ও মদিনার মাটিরে ....
ভালোবাসি ইসলাম ধর্ম
ইসলাম শান্তির ধর্ম
Sunday, March 23, 2025
ও মদিনার মাটিরে ....
Sunday, March 2, 2025
আল্লামা বিন বায কর্তৃক প্রদত্ব ছোট ছোট প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর
আল্লামা বিন বায রাহ. কর্তৃক প্রদত্ব ছোট ছোট প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর (৫৪টি)
আল্লামা ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায রাহ. রমজান, সিয়াম, তারাবিহ, কিয়ামুল্লায়, ইতিকাফ, সফর, কুরআন তিলাওয়াত, দুআ, উমরা ইত্যা বিষয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত চমৎকার কিছু প্রশ্নোত্তর যেগুলো তিনি ‘ওয়াযায়েফে রমজান’ শীর্ষক কিতাবের ব্যাখ্যা কালীন তাঁর ছাত্রদের পক্ষ থেকে প্রদত্ব বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন।
নিম্নে পাঠকদের উপকার হবে এ আশায় মূল ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে সেখান থেকে কেবল সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরগুলোর অনুবাদ পেশ করা হলো। আল্লাহ তওফিক দাতা।
মোট ৭টি পর্বে ৫৪টি প্রশ্নোত্তর পেশ করা হয়েছে।
❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-১
❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-২
২০. প্রশ্ন: ইউরোপে অনেক মানুষ রমজানে রোজা রাখে। কিন্তু তারা নামাজ পড়ে না। আসলে তারা নামাজ না পড়তে চায় না। বরং তারা নামাজ সম্পর্কে জানেই না। এ অবস্থায় কী করণীয়?
শাইখ: অভিযোগ শুধু আল্লাহর দরবারে! তাদের অবশ্যই শিখতে হবে। কারণ নামাজ সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যে নামাজ পড়ে না সে কাফির হয়ে যায়—আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। তাদের অবশ্যই শিক্ষা দিতে হবে এবং সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। দাঈদের (দাওয়াত প্রদানকারীদের) উচিত, তাদের সঠিক জ্ঞান দেওয়া এবং সত্যের পথে আহ্বান করা।
❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-৩
❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-৪
إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إلى طَعَامٍ، وَهو صَائِمٌ، فَلْيَقُلْ: إنِّي صَائِمٌ
“যখন তোমাদের কেউ আহারে আমন্ত্রিত হয় এবং সে রোজাদার থাকে, সে যেন বলে: ‘আমি রোজাদার।'” [সহিহু মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১১৫০] এতে কোনও সমস্যা নেই।
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
“যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করে, সে দশগুণ প্রতিদান পাবে। আর যে পাপ করে তাকে কেবল তার সমপরিমাণ শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনও জুলুম করা হবে না।” [সূরা আনআম: ১৬০]
❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-৫
❑ প্রশ্নোত্তর: পর্ব-৬
لَوْلَا أنْ أشُقَّ علَى أُمَّتي أوْ علَى النَّاسِ لَأَمَرْتُهُمْ بالسِّوَاكِ مع كُلِّ صَلَاةٍ
“আমার উম্মতের ওপর কষ্ট না হলে, আমি তাদের প্রতিটি নামাজের আগে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।” [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]
প্রশ্নোত্তর: পর্ব-৭
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
সূর্যের হিসাব বা সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী রমজানের রোজা শুরু করা যাবে কি
প্রশ্ন: সূর্যের হিসাব বা সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী রমজানের রোজা শুরু করা যাবে কি?
◈ আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُۖ
“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস (রমজান) পাবে, সে যেন এতে রোজা রাখে।” [সূরা বাকারা :১৮৫]
এখানে “الشَّهْرَ” (মাস) বলতে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে নির্ধারিত মাসকেই বোঝানো হয়েছে।
◈ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلَاثِينَ
“তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো। যদি চাঁদ না দেখতে পাও, তাহলে ৩০ দিন পূর্ণ করো।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০৮১; সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৯]
◈ অন্য হাদিসে এসেছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لا تقدَّموا الشَّهرَ حتَّى تُكمِلوا العدَّةَ ، أو تروا الهلالَ ، ثمَّ صوموا ولا تُفطِروا حتَّى تروا الهلالَ أو تُكملوا العدَّةَ ثلاثينَ
“তোমরা রমজান মাসের চাঁদ না দেখার পূর্বে কিংবা শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে রমজানের রোজা পালন করবে না। এরপর তোমরা রমজানের রোজা পালন করতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখবে কিংবা তার পূর্বেই রমজান মাস ত্রিশ দিন হবে।” [সহিহ সুনান আন-নাসায়ী, হা/ ২১২৬, সহীহ আবু দাউদ ২০১৫, ইরউয়াউল গালীল৪/৮]
এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে চাঁদ দেখেই রোজা শুরু করতে হবে; সূর্যের হিসাব অনুযায়ী নয়।
❂ তাহলে সূর্যের সময় গণনা কি কাজে লাগে?
ডাকাতদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তাদেরকে হত্যা করার বিধান
▪️ ফতোয়া-১:
সুতরাং তোমার এখতিয়ার আছে। যদি লড়াই ছাড়া তাকে প্রতিহত করা সম্ভব না হয় তাহলে তুমিও তার সাথে লড়াই করতে পারো। কিন্তু তাকে তোমার সম্পদ দেবে না।
তবে যদি তুমি তোমার প্রাণ বাঁচানোর জন্য তোমার সম্পদের কিছু অংশ দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করতে চাও তাহলেও কোনও সমস্যা নেই। কারণ প্রাণ সম্পদের চেয়ে মূল্যবান।
কিন্তু যদি তুমি লড়াই করো তাহলেও কোনও সমস্যা নেই।
আর যদি তুমি তাকে হত্যা করো তাহলে সে জাহান্নামে যাবে (আল্লাহর আশ্রয় চাই) এবং তার রক্ত বৃথা যাবে [অর্থাৎ এর জন্য তোমার উপরে কিসাস (হত্যার বদলে হত্যার বিধান) বাস্তবায়িত হবে না]।
আর যদি সে তোমাকে হত্যা করে তাহলে তুমি শাহিদ হবে। কারণ তুমি অত্যাচারিত হয়েছো।
যদি তুমি তোমার সম্পদের কিছু অংশ দিয়ে তাকে শান্ত করতে পারো এবং পরে কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিষয়ে অভিযোগ করো তাহলেও কোনও সমস্যা নেই।
অর্থাৎ তোমাকে লড়াই করতে বাধ্য করা হয়নি। যদি তুমি লড়াই করো তাহলে কোনও সমস্যা নেই। আর যদি তুমি তাকে ছেড়ে দাও এবং তার খারাপ ইচ্ছা মেটানোর জন্য তাকে কিছু দিয়ে নিজের প্রাণ ও রক্ত বাঁচাও তাহলেও কোনও সমস্যা নেই। পরে তুমি তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারো।” [আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায রহ.]
▪️ ফতোয়া-২:
ইসলাম ওয়েব-এর ফতোয়া:
ডাকাত এবং অশান্তি-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বা লুটতরাজকারীরা (মুহারিব) যদি তারা আত্মসমর্পণ না করে এবং অস্ত্রের সাহায্যে লড়াই করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং প্রয়োজনে তাদের সবাইকে হত্যা করা জায়েজ এ বিষয়ে কোনও মতবিরোধ নেই। এছাড়াও যারা তাদের সাহায্য করে, আশ্রয় দেয় বা তাদের পক্ষে সমর্থন যোগায় তাদের বিরুদ্ধেও লড়াই করা জায়েজ। তাদের মধ্যে যাকে হত্যা করা হবে তার রক্ত বৃথা যাবে (অর্থাৎ তার জন্য কোনও কিসাস বা হত্যার বিনিময়ে হত্যার বিধান প্রয়োগ করা হবে না)। আর যদি তারা কাউকে হত্যা করে, তাহলে সে শহিদ হবে।
– শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন:
সুতরাং ডাকাতরা যদি কোনও নিরপরাধ ব্যক্তির সম্পদ দাবি করে তাহলে ইমামদের ঐকমত্য অনুযায়ী সেই ব্যক্তির জন্য তাদের কিছু দেওয়া আবশ্যক নয়। বরং সে সহজ উপায়ে তাদের প্রতিরোধ করবে।
যদি সহজ উপায়ে তাদের প্রতিরোধ করা সম্ভব না হয় এবং লড়াই ছাড়া কোনও বিকল্প না থাকে তাহলে সে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। যদি সে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হয় তাহলে সে শহিদ হবে। আর যদি সে এই অবস্থায় তাদের কাউকে হত্যা করে তাহলে তার রক্ত বৃথা যাবে। (অর্থাৎ তার ওপরে হত্যার শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না) (শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য সমাপ্ত)।
▪️ ফতোয়া-৩:
আল্লামা শাইখ সালেহ আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)
✅ সারসংক্ষেপ:
ইসলামি শরিয়তের আলোকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বিধান
নিম্নে নিম্নে প্রথমে ক্রেডিট কার্ড-এর পরিচয়, অতঃপর কুরআন, সুন্নাহ এবং বিজ্ঞ আলেমদের ফতোয়ার আলোকে এর ব্যবহার বিধি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
❑ ১. ক্রেডিট কার্ড কী?
ক্রেডিট কার্ড হলো, একটি আর্থিক সরঞ্জাম, যা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রদত্ত হয়। এটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন এবং পরে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। যদি ব্যবহারকারী সময়মত পরিশোধ না করেন তাহলে সুদ (ইন্টারেস্ট) প্রদান করতে হয়।
অন্য কথায়, ক্রেডিট কার্ড মূলত ঋণ গ্রহণের কার্ড। কার্ড ইস্যু কারী ব্যাংক তার গ্রাহককে এ কার্ডের মাধ্যমে একটি নির্ধারিত পরিমাণ ঋণ গ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এরপর এ কার্ডধারী বিভিন্ন দোকান থেকে এই কার্ডের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করতে পারে। যার মূল্য কার্ডধারীর ব্যাংক পরিশোধ করে থাকে। এখানে শরিয়তের দৃষ্টিতে কার্ডধারী হলো ঋণ গ্রহীতা। আর কার্ড ইস্যু কারী ব্যাংক হলো ঋণদাতা।
❑ ২. ইসলামে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বিধান:
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নাকি হারাম তা নির্ভর করে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারের উদ্দেশ্য, শর্তাবলি এবং এর সাথে জড়িত লেনদেনের প্রকৃতির উপর।
❑ ৩. ক্রেডিট কার্ডের বাস্তবতা ও সমস্যা:
ক্রেডিট কার্ড এমন একটি লেনদেন ব্যবস্থা যেখানে সাধারণত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান একজন গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে দেয়, যা পরবর্তীতে ফেরত দিতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করা হয়, তাহলে সুদ (ইন্টারেস্ট) গুনতে হয়। যেমনটি আমরা এর সংজ্ঞা থেকে জেনেছি।
মূল সমস্যা:
❑. ৪. ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ব্যাপারে সৌদি আরবের গবেষণা-ফতোয়ার স্থায়ী বোর্ডের ফতোয়া:
সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী বোর্ড (আল-লাজনাতুত দায়িমা লিল বুহুসিল ইলমিয়্যা ওয়াল ইফতা) তাদের এক ফতোয়ায় লিখেছে, (প্রশ্ন ছিল, মিনিমাম ডিউ-এর আগে বিল পরিশোধ করে দিলে কোনও ফি নেই আর না হয় অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে হয়)
‘বিষয়টি বাস্তবে এমনি হয়ে থাকলে সেটা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাসের নামান্তর। এটি জাহেলি রিবা যা শরিয়তে হারামের অধীনে পড়ে যায়। জাহেলি রিবা হলো, এখন আদায় করো। নতুবা অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে সময় নাও। সুতরাং এ ধরনের ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা বা ব্যবহার করা জায়েজ নয়। আল্লাহ তৌফিক দানকারী। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের প্রতি আল্লাহর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
ওই ফতোয়ায় যারা সম্মতি প্রকাশ করেছেন তারা হলেন সদস্য: বকর আবু যায়েদ, আবদুল আজিজ আলে শাইখ, সালেহ ফাওজান, আবদুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান। প্রধান: আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বাজ (রহ.)। [ফাতাওয়া লাজনাতুত দায়িমা, প্রকাশ: চতুর্থ প্রকাশ, ২০০২ইং, ফতোয়া নং ১৭৬১১]
– এ বিষয়ে তাদের আরেকটি ফতোয়া:
প্রশ্নকারী বলেন: পশ্চিমা দেশগুলোতে আর্থিক লেনদেন সহজ করার জন্য কিছু কার্ড রয়েছে, যা একজন ব্যক্তিকে নগদ অর্থ বহন করার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত রাখে। এই কার্ডের মাধ্যমে তিনি যে কোনও কিছু ক্রয় করতে পারেন, এবং মাসের শেষে তার খরচের হিসাবসংবলিত একটি বিল আসে, যা তিনি সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করেন এতে কোনও সুদ (রিবা) সংযুক্ত থাকে না। এই পদ্ধতি একজন ব্যক্তির অর্থ চুরির ঝুঁকি থেকে তাকে রক্ষা করে। তবে এই কার্ড পাওয়ার শর্ত হলো: যদি বিল পরিশোধে ২৫ দিনের বেশি দেরি হয়, তাহলে প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট হারে সুদ আদায় করা হবে। সেক্ষেত্রে, যদি কেউ এই কার্ড নেয় এবং নির্ধারিত ২৫ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ করে, তাহলে সে সুদের ফাঁদে পড়বে না। তাহলে কি এই কার্ড গ্রহণ করা বৈধ?
উত্তর:
যদি বাস্তব পরিস্থিতি এমন হয়, তবে এই কার্ড গ্রহণ করা বৈধ নয়। কারণ এটি একটি সুদ-সংযুক্ত চুক্তি, যেখানে দেরিতে পরিশোধের শর্ত হিসেবে সুদ নির্ধারিত রয়েছে। যদিও কেউ ২৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবুও মূল চুক্তিটিই সুদের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়ায় এটি গ্রহণ করা অনুমোদিত নয়।
আল্লাহ তৌফিক দানকারী। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের প্রতি আল্লাহর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক। [সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী বোর্ড]
আন্তর্জাতিক ইসলামিক ফিকহ একাডেমি সহ বিশ্বের প্রায় সকল ফতোয়া বোর্ড সুদ যুক্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার হারাম হওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া প্রদান করেছেন।
❑ ৫. ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মূলনীতি:
◆ যদি কোনও কার্ড এমন হয় যেখানে সুদ প্রদানের বাধ্যবাধকতা নেই তাহলে তা ব্যবহার করা বৈধ। কিন্তু সাধারণত প্রচলিত ব্যাংকিং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সুদ প্রদানের শর্ত থাকে যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।
◆ তাই সুদের শর্তযুক্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা বৈধ নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এতে সুদের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। মনে রাখা আবশ্যক যে, ইসলামে সুদ হারাম এবং কবিরা গুনাহ। দুনিয়া ও আখিরাতে এর পরিণতি অত্যন্ত খারাপ।
❑ ৬. ইসলামে সুদের ভয়াবহতা:
ইসলামে সুদ (রিবা) আদান-প্রদান করা হারাম ও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কুরআন-হাদিসে এ ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। যেমন:
❖ মহান আল্লাহ বলেন,
اَلَّذِیۡنَ یَاۡكُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا كَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُهُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمۡ قَالُوۡۤا اِنَّمَا الۡبَیۡعُ مِثۡلُ الرِّبٰوا ۘ وَ اَحَلَّ اللّٰهُ الۡبَیۡعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا ؕ
“যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, বেচা-কেনা সুদের মতই। অথচ আল্লাহ বেচা-কেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।” [সূরা বাকারা: ২৭৫]
❖ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ ٱلرِّبَوٰٓاْ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ – فَإِن لَّمۡ تَفۡعَلُواْ فَأۡذَنُواْ بِحَرۡبٖ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۖ وَإِن تُبۡتُمۡ فَلَكُمۡ رُءُوسُ أَمۡوَٰلِكُمۡ لَا تَظۡلِمُونَ وَلَا تُظۡلَمُونَ
“হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর তাকাওয়া অবলম্বন কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা পরিত্যাগ কর যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর যদি তোমরা তা না কর, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শোন” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৮-২৭৯]”
❖ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
“আল্লাহ সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, এর লেখক এবং এর সাক্ষী— সবার ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।” [সহিহ মুসলিম, ১৫৯৮]
❑ ৭. ক্রেডিট কার্ড-এর বিকল্প ব্যবস্থা:
والله أعلم بالصواب