবে, সে ততটুকু ইতেকাফ করতে পারে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিংবা কুরআনেও এর কোনও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি।

৩৯. প্রশ্ন: যদি কোনও নারী সফরে থাকা অবস্থায় ফরজ নামাজ গাড়িতে পড়ে। কারণ তার স্বামী গাড়ি থামাতে রাজি হয়নি তাহলে কি তার নামাজ শুদ্ধ হবে?
শাইখ: যদি সে সময়ের মধ্যে নামাজ আদায় করতে না পারে এবং তার স্বামী তাকে গাড়ি থামানোর অনুমতি না দেয় তাহলে সে গাড়িতেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে পারে। সে কোনোভাবেই নামাজ কাজা করবে না।

৪০. প্রশ্ন: তাহলে কি সে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে?
শাইখ: যদি সে সফরে থাকে তাহলে ফরজ নামাজের জন্য অবশ্যই গাড়ি থেকে নেমে মাটিতে দাঁড়িয়ে পড়তে হবে। কেননা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে ফরজ নামাজের জন্য বাহন থামিয়ে নামাজ আদায় করতেন। বাহনের ওপর কেবল নফল নামাজই আদায় করা যায়।

৪১. প্রশ্ন: তাহলে তার নামাজ কি শুদ্ধ হয়নি?
শাইখ: ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে সে শুদ্ধভাবে আদায় করেনি যদি না সময় পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। (অর্থাৎ সালাতের সময় পার হওয়ার আশঙ্কা থাকলে গাড়িতেই পড়বে। তা নাহলে গাড়িতে ফরজ সালাত পড়া ঠিক নয়)।

❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-৬

৪২. প্রশ্ন: রমজানে ঠাট্টা-মশকরা করার ক্ষেত্রে সীমা কী?
শাইখ: মজার ক্ষেত্রেও বৈধ ও নিষিদ্ধ বিষয় রয়েছে। “রাফাস” বলতে স্ত্রী সহবাস এবং অশ্লীল কথা বোঝায়, আর “ফুসুক” হলো যাবতীয় পাপাচার। তাই ঠাট্টা-মশকরার নামে এসব করলে তা হারাম হবে।

৪৩. প্রশ্ন: ‘অনর্থক কথা বলা’র বিষয়ে কী বিধান?
শাইখ: এটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। যদি হালকা কথা হয় এবং তা সত্য হয় তবে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বেশি হাসিঠাট্টা ও অনর্থক কথা বলা অপছন্দনীয়।

৪৪. প্রশ্ন: দোয়ায় বাড়াবাড়ির সংজ্ঞা কী?
শাইখ: দোয়ায় এমন কিছু চাওয়া যা হারাম বা অন্যায় সেটাই বাড়াবাড়ি। যেমন: রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
ما من مسلمٍ يدعو بدعوةٍ ليس فيها إثمٌ ، ولا قطيعةُ رَحِمٍ
“যদি কোনও মুসলিম দোয়া করে, যাতে গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কিছু না থাকে তবে আল্লাহ তা কবুল করেন।” [সহিহুত তারগিব, হা/১৬৩৩] যদি দোয়ায় হারাম বা আত্মীয় বিচ্ছেদের কোনও বিষয় থাকে তাহলে তা বাড়াবাড়ির মধ্যে পড়ে।

৪৪. প্রশ্ন: রমজানে মিসওয়াক করার বিধান কী?
শাইখ: এতে কোনও সমস্যা নেই বরং এটি সুন্নত।

৪৬. প্রশ্ন: মিসওয়াক দিনের যে কোনও সময়ে করা যাবে?
শাইখ: হ্যাঁ, দিনের শুরুতে বা শেষে যখনই হোক। এতে সমস্যা নেই। কেননা, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

لَوْلَا أنْ أشُقَّ علَى أُمَّتي أوْ علَى النَّاسِ لَأَمَرْتُهُمْ بالسِّوَاكِ مع كُلِّ صَلَاةٍ

“আমার উম্মতের ওপর কষ্ট না হলে, আমি তাদের প্রতিটি নামাজের আগে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।” [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

৪৭. প্রশ্ন: তাহলে ফজর, আসর, মাগরিব ও এশার সময়ও মিসওয়াক করা যাবে?
শাইখ: হ্যাঁ, রমজান হোক বা অন্য যে কোনও সময়, দিনের সব নামাজের জন্য এটি প্রযোজ্য।

৪৮. প্রশ্ন: কেউ যদি এক বছর ছয় মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে ওমরাহ করতে চায় তাহলে শিশুর জন্য ইহরাম বাঁধতে হবে?
শাইখ: না, এটি আবশ্যক নয়। তবে কেউ চাইলে তার পক্ষ থেকে নিয়ত করতে পারে। যদি ইহরাম বাঁধায় তাহলে তার জন্য সেলাইবিহীন পোশাক পরানো হবে, মাথা খোলা রাখা হবে (যদি ছেলে হয়), আর মেয়ে হলে সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত রাখা হবে। তবে কেউ না করলেও কোনও সমস্যা নেই। কারণ এটি আবশ্যক নয়। কিছু মানুষ শিশুর জন্য ওমরাহর নিয়ম সঠিকভাবে পালন করতে পারে না, তাই তাদের জন্য এটি না করাই উত্তম।

প্রশ্নোত্তর: পর্ব-৭

৪৯. প্রশ্ন: “ذهب الظمأ، وابتلت العروق، وثبت الأجر إن شاء الله” (“যাহাবায যামাউ….” দোয়াটি ইফতারের সময় পড়তে হবে নাকি ইফতার শেষ হওয়ার পর?
শাইখ: যখন ইফতার করবে তখনই এই দোয়াটি পড়বে, যেন এটি বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায়।

৫০. প্রশ্ন: অর্থাৎ ইফতার করা মাত্রই পড়তে হবে?
শাইখ: হ্যাঁ। এটি সুন্নত।

প্রশ্ন: যে হাদিসে দুই নারীর গিবতের কারণে তাদের রোজা ভঙ্গ হওয়ার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সেটি কি সহিহ?
শাইখ: এ হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহ আছে। এতে নাকারাহ (অস্বাভাবিকতা) রয়েছে এবং সনদ যাচাই করা প্রয়োজন।

৫১. প্রশ্ন: ইবনে রজব রহ. তাঁর হাশিয়াতে একে দুর্বল বলেছেন, তাই কি?
শাইখ: হ্যাঁ, এটি অগ্রহণযোগ্য এবং সম্ভবত এটি সহিহ নয়।

৫২. প্রশ্ন: তারাবির নামাজে ইমাম যখন ফাতিহা পড়ে শেষ করেন তখন কি মুক্তাদিদেরও ফাতিহা পড়তে হবে। নাকি শুধু শুনবে?
শাইখ: মুক্তাদিদের সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। কারণ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لعلَّكم تَقْرَءُون خلف إِمَامِكُم
“তোমরা কি তোমাদের ইমামের পেছনে কুরআন পাঠ করো?”
আমরা বললাম: হ্যাঁ।
তিনি বললেন:
لا تفعلوا إلا بفاتحة الكتاب فإنه لا صلاة لِمَنْ لم يَقْرَأ بها

“তোমরা এটা করো না শুধুমাত্র ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) ব্যতীত। কারণ যে এটি পড়ে না তার নামাজ হয় না।” [আহমদ, আবুদাউদ, তিরমিজি-হাসান]
সুতরাং মু্ক্তাদি ফাতিহা পড়বে। তারপর চুপ থাকবে।

৫৩. প্রশ্ন: মুক্তাদি কি সূরা ফাতিহা পড়বে যদিও ইমাম তখন অন্য সূরা পড়ছেন?
শাইখ: হ্যাঁ, ফাতিহা পড়ে নিবে। তারপর ইমামের কিরাত শুনবে। এটা আগে হোক বা পরে তাতে কোনও সমস্যা নেই।

৫৪. প্রশ্ন: যদি আইয়ামে বীয-এর দিনগুলো (১৩, ১৪, ১৫ তারিখ) জুমা বা শনিবারের দিনে পড়ে তখন কি সেগুলো রাখা অপছন্দনীয় হবে?
শাইখ: না, এতে কোনও সমস্যা নেই। তবে এককভাবে শুক্রবার রোজা রাখা উচিত নয়। বরং তার সঙ্গে বৃহস্পতিবার বা শনিবার যুক্ত করে রাখতে হবে। আর যে হাদিসে শনিবারে রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে, সেটি দুর্বল হাদিস। সুতরাং যদি কেউ শুক্রবারের সঙ্গে শনিবার সংযুক্ত করে রাখে তবে কোনও সমস্যা নেই।

▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬

অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

সূর্যের হিসাব বা সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী রমজানের রোজা শুরু করা যাবে কি

 প্রশ্ন: সূর্যের হিসাব বা সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী রমজানের রোজা শুরু করা যাবে কি?

উত্তর: না, সূর্যের হিসাব বা সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী রোজা শুরু করা যাবে না। ইসলামে রমজানের রোজা শুরু ও শেষ নির্ধারণ করা হয় চাঁদ (হিজরি মাসের নতুন চাঁদ) দেখার মাধ্যমে।
সুতরাং সূর্যের হিসাব বা শুধুমাত্র সৌর ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করে রোজা রাখা শরিয়ত সম্মত নয়।

◈ আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُۖ

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস (রমজান) পাবে, সে যেন এতে রোজা রাখে।” [সূরা বাকারা :১৮৫]

এখানে “الشَّهْرَ” (মাস) বলতে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে নির্ধারিত মাসকেই বোঝানো হয়েছে।

◈ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلَاثِينَ

“তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো। যদি চাঁদ না দেখতে পাও, তাহলে ৩০ দিন পূর্ণ করো।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০৮১; সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৯]

◈ অন্য হাদিসে এসেছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

لا تقدَّموا الشَّهرَ حتَّى تُكمِلوا العدَّةَ ، أو تروا الهلالَ ، ثمَّ صوموا ولا تُفطِروا حتَّى تروا الهلالَ أو تُكملوا العدَّةَ ثلاثينَ

“তোমরা রমজান মাসের চাঁদ না দেখার পূর্বে কিংবা শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে রমজানের রোজা পালন করবে না। এরপর তোমরা রমজানের রোজা পালন করতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখবে কিংবা তার পূর্বেই রমজান মাস ত্রিশ দিন হবে।” [সহিহ সুনান আন-নাসায়ী, হা/ ২১২৬, সহীহ আবু দাউদ ২০১৫, ইরউয়াউল গালীল৪/৮]

এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে চাঁদ দেখেই রোজা শুরু করতে হবে; সূর্যের হিসাব অনুযায়ী নয়।

❂ তাহলে সূর্যের সময় গণনা কি কাজে লাগে?

রোজার সময় নির্ধারণ করতে ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত রোজার সময় নির্ধারণ করা হয় সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার হিসাব অনুযায়ী। রমজান মাসের শুরু বা শেষ নির্ধারণ করতে নয়। কারণ রমজানের শুরু নির্ভর করে চাঁদ দেখার ওপর; সূর্যের ওপর নয়।
◆ মোটকথা:
– শুধু সূর্যের হিসাব দেখে রোজা শুরু করা যাবে না।
– রমজানের শুরু ও শেষ নির্ধারণ করতে হবে চাঁদ দেখার মাধ্যমে অথবা যদি চাঁদ দেখা সম্ভব না হয়, তবে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করতে হবে।
– সূর্যের সময় গণনা শুধু সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়; মাসের শুরু ও শেষ নির্ধারণের জন্য নয়। আল্লাহু আলাম।▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ডাকাতদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তাদেরকে হত্যা করার বিধান

 ▪️ ফতোয়া-১:

প্রশ্ন: যদি আমি কোথাও সফর করি এবং সেখানে শত্রুদের দেখি, যারা পথ অবরোধ করে সম্পদ লুণ্ঠন করছে, আমি কি তাদেরকে আমার সম্পদ দিয়ে দেব, নাকি তাদের সাথে লড়াই করব? আর যদি আমি তাদের হত্যা করি বা তারা আমাকে হত্যা করে তাহলে ইসলামের বিধান কী?
উত্তর: রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল:
يا رسول الله، يأتيني الرجل يريد مالي؟ قال: لا تعطه مالك، قال: فإن قاتلني؟ قال: قاتله. قال: فإن قتلته؟ قال: فهو في النار. قال: فإن قتلني؟ قال: فأنت شهيد
“হে আল্লাহর রসুল, যদি কোনও ব্যক্তি আমার সম্পদ নেওয়ার জন্য আসে?” তিনি বললেন: “তাকে তোমার সম্পদ দিও না।” লোকটি বলল: “যদি সে আমার সাথে লড়াই করে?” তিনি বললেন: “তুমিও তার সাথে লড়াই করো।” লোকটি বলল: “যদি আমি তাকে হত্যা করি?”
তিনি বললেন: “সে জাহান্নামে যাবে।” লোকটি বলল: “যদি সে আমাকে হত্যা করে?”
তিনি বললেন: “তুমি শাহিদ হবে।” [মুসলিম, সহিহ]।

সুতরাং তোমার এখতিয়ার আছে। যদি লড়াই ছাড়া তাকে প্রতিহত করা সম্ভব না হয় তাহলে তুমিও তার সাথে লড়াই করতে পারো। কিন্তু তাকে তোমার সম্পদ দেবে না।

তবে যদি তুমি তোমার প্রাণ বাঁচানোর জন্য তোমার সম্পদের কিছু অংশ দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করতে চাও তাহলেও কোনও সমস্যা নেই। কারণ প্রাণ সম্পদের চেয়ে মূল্যবান।

কিন্তু যদি তুমি লড়াই করো তাহলেও কোনও সমস্যা নেই।

আর যদি তুমি তাকে হত্যা করো তাহলে সে জাহান্নামে যাবে (আল্লাহর আশ্রয় চাই) এবং তার রক্ত বৃথা যাবে [অর্থাৎ এর জন্য তোমার উপরে কিসাস (হত্যার বদলে হত্যার বিধান) বাস্তবায়িত হবে না]।

আর যদি সে তোমাকে হত্যা করে তাহলে তুমি শাহিদ হবে। কারণ তুমি অত্যাচারিত হয়েছো।

যদি তুমি তোমার সম্পদের কিছু অংশ দিয়ে তাকে শান্ত করতে পারো এবং পরে কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিষয়ে অভিযোগ করো তাহলেও কোনও সমস্যা নেই।

অর্থাৎ তোমাকে লড়াই করতে বাধ্য করা হয়নি। যদি তুমি লড়াই করো তাহলে কোনও সমস্যা নেই। আর যদি তুমি তাকে ছেড়ে দাও এবং তার খারাপ ইচ্ছা মেটানোর জন্য তাকে কিছু দিয়ে নিজের প্রাণ ও রক্ত বাঁচাও তাহলেও কোনও সমস্যা নেই। পরে তুমি তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারো।” [আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রহ.]

▪️ ফতোয়া-২:

ইসলাম ওয়েব-এর ফতোয়া:

ডাকাত এবং অশান্তি-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বা লুটতরাজকারীরা (মুহারিব) যদি তারা আত্মসমর্পণ না করে এবং অস্ত্রের সাহায্যে লড়াই করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং প্রয়োজনে তাদের সবাইকে হত্যা করা জায়েজ এ বিষয়ে কোনও মতবিরোধ নেই। এছাড়াও যারা তাদের সাহায্য করে, আশ্রয় দেয় বা তাদের পক্ষে সমর্থন যোগায় তাদের বিরুদ্ধেও লড়াই করা জায়েজ। তাদের মধ্যে যাকে হত্যা করা হবে তার রক্ত বৃথা যাবে (অর্থাৎ তার জন্য কোনও কিসাস বা হত্যার বিনিময়ে হত্যার বিধান প্রয়োগ করা হবে না)। আর যদি তারা কাউকে হত্যা করে, তাহলে সে শহিদ হবে।

– শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন:

“মুসলিমরা এই বিষয়ে একমত যে, ডাকাতের বিরুদ্ধে লড়াই করা জায়েজ।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
منْ قُتِل دُونَ مالِهِ فهُو شَهيدٌ
“যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার জন্য লড়াই করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহিদ।” [আবু দাউদ, তিরমিজি, ‌সহিহ]

সুতরাং ডাকাতরা যদি কোনও নিরপরাধ ব্যক্তির সম্পদ দাবি করে তাহলে ইমামদের ঐকমত্য অনুযায়ী সেই ব্যক্তির জন্য তাদের কিছু দেওয়া আবশ্যক নয়। বরং সে সহজ উপায়ে তাদের প্রতিরোধ করবে।

যদি সহজ উপায়ে তাদের প্রতিরোধ করা সম্ভব না হয় এবং লড়াই ছাড়া কোনও বিকল্প না থাকে তাহলে সে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। যদি সে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হয় তাহলে সে শহিদ হবে। আর যদি সে এই অবস্থায় তাদের কাউকে হত্যা করে তাহলে তার রক্ত বৃথা যাবে। (অর্থাৎ তার ওপরে হত্যার শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না) (শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য সমাপ্ত)।

▪️ ফতোয়া-৩:

আল্লামা শাইখ সালেহ আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)

প্রশ্ন: সম্মানিত শাইখ (আল্লাহ আপনাকে তৌফিক দান করুন), যদি কোনও মুসলিম চোর বা ডাকাতের সম্মুখীন হয়, যে তার সম্পদ লুটে নিতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তাকে হত্যা করা কি জায়েজ?
উত্তর: সে তাকে প্রতিহত করতে প্রথমে সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করবে। যদি সহজ পদ্ধতিতে আক্রমণকারীকে প্রতিহত করা সম্ভব না হয় এবং তাকে হত্যা করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় না থাকে তাহলে হত্যা করা জায়েজ।” (শাইখের ভিডিও থেকে অনুবাদ)

✅ সারসংক্ষেপ:

১. সম্পদ ও জীবন রক্ষার জন্য লড়াই করা জায়েজ।
২. প্রথমে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
৩. যদি লড়াই করা ছাড়া কোনও উপায় না থাকে তাহলে লড়াই করা জায়েজ।
৪. যদি আক্রমণকারীকে হত্যা করা হয় তাহলে তার রক্ত বৃথা যাবে। (অর্থাৎ আদালতে তার উপরে হত্যার সাজা কার্যকর হবে না)
৫. যদি প্রতিরোধকারী নিহত হয় তাহলে সে শহিদ হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আধুনিক যুগে সিসি ক্যামেরা কিংবা মোবাইল ক্যামেরা বা অন্য কোন মাধ্যমে অপরাধীর অপরাধের প্রমাণ রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করার উচিত। এটি পরবর্তীতে আইন-আদালতে অপরাধ প্রমাণে সাহায্য করবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

ইসলামি শরিয়তের আলোকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বিধান

 নিম্নে নিম্নে প্রথমে ক্রেডিট কার্ড-এর পরিচয়, অতঃপর কুরআন, সুন্নাহ এবং বিজ্ঞ আলেমদের ফতোয়ার আলোকে এর ব্যবহার বিধি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

❑ ১. ক্রেডিট কার্ড কী?

ক্রেডিট কার্ড হলো, একটি আর্থিক সরঞ্জাম, যা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রদত্ত হয়। এটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন এবং পরে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। যদি ব্যবহারকারী সময়মত পরিশোধ না করেন তাহলে সুদ (ইন্টারেস্ট) প্রদান করতে হয়।

অন্য কথায়, ক্রেডিট কার্ড মূলত ঋণ গ্রহণের কার্ড। কার্ড ইস্যু কারী ব্যাংক তার গ্রাহককে এ কার্ডের মাধ্যমে একটি নির্ধারিত পরিমাণ ঋণ গ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এরপর এ কার্ডধারী বিভিন্ন দোকান থেকে এই কার্ডের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করতে পারে। যার মূল্য কার্ডধারীর ব্যাংক পরিশোধ করে থাকে। এখানে শরিয়তের দৃষ্টিতে কার্ডধারী হলো ঋণ গ্রহীতা। আর কার্ড ইস্যু কারী ব্যাংক হলো ঋণদাতা।

❑ ২. ইসলামে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বিধান:

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নাকি হারাম তা নির্ভর করে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারের উদ্দেশ্য, শর্তাবলি এবং এর সাথে জড়িত লেনদেনের প্রকৃতির উপর।

❑ ৩. ক্রেডিট কার্ডের বাস্তবতা ও সমস্যা:

ক্রেডিট কার্ড এমন একটি লেনদেন ব্যবস্থা যেখানে সাধারণত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান একজন গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে দেয়, যা পরবর্তীতে ফেরত দিতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করা হয়, তাহলে সুদ (ইন্টারেস্ট) গুনতে হয়। যেমনটি আমরা এর সংজ্ঞা থেকে জেনেছি।

মূল সমস্যা:

◆ অধিকাংশ ক্রেডিট কার্ড চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে সুদ (রিবা) দিতে হবে।
◆ যদিও কেউ সময়মত পরিশোধ করে তবুও সে একটি সুদ ভিত্তিক চুক্তিতে প্রবেশ করছে যা ইসলামে নিষিদ্ধ।

❑. ৪. ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ব্যাপারে সৌদি আরবের গবেষণা-ফতোয়ার স্থায়ী বোর্ডের ফতোয়া:

সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী বোর্ড (আল-লাজনাতুত দায়িমা লিল বুহুসিল ইলমিয়্যা ওয়াল ইফতা) তাদের এক ফতোয়ায় লিখেছে, (প্রশ্ন ছিল, মিনিমাম ডিউ-এর আগে বিল পরিশোধ করে দিলে কোনও ফি নেই আর না হয় অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে হয়)

إذا كان حال بطاقة (سامبا فيزا) كما ذكر فهو إصدار جديد من أعمال المرابين، وأكل لأموال الناس بالباطل، وتأثيمهم وتلويث مكاسبهم وتعاملهم، وهو لا يخرج عن حكم ربا الجاهلية المحرم في الشرع المطهر (إما أن تقضي، وإما أن تربي)؛ لهذا فلا يجوز إصدار هذه البطاقة ولا التعامل بها.
وبالله التوفيق، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم

‘বিষয়টি বাস্তবে এমনি হয়ে থাকলে সেটা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাসের নামান্তর। এটি জাহেলি রিবা যা শরিয়তে হারামের অধীনে পড়ে যায়। জাহেলি রিবা হলো, এখন আদায় করো। নতুবা অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে সময় নাও। সুতরাং এ ধরনের ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা বা ব্যবহার করা জায়েজ নয়। আল্লাহ তৌফিক দানকারী। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের প্রতি আল্লাহর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

ওই ফতোয়ায় যারা সম্মতি প্রকাশ করেছেন তারা হলেন সদস্য: বকর আবু যায়েদ, আবদুল আজিজ আলে শাইখ, সালেহ ফাওজান, আবদুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান। প্রধান: আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বাজ (রহ.)। [ফাতাওয়া লাজনাতুত দায়িমা, প্রকাশ: চতুর্থ প্রকাশ, ২০০২ইং, ফতোয়া নং ১৭৬১১]

– এ বিষয়ে তাদের আরেকটি ফতোয়া:

প্রশ্নকারী বলেন: পশ্চিমা দেশগুলোতে আর্থিক লেনদেন সহজ করার জন্য কিছু কার্ড রয়েছে, যা একজন ব্যক্তিকে নগদ অর্থ বহন করার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত রাখে। এই কার্ডের মাধ্যমে তিনি যে কোনও কিছু ক্রয় করতে পারেন, এবং মাসের শেষে তার খরচের হিসাবসংবলিত একটি বিল আসে, যা তিনি সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করেন এতে কোনও সুদ (রিবা) সংযুক্ত থাকে না। এই পদ্ধতি একজন ব্যক্তির অর্থ চুরির ঝুঁকি থেকে তাকে রক্ষা করে। তবে এই কার্ড পাওয়ার শর্ত হলো: যদি বিল পরিশোধে ২৫ দিনের বেশি দেরি হয়, তাহলে প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট হারে সুদ আদায় করা হবে। সেক্ষেত্রে, যদি কেউ এই কার্ড নেয় এবং নির্ধারিত ২৫ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ করে, তাহলে সে সুদের ফাঁদে পড়বে না। তাহলে কি এই কার্ড গ্রহণ করা বৈধ?

উত্তর:

إذا كان الواقع كما ذكر فلا يجوز التعامل المذكور؛ لما فيه من التعاقد على الربا والدخول عليه باشتراط فوائد تدفع زيادة على المبلغ الذي سدده عنه معطي البطاقة في حالة التأخير.
وبالله التوفيق، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم

যদি বাস্তব পরিস্থিতি এমন হয়, তবে এই কার্ড গ্রহণ করা বৈধ নয়। কারণ এটি একটি সুদ-সংযুক্ত চুক্তি, যেখানে দেরিতে পরিশোধের শর্ত হিসেবে সুদ নির্ধারিত রয়েছে। যদিও কেউ ২৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবুও মূল চুক্তিটিই সুদের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়ায় এটি গ্রহণ করা অনুমোদিত নয়।

আল্লাহ তৌফিক দানকারী। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের প্রতি আল্লাহর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক। [সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী বোর্ড]

আন্তর্জাতিক ইসলামিক ফিকহ একাডেমি সহ বিশ্বের প্রায় সকল ফতোয়া বোর্ড সুদ যুক্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার হারাম হওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া প্রদান করেছেন।

❑ ৫. ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মূলনীতি:

◆ যদি কোনও কার্ড এমন হয় যেখানে সুদ প্রদানের বাধ্যবাধকতা নেই তাহলে তা ব্যবহার করা বৈধ। কিন্তু সাধারণত প্রচলিত ব্যাংকিং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সুদ প্রদানের শর্ত থাকে যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

◆ তাই সুদের শর্তযুক্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা বৈধ নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এতে সুদের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। মনে রাখা আবশ্যক যে, ইসলামে সুদ হারাম এবং কবিরা গুনাহ। দুনিয়া ও আখিরাতে এর পরিণতি অত্যন্ত খারাপ।

❑ ৬. ইসলামে সুদের ভয়াবহতা:

ইসলামে সুদ (রিবা) আদান-প্রদান করা হারাম ও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কুরআন-হাদিসে এ ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। যেমন:

❖ মহান আল্লাহ বলেন,

اَلَّذِیۡنَ یَاۡكُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا كَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُهُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمۡ قَالُوۡۤا اِنَّمَا الۡبَیۡعُ مِثۡلُ الرِّبٰوا ۘ وَ اَحَلَّ اللّٰهُ الۡبَیۡعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا ؕ

“যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, বেচা-কেনা সুদের মতই। অথচ আল্লাহ বেচা-কেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।” [সূরা বাকারা: ২৭৫]

❖ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ ٱلرِّبَوٰٓاْ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ – فَإِن لَّمۡ تَفۡعَلُواْ فَأۡذَنُواْ بِحَرۡبٖ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۖ وَإِن تُبۡتُمۡ فَلَكُمۡ رُءُوسُ أَمۡوَٰلِكُمۡ لَا تَظۡلِمُونَ وَلَا تُظۡلَمُونَ

“হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর তাকাওয়া অবলম্বন কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা পরিত্যাগ কর যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর যদি তোমরা তা না কর, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শোন” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৮-২৭৯]”

❖ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

لَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ

“আল্লাহ সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, এর লেখক এবং এর সাক্ষী— সবার ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।” [সহিহ মুসলিম, ১৫৯৮]

❑ ৭. ক্রেডিট কার্ড-এর বিকল্প ব্যবস্থা:

→ ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কিছু ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড বা “শরিয়াহ কমপ্লায়েন্ট” কার্ড রয়েছে, যেখানে সুদের ঝুঁকি নেই।
→ সরাসরি ডেবিট কার্ড বা প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে সুদের লেনদেনের ঝুঁকি থাকে না।

পরিশেষে বলবো, প্রচলিত সুদ ভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হারাম। কারণ এটি রিবা (সুদ) ভিত্তিক লেনদেনের শর্ত বহন করে।
☞ শুধুমাত্র এমন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা বৈধ যেখানে সুদের কোনও শর্ত নেই এবং ইসলামি ব্যাংকিং নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
☞ উত্তম হয়, যদি আমরা বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করি, যেমন: ডেবিট কার্ড, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড বা নগদ লেনদেন।

والله أعلم بالصواب

▬▬▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

Translate